ডিপিডিসি’র এমডি নূর আহমদকে অব্যহতি, দায়িত্বে হাবিবুন নাহার
হাসান মাহমুদ রিপন :
অবশেষে অব্যহতি দেওয়া হলো ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত নূর আহমদকে। বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানী এ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপ-সচিব ফারজানা খানম স্বাক্ষরিত এ পত্র জারি করা হয়। যার স্মারক নম্বর: ২৭.০০.০০০০.০৮৮.১১.০০৫.২৪-১৯৬।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, ডিপিডিসি’র দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকা বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নূর আহমদকে সরিয়ে সংস্থাটির এমডি পদে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুন নাহার কে নিয়োজিত করা হয়।
প্রসঙ্গত: দৈনিক অর্থনীতির কাগজ পত্রিকায় গত ১১ মার্চ ‘ডিপিডিসি: রাষ্ট্রীয় অর্থে রাক্ষুসে থাবা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত করা হয়। ঐ প্রতিবেদনে মন্ত্রনালয় থেকে নির্দেশনা বাস্তবায়নে এমডি নূর আহমদের বিশেষ উদ্দেশ্যে টালবাহানার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনটির অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো-
“দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. সবুর হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির দীর্ঘ অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার এবং নথিপত্র পর্যালোচনার পর ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এরপর ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখা থেকে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে ১১০ পাতার একটি বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের থেকে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনের পাশাপাশি এক চিঠিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছিল, জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং গৃহীত পদক্ষেপ মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশনার প্রায় বছর পার হতে চললেও ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে। অভিযোগ রয়েছে, জিটুজি প্রকল্পের প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিবাজ চক্র ডিপিডিসির তৎকালীন শীর্ষ পর্যায়কে ‘ম্যানেজ’ করে তদন্ত প্রতিবেদনটি ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে। সূত্রের দাবি, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ থাকার পরও তাদের বরখাস্ত না করা সংস্থার জন্য চরম লজ্জাজনক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) ও ডিপিডিসির তৎকালীন ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এম.ডি) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নূর আহমদের সঙ্গে মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা কিংবা কোনো তদন্ত প্রতিবেদনে কী এসেছে, কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি- তা কি আপনাদের (সাংবাদিক) দেখার কথা! আর আমি তো তখন দায়িত্বেই ছিলাম না। আমি এসেছি দুদিন হলো!
অথচ নথি পর্যালোচনায় দেখা যায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে ১১০ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন ও এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয় ২০২৫ সালে ৪ সেপ্টেম্বর। ওই সময়কালেও নূর আহমদ-ই ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন।”
এছাড়া অনুসন্ধানে জানা যায়, ইতোমধ্যেই ডিপিডিসি’র বর্তমান এমডি নূর আহ্মদের স্ত্রী ফাতেমা ইউসূফের নামে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় ৯ তলা একটি বাড়ি রয়েছে। এখানেই শেষ নয় এই বাড়িটির সিটি কর্পোরেশনে কর প্রদানের ক্ষেত্রে দেখানো হয়েছে দুই তলা বিশিষ্ট বাড়ি। এটির বার্ষিক মূল্যায়ন দেখানো হয়েছে ৫০ হাজার টাকা আর সিটি কর্পোরেশনকে ত্রয়মাসিক হিসেবে কর প্রদান করছেন এক হাজার ৫ শত টাকা মাত্র। এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। সম্পন্ন হলে বিস্তারিত প্রতিবেদন শিগগিরই তুলে ধরা হবে।
(নিচের ছবিতে ডিপিডিসি’র এমডি নূর আহ্মদের স্ত্রী ফাতেমা ইউসুফের নামে নির্মিত বাড়ি।)
