কেরানীগঞ্জ কারাগার নির্মাণে দুর্নীতি-প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের নানা অভিযোগ গণপূর্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল খালেক আকনের বিরুদ্ধে
শেখ ফয়সাল আহমেদ :
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ প্রকল্পের কাজগুলো গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে সম্পাদন হয় এইজন্য সরকার বরাদ্দ দেয় এই অধিদপ্তরে হাজার হাজার কোটি টাকা ।কিন্তু কিছু অসাধু ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে শূন্য থেকে বনে গেছেন শত কোটি টাকার মালিক আবার অনেকেই আছেন পর্দার আড়ালে তেমনি একজন গণপূর্তের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল খালেক আকন্দ!
যার বিরুদ্ধে অতীতেও ছিল ভয়ংকর সব দুর্নীতি আর প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ আছে প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তারপরও তিনি থেকে যান বারবার পর্দার আড়ালে। গত বছর প্রকাশ্য ১০ লাখ টাকা ঘুষের ভিডিও নিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তোলপাড় হয় অবশেষে তাকে ওএসডি করা হয় এটাই কি তার শাস্তি ?
কে এই উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল খালেক আকন্দ ? কি তার ক্ষমতার উৎস ? কেন এত অপরাধ অনিয়ম করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করার পরও তিনি আছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে ?
আব্দুল খালেক আকন্দ শরীয়তপুর জাজিরা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জব্বার আলী আকন কান্দি গ্রামের দরিদ্র বোরহান উদ্দিনের ছেলে। ১৯৯৮ সালে উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন অভিযোগ আছে চাকরি জীবনের শুরুতেই জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতিতে অবৈধ অর্থে নিজের ও পরিবারের ভাগ্যের অর্থনৈতিক চাকা ঘুরিয়ে ফেলেন।
গুরুতর অভিযোগের তালিকায় রয়েছে:
* ২০১৬ সালে ৪০৬ কোটি টাকা ব্যয় কেরানীগঞ্জে নির্মিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয় আনুমানিক প্রায় ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয় তৎকালীন গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয় এবং সেই কমিটি ৩৭ জন প্রকৌশলীকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে সেই তালিকায় ছিলেন উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল খালেক আকন।
* বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিক মন্ত্রী এমপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সখ্যতা ছিল আব্দুল খালেক আকনের।
* গণপূর্ত অধিদপ্তরের শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট চক্রের প্রথম সারির সদস্য ছিলেন তিনি।
শত অভিযোগ ও অনিয়মের দায় তার বিরুদ্ধে থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে থেকে গেছেন বারবার পর্দার আড়ালে। গত বছর একজন ঠিকাদারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষের ভিডিও ভাইরাল হয় তার বিরুদ্ধে পরবর্তীতে গণপূর্ত অধিদপ্তর তাকে ওএসডি করে কিন্তু এটাই কি তার শাস্তি ? কর্মজীবনের অবসরের শেষ প্রান্তে এসে থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে।
আব্দুল খালেক আকন্দ এর রয়েছে তার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র। অবৈধ অর্থে ক্রয় করেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ অভিযোগ আছে রাজধানীর পূর্বাচলে কয়েক কোটি টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন প্লট। এছাড়াও রাজধানীতে রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল প্লট ফ্লাট জমি। শরীয়তপুর জাজিরায় পৌরসভায় নির্মাণ করেছেন ডুপ্লেক্স বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় করেছেন। অভিযোগ আছে আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য অধিকাংশ সম্পদ ক্রয় করেছেন স্ত্রী ও সন্তানদের নামে।
দুর্নীতি দমন কমিশনে বিগত সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল একাধিক অভিযোগ কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সেগুলো আর আলোর মুখ দেখেনি।
নাম প্রকাশে অনচ্ছুক গণপূর্ত অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন ওনার চাকরির মেয়াদ আর বেশি দিন নেই তবে সারা জীবন অনিয়ম দুর্নীতি করে যে পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছেন এখন উনি নিশ্চুপ বসে আছেন খুব দ্রুত তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করা প্রয়োজন যদি দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক তার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে তাহলে তার বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ বেরিয়ে আসবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন শুধু অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক অনুসন্ধান করে এটা একেবারে ভুল ধারণা গণমাধ্যমে প্রকাশিত সকল সংবাদ আমরা গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করে দেখি এবং যদি প্রকাশিত সংবাদের তথ্যে তার সম্পদের বিষয় থাকে তাহলে সেটা অবশ্যই অনুসন্ধান করে দেখা হবে।
অভিযোগ আছে অভিযুক্ত প্রকৌশলীরা বিপুল পরিমাণ অর্থ তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের কাছে ঘুষ দিলে সেই তদন্ত আর আলোর মুখ দেখেনি এবং অভিযুক্ত প্রকৌশলীরা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাহিরে।
এই বিষয়ে জানতে উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল খালেক আকনের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
