ডিপিডিসির ক্ষমতার অলিন্দে বিষবৃক্ষ!
• ‘দুর্নীতি-সাম্রাজ্য’ ও খোলস পাল্টানোর মহোৎসব
• চালাচ্ছে নতুন করে বিষদাঁত বিস্তারের পায়তারা
• নব্য বিপ্লবী সেজে নিজেদের অপকর্ম আড়ালের চেষ্টা
• রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে ‘দুর্নীতি সম্রাট’ ও তার দোসররা
হাসান মাহমুদ রিপন :
ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে যখন প্রশাসনিক সংস্কারের জোয়ার বইছে, তখন বিদ্যুৎ খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)- এ ঘাপটি মেরে বসে থাকা ‘দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট’ নতুন করে বিষদাঁত বিস্তারের পায়তারা চালাচ্ছে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় এই সেবা সংস্থাটি বর্তমানে এক অদ্ভুত ও উদ্বেগজনক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠানটিতে যে দুর্নীতির মহোৎসব চলেছে, তার মূলে ছিলেন সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জিএম, এইচআর) মোহাম্মদ হাসনাত চৌধুরী। বিশেষ করে, বিগত স্বৈরাচারী শাসনের ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে শত শত কোটি টাকার পাহাড় গড়া মহাব্যবস্থাপক (জিএম, এইচআর) মোহাম্মদ হাসনাত চৌধুরীকে কেন্দ্র করে ডিপিডিসিতে যে ‘লুটতরাজ বলয়’ তৈরি হয়েছিল, তা ভাঙা তো দূর কি বাত—উল্টো তারা এখন নব্য বিপ্লবী সেজে নিজেদের অপকর্ম আড়ালের খেলায় মেতেছে। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতন ঘটলেও, ডিপিডিসির রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকা সেই ‘দুর্নীতি সম্রাট’ ও তার দোসররা এখনো যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বরং ক্ষমতার পালাবদলের সুযোগে তারা খোলস পাল্টে ‘বিপ্লবী’ সেজেছেন, যা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি এক চরম উপহাস।
দুর্নীতির গডফাদার ও ক্ষমতার উৎস :
অভিযোগ রয়েছে, হাসনাত চৌধুরীর উত্থান যেন কোনো থ্রিলার উপন্যাসের পটভূমি। ডিপিডিসিতে দীর্ঘদিন থেকেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে আসীন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে তিনি সংস্থায় গড়ে তুলেছিলেন সমান্তরাল এক শাসনব্যবস্থা। তথ্যাভিজ্ঞ মহল বলছে, হাসনাত চৌধুরী কেবল একজন কর্মকর্তা নন, বরং দুর্নীতিবাজদের কাছে তিনি ছিলেন এক অপরাজেয় ‘গডফাদার’। বিশেষ করে মানবসম্পদ বিভাগের শীর্ষ পদে থাকার সুবাদে তিনি নিয়োগ, পদোন্নতি এবং বদলিকে একটি লাভজনক ব্যবসায়িক মডেলে রূপান্তর করেন। এছাড়া তিনি জিএম (এইচআর) পদের দায়িত্বে থাকলেও গত অর্ন্তবর্তী সরকারের আমলে ডিপিডিসি’র সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্বে থাকা নূর আহমদকে ম্যানেজ করে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সংস্থাটির কোম্পানী সচিবের পদটিও বাগিয়ে নিয়েছেন বলে জানা যায়।
নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, জিএম (এইচআর) পদে থাকাকালীন তিনি সাধারণ গ্রাহকদের নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নাম করে এক বিশাল ঘুষের নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করতেন। নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান এবং ইচ্ছেমতো বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি যে পরিমাণ সম্পদ আহরণ করেছেন, তার সিংহভাগই ইতোমধ্যে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তিনি ছিলেন সংস্থার ভেতরে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় খুঁটি। অথচ বিস্ময়করভাবে সরকার পতনের পরেও তিনি নিজ আসনে বহাল তবিয়তে বিরাজ করছেন, যা সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এ ব্যাপারে ডিপিডিসি’র জিএম (এইচআর) মোহাম্মদ হাসনাত চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
সিন্ডিকেটের অন্দরমহল ও সহযোগীদের জাল :
