শিরোনাম

রোজার ৪র্থ দিনেও সাধারণের নাগালের বাইরে খেজুর, কমেনি অন্য ফলের দামও

 প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন   |   জনদুর্ভোগ

রোজার ৪র্থ দিনেও সাধারণের নাগালের বাইরে খেজুর, কমেনি অন্য ফলের দামও


মাহফুজার রহমান :

​ 

​পবিত্র রমজান মাসের আজ চতুর্থ দিন অতিবাহিত হলেও বাজারে কমেনি ইফতারের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ খেজুরের দাম। উল্টো আমদানিতে উচ্চ শুল্ক এবং বিভিন্ন অজুহাতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের খেজুর। শুধু খেজুরই নয়, আপেল, মাল্টা ও আনারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ফলের দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

​বাজারে বর্তমান চিত্র : 

​রাজধানীর বাদামতলী পাইকারি বাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ মানের খেজুরের দামও এখন কেজিপ্রতি ৩০০ টাকার উপরে। অথচ তিন বছর আগেও এই মানের খেজুর কেজিপ্রতি ৫৫-৬০ টাকায় পাওয়া যেত। অন্যদিকে, প্রিমিয়াম কোয়ালিটির আজোয়া, মেডজুল বা আম্বার খেজুর এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায়, যা সাধারণ মানুষের কাছে এখন অনেকটা বিলাসিতার মতো।

​ব্যবসায়ীদের দাবি ও শুল্কের প্রভাব : 

​ব্যবসায়ীরা এই লাগামহীন দামের জন্য উচ্চ আমদানি শুল্ককে দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ:

​২০২৩ সাল পর্যন্ত খেজুরে কোনো শুল্ক ছিল না, তখন দাম ছিল হাতের নাগালে।

​বর্তমানে কাস্টম ডিউটি ১৫%, ভ্যাট ১৫%, এআইটি ৫% এবং আরডি ৩% পরিশোধ করতে হচ্ছে।

​একটি নির্দিষ্ট মূল্যের উপর শুল্ক না ধরে উচ্চমূল্য নির্ধারণ করায় আমদানিতে অনেক ক্ষেত্রে শুল্কের পরিমাণ খেজুরের ক্রয়মূল্যের চেয়েও বেশি হয়ে যাচ্ছে।

​অন্যান্য ফলের বাজার পরিস্থিতি: ​খেজুরের পাশাপাশি অন্যান্য ফলের দামও চড়া। বাজারে বর্তমানে:

​আপেল, নাশপাতি ও মাল্টা: কেজিপ্রতি ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

​আনার: প্রতি কেজি ৪২০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

​ব্যবসায়ীরা জানান, এসব ফলে কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত ট্যাক্স দিতে হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে।

​ক্রেতাদের ক্ষোভ

​বাজার করতে আসা সাধারণ মানুষ বলছেন, রমজানে সংযমের পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার লোভে জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে উঠেছে। টিসিবির ট্রাক সেলে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইনই প্রমাণ করে যে, সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য ফল কেনা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনদুর্ভোগ এর আরও খবর: