অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে বদলির পরে আবারো ঢাকায় প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ
শেখ ফয়সাল আহমেদ :
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে, অবৈধ অর্থের লোভে অনিয়ম দুর্নীতি কমিশন বাণিজ্য সহ নানা অপরাধী জড়িয়ে যাচ্ছেন এই অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকৌশলীরা দৃশ্যমান কোন শাস্তি মূলক ব্যবস্থা না হওয়ায় থামছে না গণপূর্ত অধিদপ্তরের অনিয়ম-দূর্নীতি।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গণপূর্ত অধিদপ্তরে গড়ে ওঠা দুর্নীতিবাজ শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা এখনো রয়েছেন সক্রিয় কারণ তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন শাস্তি হয়নি সাময়িক বদলি হলেও কিছুদিন পরে আবার ফিরে আসছেন ঢাকায় তেমনি একজন আরবিকালচার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ। ২৮ তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা গণপূর্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম কমিশন বাণিজ্য ভুয়া বিল ভাউচার করে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ অবৈধ সম্পদ অর্জন সহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা ২৮ তম বিসিএস ক্যাডারে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন বিগত ফ্যাসিবাদ সরকারের আমলে। অভিযোগ আছে কর্মজীবনের শুরুতেই জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে। মতিঝিলে গণপূর্তের দায়িত্ব থাকাকালীন সময়ে অনেক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও
ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রেক্ষিতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কখনো কোন শাস্তির আওতায় পড়েন নি।
মতিঝিল গণপূর্ত বিভাগ প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপন অমান্য করে এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে মোটা অংকের কমিশন বানিজ্য করেন তিনি। মতিঝিল গণপূর্ত বিভাগে মোটা অংকের কমিশনের বিনিময়ে আওয়ামী পন্থী ঠিকাদারদের কাজ দেয়ার অভিযোগ ছিলো তার বিরুেদ্ধ রয়েছে মতিঝিল গণপূর্ত বিভাগের অধীন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসনে অবৈধভাবে রুম উঠিয়ে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ। ফ্ল্যাট মেরামত না করে ভুয়া বিল ভাউচার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন তিনি। মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের শেষ সময় মতিঝিলের একজন কমিশনারকে পাঁচ কোটি টাকার কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগে ২/৯/২০২৪ সালে গাইবান্ধায় শাস্তি মূলক বদলি করা হয়। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে পুনরায় আবার ঢাকায় ফিরে এসেছেন। বর্তমানে আরবি কালচার গণপূর্ত বিভাগ ঢাকায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে আছেন। এখানে এসেও ফিরেছেন স্বমহিমায়। আরবিকালচার বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইল অনুমোদনের ক্ষেত্রে অর্থ ঘুষ /কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠছে তার বিরুদ্ধে।
অবৈধ অর্থে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিজ গ্রামের বাড়ি ও ঢাকায়। রাজধানী ঢাকায় ইন্দিরা রোডের ৪২/২ বাড়ির ডি/৬ ফ্লাট ক্রয় করে বসবাস করেন এর আনুমানিক মূল্য প্রায় কোটি টাকা। অভিযোগপত্র থেকে জানা যায় রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে তার আরো একাধিক ফ্লাট প্লট।
গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা কমলাকান্দা উপজেলায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন। অধিকাংশ সম্পদ পিতা মজিবর রহমান তালুকদার, মা রোকেয়া তালুকদার, স্ত্রী ইফফাত আলতাব জেনি, সন্তান ও পরিবারের বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে ক্রয় করেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ। অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয় দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক পরিবারের সকল সদস্যদের সম্পদ অনুসন্ধান করলেই বেরিয়ে আসবে অবৈধ সম্পদ।
এই বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ এর ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি এমনকি অভিযোগের বিষয়বস্তু হোয়াটসঅ্যাপে লিখে পাঠালেও তিনি কোন মন্তব্য করেননি।