একা হাসনাত চৌধুরী নন, ডিপিডিসিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করতে তার ডানে-বামে ছিলেন একঝাঁক সুযোগ সন্ধানী কর্মকর্তা। এ চক্রে যুক্ত ছিলেন জিটুজি প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাজিবুল হাদী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক, প্রধান প্রকৌশলী আবুল ফজল মো. বদরুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম আরা বেগম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হরিচাঁদ হালদার, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়েজ করিম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তারিকুল ইসলাম টিটু, এইচআর দপ্তরের ডিজিএম কামরুন নাহার খানম, বনশ্রী ডিভিশনের সিনিয়র সহকারী হিসাবরক্ষক মো. জসিমউদ্দিন এবং নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খান সহ আরো অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, বদলি ও পদোন্নতির প্রতিটি ফাইলে তার সিন্ডিকেট সদস্যদের ‘সবুজ সংকেত’ ছাড়া কোনো কাজ হতো না। কিন্তু সংস্থার বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলছেন, এই বলয়টি ডিপিডিসির ডিএসএস ও সিএসএস ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। তাদের এই অশুভ আঁতাতের মাধ্যমে ডিএসএস ও সিএসএস ঠিকাদার নিয়োগে নজিরবিহীন অনিয়ম করা হয়েছে। তাছাড়া নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান এবং গ্রাহকদের জিম্মি করে ঘুষ আদায় ছিল তাদের নিত্যদিনের কাজ। সিন্ডিকেটের এই নেটওয়ার্ক এতটাই গভীরে প্রোথিত যে, যারা অবসরে গিয়েছেন তারাও এখনো নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নাড়ছেন।
রূপান্তর ও রাজনৈতিক ডিগবাজি:
৫ আগস্টের বিপ্লবের পর ডিপিডিসিতে এক অদ্ভুত ও কৌতুকপূর্ণ দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে। যারা একসময় ‘বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদ’-এর ব্যানারে দাপিয়ে বেড়াতেন, মুখে আওয়ামী লীগের স্তুতি গাইতেন, তারাই এখন রাতারাতি বিএনপির সমর্থক সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ’ (এ্যাব)-এর প্রথম সারির কর্মী সেজে মিছিল করছেন। তাদের এই আকস্মিক ভোল পাল্টানো দেখে বঞ্চিত ও নির্যাতিত কর্মকর্তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ়। যারা গত ১৫ বছর ভিন্নমতাবলম্বী প্রকৌশলীদের ওপর জেল-জুলুম এবং প্রশাসনিক নিপীড়ন চালিয়েছেন, তারা এখন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফ্রন্টলাইনার হওয়ার দাবি করছেন।
বিস্ময়কর এই পরিবর্তনের চিত্রটি বেশ কৌতুকপূর্ণ। যারা ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন, তারাই এখন জোড়েশোরে ‘বৈষম্যবিরোধী’ স্লোগান দিচ্ছেন। মুখে ফেনা তুলে ফেলছেন ন্যায়বিচারের দাবিতে। তাদের এই ‘নব্য ত্যাগের’ মহিমা দেখে বঞ্চিত ও নির্যাতিত প্রকৃত কর্মকর্তারা হতবাক। এটি যেন চোখের নিমেষে মরুভূমিকে অরণ্য প্রমাণের এক নিপুণ কারসাজি। এই ছদ্মবেশী ফ্যাসিস্টদের দাপটে প্রকৃত বৈষম্যের শিকার কর্মকর্তারা আবারো প্রান্তিক হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
ষড়যন্ত্রের নতুন জাল:
অভিযোগে প্রকাশ, ডিপিডিসির সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নূর আহমদ দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসনাত চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন সেই পুরনো চক্রটি তাকে পরিকল্পনা মাফিক ঘিরে রাখে। সৎ ও উদ্যমী কর্মকর্তাদের বিতর্কিত করে এমডির কানভারি করার এক বিশেষ মিশনে নেমেছিলেন তারা। তাদের লক্ষ্য হলো— সুক্ষ ও কৌশলী পন্থায় এমডির বিশ্বস্ত, সৎ ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী কর্মকর্তাদের বিতর্কিত করে শাস্তিমূলক স্থানে বদলি করা। আর তাদের মতাদর্শের কর্মকর্তাদের প্রাইস পোস্টিংয়ের মাধ্যমে পুনরুজ্জিবীত ও চাঙ্গা রাখা। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদ বিরোধী প্রকৌশলীদেরকে টার্গেট করে তাদের বিরুদ্ধে মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ছিল মূল কাজ। এই চক্রটির কতিপয় সদস্য সংবাদকর্মীদের ভুল তথ্য দিয়ে তারা ডিপিডিসির সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে এবং সংস্থার অভ্যন্তরে এক অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি করে নিজেদের দুর্নীতি আড়ালের চেষ্টা চালাচ্ছে।
বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশলী পরিষদের হুঁশিয়ারি:
২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশলী পরিষদ’ ডিপিডিসির এই কলঙ্কিত অধ্যায়ের স্বরূপ উন্মোচন করে।
সম্মেলনে বলা হয়, গত দেড় দশক ধরে যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের মদতে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন, তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা শহীদদের রক্তের সাথে চরম বেইমানি। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাদের দাবিগুলো ছিল স্পষ্ট: ১. অবিলম্বে ডিপিডিসি থেকে মোহাম্মদ হাসনাত চৌধুরীসহ চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। ২. একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ ও টেন্ডার বাণিজ্যের অনুসন্ধান করতে হবে। ৩. লুণ্ঠিত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরিয়ে আনতে হবে। ৪. ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বঞ্চিত ও যোগ্য কর্মকর্তাদের উপযুক্ত পদে পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
‘বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশলী পরিষদ’ ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একাধিক চিঠি দিয়ে এই ‘হাইব্রিড’ সিন্ডিকেটের তালিকা জমা দিয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সংস্কারের নামে যদি পুনরায় পুরনো জঞ্জালদের পুনর্বাসন করা হয়, তবে ছাত্র-জনতার অর্জন বৃথা যাবে।
ডেসার পরিণতি এড়ানোর আহ্বান:
ডিপিডিসি একসময় ডেসার (DESA) বিকল্প হিসেবে একটি লাভজনক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একটি লাভজনক ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে পরিকল্পিতভাবে অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র চলছে। হাসনাত চৌধুরী ও তার অনুসারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা যদি এখনো ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকেন অথবা তাদের অবাধ লুণ্ঠন অব্যাহত থাকলে অচিরেই এটি একটি অকার্যকর ও দেউলিয়া প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে হলে বিদ্যুৎ সেক্টরের এই কালো হাতগুলোকে উপড়ে ফেলা জরুরি। নতুবা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা ম্লান হয়ে যাবে। ডিপিডিসিকে দুর্নীতির আখড়া থেকে মুক্ত করে একটি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই এখন সময়ের প্রধান দাবি।
ডিপিডিসি’র পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোঃ হামিদুর রহমান খান এ ব্যাপারে বলেন, আমি দায়িত্বে রয়েছি অল্প কিছুদিন হলো, সংস্থায় সিন্ডিকেটের বিষয় আমার কিছু জানা নেই। তবে ব্যাতিক্রম বা বে-আইনী কোনো কিছু আমার নজরে এলে অবশ্যই সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
এ ব্যাপারে ডিপিডিসি’র নির্বাহী পরিচালক (প্রসাশন) মোহাম্মদ হায়দার আলীর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবারেই একবার রিংটোন বাজার পর সংযোগটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বা করা হয়।
সরকারের কাছে আপামর জনতার প্রত্যাশা—বিদ্যুৎ খাতের এই বিশৃঙ্খলা দমনে দ্রুত শুদ্ধি অভিযান চালানো হোক। খুনি সরকারের দোসর যারা গিরগিটির মতো রং বদলে প্রশাসনে টিকে থাকতে চাইছে, তাদের মূলোৎপাটন করা এখন সময়ের দাবি। নচেৎ, সংস্কার কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে, আর ‘দুর্নীতিবাজ গডফাদাররা’ আবারও অন্ধকার থেকে শাসন করবে আগামীর বাংলাদেশ।
বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমান সরকার জনগনের অর্থ লুটপাট কিংবা জনভোগান্তী বাড়াবে এমন কোনো ব্যাক্তি অথবা সিন্ডিকেটকে বরদাশত করবে না। এ জাতীয় সিন্ডিকেটকে আমরা স্ব-মূলে নির্মূল করে ফেলবো।
তিনি বলেন, ব্যাক্তি বা দলীয় স্বার্থ হাসিলে কোন ব্যাক্তি, গোষ্ঠী বা চক্র যদি প্রতিষ্ঠান অথবা সংস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করে তাহলে তাদেরকে কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
ছাত্র ও জনতার অভূতপূর্ব আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হলে ডিপিডিসি থেকে এই ফ্যাসিবাদের দোসরদের সমূলে উৎপাটন করা জরুরি। অন্যথায়, বিদ্যুৎ খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতির কৃষ্ণগহ্বরে তলিয়ে যাবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার জন্য হবে এক বড় অন্তরায়। সময় এসেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের। জনগণের সম্পদ রক্ষায় দুর্নীতির এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলা এখন জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে।
