শিরোনাম

ফ্যাসিস্ট সুবিধাভোগীরাই ডিপিডিসিতে এখন ‘ত্যাগী’!

 প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০১:১২ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

ফ্যাসিস্ট সুবিধাভোগীরাই ডিপিডিসিতে এখন ‘ত্যাগী’!


*    নিপীড়নকারীরা এখন রাতারাতি ‘বিপ্লবী’ সেজেছেন

*    পুনর্বাসনে পর্দার আড়ালে কাজ করছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট

*    ছদ্মবেশীদের কারনে আবারও প্রান্তিক হওয়ার আশঙ্কা বঞ্চিতদের



হাসান মাহমুদ রিপন :

ছাত্র-জনতার আগস্টের রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রশাসনিক মানচিত্রে আমূল পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। কিন্তু ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডে (ডিপিডিসি) এই পরিবর্তনের চিত্রটি বেশ অদ্ভুত এবং উদ্বেগজনক। সেখানে পটপরিবর্তন হলেও ক্ষমতার অলিন্দে থাকা চরিত্রগুলো প্রায় অপরিবর্তিত। বিগত দেড় দশক ধরে যারা আওয়ামী লীগের ক্ষমতার ছায়াতলে থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কমিশন খেয়েছেন এবং ভিন্নমতাবলম্বী প্রকৌশলী কর্মচারীদের ওপর জেল-জুলুম আর প্রশাসনিক নিপীড়ন চালিয়েছেন, তারাই এখন রাতারাতিবিপ্লবীসেজেছেন। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এসবহাইব্রিডকর্মকর্তারা এখন নিজেদের বিএনপি-জামায়াত বা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একান্ত সমর্থক হিসেবে জাহির করে আগের মতোই দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।

ডিপিডিসির বঞ্চিত নির্যাতিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এই সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর পুনর্বাসনের জন্য পর্দার আড়ালে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। যেখানে খোদ বর্তমান ক্ষমতাঘনিষ্ঠ কিছু অসাধু নেতা প্রভাবশালী আমলাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি খোদ সংস্থাটিরই নীতিনির্ধারনী মহলের কতিপয় এতে জড়িত বলে অভিযোগ। ফলে যারা প্রকৃত অর্থেই গত ১৫ বছর নানা ধরনের হয়রানী কিংবা পদোন্নতি বঞ্চিত হয়ে কোনঠাসা ছিলেন, তারা আবারও নব্যত্যাগীসেজে আসা ছদ্মবেশী এই ফ্যাসিবাদের দোসরদের কারণে প্রান্তিক হয়ে পড়ার চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খোলস পাল্টানোর নেপথ্যে:

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডিপিডিসির একদল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যারা গত ১৫ বছরবঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদ’-এর নীতিনির্ধারক ছিলেন, তারা এখন কৌশল বদলেঅ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ’ (এ্যাব)-এর প্রথম সারির সমর্থক পরিচয় দিচ্ছেন। এরা কেবল পরিচয় বদলেই ক্ষান্ত হননি, বরং আগস্টের পর থেকে নিয়মিত বিভিন্ন রাজনৈতিক মিছিলে সামনের সারিতে অবস্থান নিয়ে নিজেদেরঅতীত পাপঢাকার চেষ্টা করছেন। প্রভাবশালী মহলে লবিং করে অনেকেই এরই মধ্যে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নিশ্চিত করেছেন, যা ডিপিডিসির ভেতরে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক। ফ্যাসিস্ট আমলে তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের ডিপিডিসি উইংয়ের সভাপতি হিসেবে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছিলেন। তার নির্দেশেই বহু দক্ষ প্রকৌশলীকে ঢাকার বাইরে বা গুরুত্বহীন পদে বদলি করা হয়েছিল। বর্তমানে তার ছায়াতলেই একটি শক্তিশালী চক্র ডিপিডিসিকে আবারও জিম্মি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই চক্রের সামনের সারিতে রয়েছেন জিটুজি প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ, জিটুজি প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাজিবুল হাদী, মো. তারিকুল ইসলাম টিটু, মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হাসনাত চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আবুল ফজল মো. বদরুল আলম, মশিয়ার রহমান জোয়ার্দ্দার, তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী শামীম আরা বেগম, শেখ মো. জিয়াউল হাসান, শ্রীবাস চন্দ্র বিশ্বাস, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহম্মদ ফয়েজ করিম, বনশ্রী ডিভিশনের সিনিয়র সহকারী হিসাবরক্ষক মো. জসিমউদ্দিন সহ আরও অনেকে রয়েছেন ফ্যাসিস্ট সুবিধাভোগীদের তালিকায়।

বিষয়ে জানতে বিদ্যুৎ সচিব ফারহানা মমতাজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ মোতাবেক কতিপয় অভিযুক্তের বিষয়ে সামান্য কিছু খতিয়ান তুলে ধরা হলো।

ছদ্মবেশীআব্দুল মজিদ:

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদকে নিয়ে ডিপিডিসির করিডোরে নানা মুখরোচক আলোচনা রয়েছে। বিগত সরকারের পুরো সময়জুড়ে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। ১৫ আগস্টের প্রতিটি অনুষ্ঠানে শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং আবেগঘন ভাষণ দিয়ে তিনি তৎকালীন আওয়ামী ঘরানার নেতৃত্বের কাছে প্রিয়পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, শেখ হাসিনা শেখ রাসেলের জন্মদিনের উৎসবে তিনি গান গেয়ে আসর জমাতেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এইতোষণনীতির বিনিময়ে তিনি বছরের পর বছর লোভনীয় প্রজেক্ট গুরুত্বপূর্ণ দফতর নিজের কবজায় রেখেছিলেন।

আগস্টের পর রাতারাতি সুর বদলে তিনি এখন বিএনপির কট্টর সমর্থক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করছেন। ডিপিডিসির কর্মকর্তাদের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে যে, নারায়ণগঞ্জ জোনের দুজন বিএনপি পন্থি নির্বাহী প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করে তিনি নিজেকেশুদ্ধকরার মিশনে নেমেছেন এবং ঐ প্রকৌশলীদ্বয় তাকে বিএনপি হিসেবে পুনর্বাসনের মিশন শুরু করেছেন। যা পরবর্তিতে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। এছাড়া আব্দুল মজিদ একটি বিতর্কিত ফেসবুক পেজ ভাড়া করে তার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, সেই একই পেজ থেকে বর্তমান বিদ্যুৎ সচিব ফারহানা মমতাজ ও ডিপিডিসি’র দুর্নীতি বিষয়ক প্রতিবেদন করা সংবাদ কর্মীদেরকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে, যা আব্দুল মজিদের প্রচ্ছন্ন মদতে হচ্ছে বলে অনেকে সন্দেহ করছেন।

তবে আব্দুল মজিদ এসব অভিযোগকেভিত্তিহীনদাবি করে বলেন, তিনি এসব কার্যক্রমের সাথে জড়িত নন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকৌশলীরা জানান, বিতর্কিত যে ফেসবুক পেজ থেকে বিদ্যুৎ সচিব সহ সাংবাদিকদের বিষয়ে কুরুচীপূর্ন ষ্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে সেটির সাথে যদি প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদের সম্পৃক্ততা থাকেও তবে সেটিতে আশ্চর্য্য হবার কিছু নেই।

হাসনাত চৌধুরীরএইচআর সাম্রাজ্য’:

ফ্যাসিস্ট আমলে ডিপিডিসির মহাব্যবস্থাপক (এইচআর) মোহাম্মদ হাসনাত চৌধুরীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। বিগত আওয়ামী লীগ আমলে তার মাধ্যমেই ডিপিডিসির ডিএসএস সিএসএস ঠিকাদার নিয়োগের চূড়ান্ত ফয়সালা হতো। অভিযোগ আছে, সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে নতুন সংযোগ দেওয়ার নামে আদায় করা ঘুষের একটি বড় অংশ এই সিন্ডিকেটে জমা হতো। এছাড়া নীতিমালা লঙ্ঘন করে পছন্দমতো বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের দাবি। ফ্যাসিস্ট আমলের তার দোর্দণ্ড প্রতাপের কাছে অনেক সিনিয়র প্রকৌশলীও ছিলেন অসহায়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেখানে সংস্কারের কথা চলছে, সেখানে তার মতো একজন বিতর্কিত কর্মকর্তা এখনো বহাল তবিয়তে থাকায় সংস্থার ভেতরে শুদ্ধি অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রাজিবুল হাদীর দুর্নীতি তেলেসমাতি:

ফ্যাসিস্ট আমলে জিটুজি প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাজিবুল হাদীর দুর্নীতির কাহিনী রূপকথাকেও হার মানায়। সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু একান্ত আস্থাভাজন হিসেবে তিনি গত ১৬ বছরে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। অভিযোগ আছে, ফ্যাসিস্ট আমলে তিনি দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে মূলত চীনা বেসরকারি কোম্পানিগুলোর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেন। প্রকল্পের ড্রয়িং এবং ডিজাইন পরিবর্তনের মাধ্যমে খরচ বাড়িয়ে শত শত কোটি টাকা অপচয় করার সুনির্দিষ্ট তথ্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছিল। বিশেষ করেসিনমনামের একটি চীনা প্রতিষ্ঠানকে দুইশ কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি শতাংশ কমিশন নিশ্চিত করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খিলগাঁও ডিভিশনে থাকাকালীন গ্রাহকদের সাথে তার রূঢ় আচরণ এবং হয়রানির অভিযোগ এখনো ডিপিডিসির নথিতে চাপা পড়ে আছে।

বদরুল আলম শামীম আরারবিলাসবহুলজীবন:

পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে ডিপিডিসি প্রধান প্রকৌশলী আবুল ফজল মো. বদরুল আলম ছিলেন দোর্দন্ড প্রতাপশালীদের মধ্যে অন্যতম। প্রধান প্রকৌশলী আবুল ফজল মো. বদরুল আলম আওয়ামী লীগ আমলের পুরোটা সময় একটি বিশাল প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সখ্যের সুবাদে তিনি মোহাম্মদপুর এলাকায় চারটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ আছে, প্রভাব বিস্তারের জন্য তিনি একটি গণমাধ্যম কর্মীকে তার বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে বিনা ভাড়ায় থাকতে দিয়েছেন, যাতে তার দুর্নীতির খবর বাইরে না আসে।

অন্যদিকে, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম আরা বেগম ছিলেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নারী উইংয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক। সাবেক প্রভাবশালী এক এমপির বিশেষ আশীর্বাদপুষ্ট এই কর্মকর্তা এখন বর্তমান প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। যেখানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হওয়ার কথা, সেখানে তিনি আরও সুবিধাজনক পদে আসীন হয়েছেন, যা বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

রাজস্ব লুটে ফয়েজ করিম:

নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়েজ করিমের বিরুদ্ধে ফতুল্লা-চাষাড়া বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে ভয়াবহ জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফ্যাসিস্ট দোসর হওয়ায় ক্ষমতার দাপটে প্রকল্পের নকশা জালিয়াতি করে ৪৫টি বৈদ্যুতিক খুটি বসানো হলেও তিনি সরকারি নথিতে মাত্র ৪টির হিসাব দেখান। বাকি ৪১টি খুটির টাকা সরাসরি তার পকেটে গেছে বলে অভিযোগ। এর ফলে সরকারের আনুমানিক কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। এই বিপুল অর্থ দিয়ে নিজের আখের গোছানো সহ তিনি বিগত আমলের রাজনৈতিক রাঘববোয়ালদের সন্তুষ্ট রাখতেন এবং নিজের অপকর্ম ঢেকে রাখতেন।

অকার্যকর ডিপিডিসির শঙ্কা:

রাজনৈতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ সুবিধাবাদীদের হাত থেকে ডিপিডিসিকে মুক্ত করা না যায়, তবে এক সময়ের লোকসানি প্রতিষ্ঠানডেসা (উঊঝঅ) ভাগ্য বরণ করতে হবে ডিপিডিসিকেও। এই চক্রটি বর্তমান ম্যানেজমেন্টকে অকেজো করে দিয়ে নিজেদের অনুসারীদের শীর্ষ পদে বসানোর পাঁয়তারা করছে। এটি সফল হলে ডিপিডিসি কেবল একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানই হবে না, বরং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

রাজনৈতিক পেশাজীবী নেতাদের কঠোর হুঁশিয়ারি:

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘১৫ বছরের ফ্যাসিবাদীদের জন্য বিএনপিতে কোনোসেফ প্যাসেজনেই। যারা ডিপিডিসিকে দুর্নীতির আখড়া বানিয়েছে, তাদের জায়গা হবে কারাগারে, কোনো রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে নয়।

পেশাজীবীদের শীর্ষ সংগঠন এ্যাব-এর সাবেক সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আসাদুজ্জামান চুন্নু বলেন, ‘আমরা প্রতিটি স্তরে তদারকি করছি। খোলস পাল্টে কেউ পার পাবে না। খুব শীঘ্রই ডিপিডিসি থেকে এসব জঞ্জাল পরিষ্কার করা হবে এবং ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে।

আবার ড্যাবের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ডা. শাহ মোহাম্মদ আমান উল্লাহ মনে করেন, এই হাইব্রিডদের চিহ্নিত করা কেবল রাজনৈতিক নয়, একটি নৈতিক দায়িত্বও বটে। তিনি ডিপিডিসির সকল স্তরের কর্মচারীদের এই অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

ব্যাপারে ডিপিডিসি নির্বাহী পরিচালক (প্রসাশন) মোহাম্মদ হায়দার আলীর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবারেই একবার রিংটোন বাজার পর সংযোগটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বা করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে ডিপিডিসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এমডি নূর আহমদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা সম্ভব হয়নি।

ডিপিডিসির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন তাকিয়ে আছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের দিকে। তারা আশা করছেন, আগস্টের শহীদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় অবিলম্বে এই ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ডিপিডিসিকে একটি স্বচ্ছ গ্রাহকবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

জাতীয় এর আরও খবর: