শিরোনাম

রাজধানীর কদমতলীতে বিশাল উচ্ছেদ অভিযান: নিপুণ রায় ও যৌথ বাহিনীর অভিযানে দখলমুক্ত ফুটপাত

 প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন   |   মহানগর

রাজধানীর কদমতলীতে বিশাল উচ্ছেদ অভিযান: নিপুণ রায় ও যৌথ বাহিনীর অভিযানে দখলমুক্ত ফুটপাত


​মাহফুজার রহমান :  

​রাজধানীর কদমতলী ও সংলগ্ন এলাকায় জনভোগান্তি নিরসনে এক বিশাল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলদারিত্ব উচ্ছেদ করে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুগম করতে এই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরী এবং তাকে সহযোগিতা করে র‍্যাব (RAB), বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল।

​দীর্ঘদিন ধরে কদমতলী এলাকার প্রধান সড়ক ও ফুটপাতগুলো কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীর দখলে ছিল। অবৈধ দোকানপাট, টংঘর এবং যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে এই এলাকায় পায়ে হাঁটার জায়গাটুকুও অবশিষ্ট ছিল না। ফলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নামতে হতো, যা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এই যৌথ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। অভিযানে বুলডোজার ও শ্রমিকদের সহায়তায় সড়ক ও ফুটপাতের ওপর গড়ে ওঠা কয়েকশ অস্থায়ী স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

​অভিযান চলাকালে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন: ​"সড়ক ও ফুটপাত সম্পূর্ণভাবে সাধারণ জনগণের অধিকার। কিছু মানুষের ব্যক্তিস্বার্থের কাছে সাধারণ মানুষের চলাচল জিম্মি হতে পারে না। আমরা জনগণের সেবক হিসেবে আজ এই রাস্তাগুলো উন্মুক্ত করছি। কেউ যদি পুনরায় ফুটপাত দখল করে জনগণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।"

​তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, জনস্বার্থে এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে।

​অভিযান শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দখলমুক্ত হওয়া জায়গাগুলো যাতে পুনরায় দখল না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হবে। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, সড়ক ও ফুটপাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তারা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। পুনরায় দখল করার চেষ্টা করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

​উচ্ছেদ অভিযান শেষে কদমতলী এলাকার চেহারা বদলে গেছে। যাতায়াতের পথ প্রশস্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই যানজট আর হকারদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ছিলাম। আজ রাস্তাগুলো পরিষ্কার দেখে খুব ভালো লাগছে। আশা করি প্রশাসন এই তদারকি ধরে রাখবে।"

​সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কদমতলীর এই সফল অভিযান রাজধানীর যানজট নিরসন এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

মহানগর এর আরও খবর: