শিরোনাম

অনিয়ম ক্ষমতার অপব্যবহার নারী কেলেঙ্কারী সহ অভিযোগের পাহাড় ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি ইফতেখার আলী রেজার বিরুদ্ধে

 প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন   |   ব্যাংক

অনিয়ম ক্ষমতার অপব্যবহার নারী কেলেঙ্কারী সহ অভিযোগের পাহাড় ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি ইফতেখার আলী রেজার বিরুদ্ধে

২০২৪ সালের পাঁচই আগস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দেশের অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বিতর্কিত ব্যক্তিদের কে সরিয়ে দেওয়া হয় কিন্তু ইস্টার্ন ব্যাংকে কোন পরিবর্তন হয়নি একের পর এক অভিযোগের তালিকা জমা হয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার বিরুদ্ধে! তারপরও তিনি বহাল আছেন স্বপদে। 

সম্প্রতি আবারও আলোচনায় এসেছে বেসরকারি খাতের ব্যাংক ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী রেজা ইফতেখারের বিরুদ্ধে  নারী কর্মীদের প্রতি হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনৈতিক আচরণের অভিযোগ। 

প্রায় দেড় দশক ধরে ইস্টার্ন ব্যাংকে তিনি কর্মরত আছেন, দেশের সরকার পরিবর্তন হলেও ইস্টার্ন ব্যাংকের ক্ষমতার পরিবর্তন হয়নি একচ্ছত্র ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকিং জীবনের কর্মময় অধ্যায় শেষ করবেন আগামী বছর ইফতেখার আলী রেজা। পূর্বেও তার বিরুদ্ধে ছিল অভিযোগের পাহাড় কিন্তু তার অদৃশ্য ক্ষমতার কারণে সবকিছু ধামাচাপা দিয়ে রয়ে গেছেন পর্দার আড়ালে। দেশের ব্যাংকিং সেক্টর কে ধরা হয় নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থল হিসেবে কিন্তু এখানেও উঠেছে অভিযোগ নারীকে যৌন হয়রানির। বেশকিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার আকর্ষণীয় নারীদেরকে টার্গেট করে যৌন হয়রানি করতেন ।

তাদের বিভিন্নভাবে টার্গেট করা হতো। পদোন্নতি, গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পোস্টিং কিংবা বিদেশ সফরের সুযোগ—এসবকে অনেক সময় চাপ বা প্রলোভনের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। 

আলোচনায় এসেছে মেধাবী নারী ব্যাংকার তামান্না কাদিরের মৃত্যুর ঘটনাও। তার সহকর্মী ও সাবেক সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কর্মদক্ষতার কারণে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে ‘প্রায়োরিটি ব্যাংকিং’ বিভাগে পোস্টিং দেওয়া হয়। ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, ওই বিভাগে দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল। পরে একটি অফিসিয়াল সফরের মাধ্যমে তাকে বিদেশে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের মে মাসে ব্যাংকের কনজিউমার লিডারশিপ টিমের একটি বৈঠক নেপালে আয়োজন করা হয়। সাধারণত এই ধরনের সভা দেশে হলেও সে বছর বিদেশে আয়োজন করা হয় এমডির নির্দেশে! সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, ওই সফরের অংশ হিসেবেই তামান্না কাদিরকে নেপালে নেওয়া হয়েছিল পূর্বপরিকল্পিতভাবে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য অনুযায়ী ওই সফরে গিয়ে তিনি এমন কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হন যা তাকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে। সেখানে রাতের বেলায় কক্ষে ডাকাডাকি, মদ্যপ অবস্থায় অনৈতিক আচরণ এবং ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিতপূর্ণ আবদারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আর তামান্না কাদির এসব আচরণ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে তার সহকর্মীরা জানিয়েছে গণমাধ্যমকে। এরপর তিনি ভবিষ্যতে বিদেশে অনুষ্ঠিত এ ধরনের কোনো সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তও জানান।

অভিযোগ রয়েছে  এই ঘটনার পর থেকেই তার ওপর বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপ তৈরি হতে থাকে এবং কর্মক্ষেত্রে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে। এই ধরনের ভয়ংকর অভিযোগ সামনে এলেও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায় থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বিভিন্ন ব্যাংকে কর্মরত অনেক নারী কর্মকর্তা ও বেশ কিছু নারী সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেই দাবি জানিয়েছেন অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি প্রয়োজন।


অভিযোগ এখানেই শেষ নয় ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি ইফত থাকার আলী রেজার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগের তালিকায় রয়েছে: 

ইফতেখার আলী রেজা ২০০৪ সালে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ইবিএলে যোগ দেন এবং ২০০৭ সালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী পদে নিয়োগ পান এবং ২০০৮ সালে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাধিক মন্ত্রী এমপির সঙ্গে গভীর সখ্যতা তৈরি করে জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে অভিযোগ আছে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার সকল অপকর্ম ধামাচাপা দিয়ে থেকে গেছেন পর্দার আড়ালে পড়েননি কখনো কোন শাস্তির আওতায়।

২০১৪ সালে স্বল্প পরিচিত এএফসি হেলথ লিমিটেডকে ১০৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল ইস্টার্ন ব্যাংক অভিযোগ আছে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে এই ঋণ পাইয়া দেন আলী রেজা ইফতেখার এবং সেই ঋণের পুরোটাই ঋণ খেলাপি হয়ে যায়।

২০১৫ সালে বিদেশ ভ্রমণের নামে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে একই বিল দুইবার নিয়েছিলেন। এটা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধানে নেমেছিল কিন্তু পরে সেটা ধামাচাপা পড়ে যায়। ঘুষের বিনিময়ে একাধিক অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছিলেন যাদের ভিতরে অনেকেই হয়েছেন ঋণ খেলাপি। 


২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন অনিয়ম ও ভুল তথ্যের আশ্রয় নিয়ে অর্থের বিনিময়ে গণমাধ্যমকে হাতিয়ার বানিয়েছেন। ইস্টার্ন ব্যাংক ২ হাজার ১৯ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ অবলোপন করেছিল । ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পরে ইফতেখার আলী রেজাল নিজের সফলতার গল্প বানাতে গিয়ে ৪ হাজার ২০৭ কোটি টাকা বিতরণ করা ইস্টার্ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২০৭ কোটি টাকা দেখিয়েছিল। অথচ ইস্ট্যার্ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা; ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ ছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ।


দেড় দশক ধরে কর্মরত থাকা অবস্থায় রয়েছে নিয়োগ-বদলি বাণিজ্যের একটি বড় অভিযোগ রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি ইফতেখার আলী রেজার বিরুদ্ধে । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইস্টার্ন ব্যাংকে একাধিক কর্মকর্তা জানান এমডি ইফতেখার আলী রেজাকে অর্থ ও বিভিন্ন উপহার প্রদান করলেই পাওয়া যায় পদোন্নতি ঘুষ ছাড়া তিনি কিছু বোঝেন না। কারণ অনেক সরকার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু তার ক্ষমতা কমেনি যখন যে সরকার এসেছে তাদের সাথে সখ্যতা তৈরি করে তিনি থেকে গেছেন সকল অনিয়ম দুর্নীতির পর্দার আড়ালে। 


বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে অনিয়ম দুর্নীতি করে ক্রয় করেছেন বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ ! অবৈধ সম্পদ বিবরণীর তালিকা ও ইফতেখার আলী রেজার আরো অনিয়ম দুর্নীতির আরো তথ্য দ্বিতীয় পর্ব তুলে ধরা হবে।

ব্যাংক এর আরও খবর: