শিরোনাম

তেলের বাজারে আগুন: কেরানীগঞ্জে পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ সারি, ২০০ টাকার বেশি মিলছে না জ্বালানি!

 প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:০০ অপরাহ্ন   |   জনদুর্ভোগ

তেলের বাজারে আগুন: কেরানীগঞ্জে পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ সারি, ২০০ টাকার বেশি মিলছে না জ্বালানি!


​মাহফুজার রহমান:


​বিশ্ববাজারে তেলের দাম গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রভাবে কেরানীগঞ্জের সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৯৩ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

​পাম্পে পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন

​কেরানীগঞ্জের কদমতলী, জিনজিরা এবং চুনকুটিয়া এলাকার প্রায় প্রতিটি পাম্পের সামনে আজ দেখা গেছে যানবাহনের মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সারি। ভোররাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক চালক কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না। মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং পণ্যবাহী ট্রাকের ভিড়ে অনেক জায়গায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেলের দেখা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চালকরা।

​ ২০০ টাকার 'রেশনিং' ও খোলা বাজারের দৌরাত্ম্য

​মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক পাম্প কর্তৃপক্ষ ব্যক্তিগত বাইক চালকদের কাছে ২০০ টাকার বেশি তেল বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, সরবরাহ ঘাটতির কারণে তারা এই রেশনিং করতে বাধ্য হচ্ছেন।

​চালকদের ভোগান্তি: রাইড শেয়ারিং বা দূরপাল্লার চালকরা এই সামান্য তেলে চলাফেরা করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

​খোলা বাজার: পাম্পে তেল না পেয়ে অনেকে কেরানীগঞ্জের খোলা বাজারে ছুটছেন, যেখানে সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরা চড়া মূল্যে তেল বিক্রি করছেন।

​"তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে যখন পাম্পের কাছে পৌঁছালাম, তখন বলা হলো ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া যাবে না। এই তেলে তো আমাদের অর্ধেক পথও যাওয়া সম্ভব নয়।" — আক্ষেপ করে বলছিলেন দৈনিক অর্থনীতির কাগজের কাছে স্থানীয় এক মোটরসাইকেল চালক।

​সংকটের মূলে বৈশ্বিক পরিস্থিতি

​জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি স্থানীয় বাজারে পড়ছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি সতর্ক করেছেন যে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে, তা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় চীন ও ভারতের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশও বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।

জনদুর্ভোগ এর আরও খবর: