প্রকৌশলী হামিদুল হকের অনিয়ম দুর্নীতি অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক, নির্বিকার এলজিইডি !
শেখ ফয়সাল আহমেদ :
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প (সিআরডিপি-২) পিডি এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতা মো: হামিদুল হকের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষমতার অপব্যহার, অনিয়ম, দুর্নীতি ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এলজিইডি অধিদপ্তর, দুদক সহ একাধিক দপ্তরে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও তিনি আছেন বহাল তবিয়তে। এলজিইডি অধিদপ্তর অদৃশ্য কারণে শাস্তির বদলে তাকে দিয়েছে উল্টো পদোন্নতি।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিত প্রকৌশলীরা ছিলেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে সেই তালিকায় অন্যতম হামিদুল হক। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতা , বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ এলজিইডি শাখার ৩৬ নম্বর সদস্য । বঙ্গবন্ধু জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির ৭ নং সদস্য ছিলেন।
এছাড়া আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দিতেন বিপুল পরিমাণ ডোনেশন। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি পন্থী অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি কোন অদৃশ্য ক্ষমতার প্রভাবে শাস্তির বদলে উল্টো পেয়েছেন পদোন্নতি ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী হয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল)বিধিমালা অনুযায়ী, গুরুদণ্ডের তদন্ত চলমান থাকলে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ নেই। উচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়েও বলা হয়েছে, গুরুতর অসদাচরণ বা দুর্নীতির প্রমাণ থাকলে বা তদন্তাধীন থাকলে পদোন্নতির সুযোগ নেই। কিন্তু প্রকৌশলী হামিদুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের তদন্ত চলাকালীন অবস্থায় তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে। অভিযোগ আছে অবৈধ অর্থ দিয়ে তিনি এই পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এলজিইডির বিভিন্ন বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীদের দুর্নীতির দায়ে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নেয়া হয়েছিলো বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কিন্তু ব্যাপক ক্ষমতাশালী হামিদুল হকের ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টো।
হামিদুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী সমর্থক হওয়ার সুবাদে অনিয়ম ঘুষ দুর্নীতি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ বদলি বাণিজ্য ভুয়া বিল ভাউচার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প (সিআরডিপি-২) -এ করেছেন ব্যাপক অনিয়ম- দুর্নীতি। দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দরপত্র আহবান, ঠিকাদার নিয়োগ, স্বজনপ্রীতি ও কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে ।
অবৈধ অর্থে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় গড়েছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ । মোহাম্মদপুর মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটির ৪নং রোডে নিজের নামে হামিদ ভিলা ( বাড়ি ২১০/বি) , মোহাম্মদপুর সলিমুল্লাহ রোড ১১/১৬ এ রয়েছে একাধিক ফ্লাট। বসবাস করেন শেখেরটেক ৩ নম্বর রোডে প্যারা মাউন্ট হাউজিংয়ে ১০ নম্বর ভবনে একটি বিলাসবহুল ফ্লাটে।
বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য অনুযায়ী ঢাকার বাহিরেও রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিভিন্ন ব্যাংকে পরিবারের সদস্য আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে রয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ। (সম্পদ বিবরণীর আরো তথ্য আগামী দ্বিতীয় পর্বে প্রকাশিত হবে।)
সম্প্রীতি প্রকৌশলী হামিদুল হকের অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে প্রাথমিক সত্যতার প্রমাণ পাওয়ায় অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। প্রকৌশলী মোঃ হামিদুল হক, স্ত্রী আরমানা ইসলাম, ছেলে আকিফ হামিদ,হিবাত হামিদ সহ আরো বেশ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনের নামে অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে সম্পদের তথ্য চেয়ে চিঠি প্রেরণ করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলজিইডির বেশ কয়েকজন প্রকৌশলী বলেন দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব রক্ষক আব্দুর রাজ্জাক ইতিমধ্যেই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন ও হামিদুল হকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ একাধিকবার জমা দেওয়া হয়েছে কিন্তু তিনি অবৈধ অর্থ দিয়ে সবকিছু ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন। এই জন্য এলজিইডির অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে মুখ খুলেনা। তবে সবাই চান দ্রুত তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এই বিষয়ে জানতে প্রকৌশলী হামিদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে একাধিক সাংবাদিক দিয়ে ফোন করান নিউজ প্রকাশ না করার জন্য কিন্তু অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি এবং তার হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।
