শিরোনাম

ঢাকা জেলা পরিষদ যেন দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য: লুটপাট ও জমি দখলের মহোৎসব

 প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন   |   মহানগর

ঢাকা জেলা পরিষদ যেন দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য: লুটপাট ও জমি দখলের মহোৎসব

মাহফুজার রহমান : 

​বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উন্নয়নের দোহাই দিয়ে অনিয়ম, ভুয়া প্রকল্প এবং অর্থ লুটপাটের মাধ্যমে ঢাকা জেলা পরিষদ এখন ‘দুর্নীতির আখড়ায়’ পরিণত হয়েছে। শত শত একর জমি বেদখল, অর্থহীন মেগা প্রকল্প এবং সরকারি সম্পদের চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছে।

​এক নজরে অভিযোগের পাহাড়: ​৪৩৫ একর জমি বেহাত: নামমাত্র মূল্যে প্রভাবশালী মহলে লিজ দেওয়ার অভিযোগ। ​১১ বছরেও শেষ হয়নি ‘ঢাকা টাওয়ার’: ২০ তলা এই প্রকল্প ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ।  ​অবৈধ দোকান বাণিজ্য: নকশাবহির্ভূতভাবে দোকান বরাদ্দ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ।

​লুটপাটের নেপথ্যে যারা: ​জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা জেলার ৫টি উপজেলা ও রাজধানীর ২০টি সংসদীয় আসনের আওতায় থাকা প্রায় ৪৩৫ একর জমি বর্তমানে বেহাত অবস্থায় রয়েছে। কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নে নির্মিত শহীদ জিয়া অডিটোরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টারটি এখন পরিত্যক্ত এবং স্থানীয় প্রভাবশালীরা সেখানে মাছের বাজার বসিয়েছে। একইভাবে জিনজিরা ও কালিগঞ্জের বিভিন্ন মার্কেটে নকশাবহির্ভূতভাবে ৬৬টি অবৈধ দোকান বিক্রির অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

​অন্তহীন প্রতিক্ষার ‘ঢাকা টাওয়ার’ : ​সবচেয়ে বড় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিষদের নির্মাণাধীন ২০ তলাবিশিষ্ট ‘ঢাকা টাওয়ার’ প্রকল্প নিয়ে। ২০১১ সালে পুরান ঢাকার ৪৬-৪৭ জনসন রোডে এই ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিক ব্যয় ১৪৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ধরা হলেও কিস্তিতে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় তমা কনস্ট্রাকশনকে।

​২০১৫ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ১১ বছর পর আজও ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকান বরাদ্দের জন্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা জমা দিলেও ভবনের কোনো অগ্রগতি নেই। জানা গেছে, ভবনটি নকশা ছাড়াই নির্মাণ শুরু হয়েছিল এবং দুর্নীতির তথ্য গোপন করতে ভবন সংক্রান্ত সব গুরুত্বপূর্ণ নথি রহস্যজনকভাবে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।

​নতুন প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি

​ঢাকা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ জানান, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘকাল দুর্নীতির জালে বন্দি ছিল। তিনি বলেন: ​"বিগত দিনে উন্নয়নের নামে ভুয়া কাজের মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে। কমিশন বা পার্সেন্টেজ সংস্কৃতি এখন থেকে আর বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।"

​প্রশাসক আরও জানান, রাঘব-বোয়ালদের হাতে থাকা বেদখলকৃত জমি উদ্ধার এবং অসমাপ্ত ‘ঢাকা টাওয়ার’ প্রকল্পটি দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে একটি জনবান্ধব ও স্বচ্ছ জেলা পরিষদ গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

মহানগর এর আরও খবর: