শিরোনাম

অনিয়ম প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগের পাহাড় গণপূর্তের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মালেক খসরুর বিরুদ্ধে

 প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন   |   অপরাধ

অনিয়ম প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগের পাহাড় গণপূর্তের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মালেক খসরুর বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক : গণপূর্ত অধিদপ্তর যেন স্বর্ণের খনি! অনেক প্রকৌশলী ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম  প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে বনে গেছেন শত শত কোটি টাকার মালিক সম্প্রতি আলোচনায় এসেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল (ই/এম) শাখা ৫ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মালিক খসরু।

তার বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ নিয়ে একের পর এক শীর্ষ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে সংবাদ গণপূর্ত অধিদপ্তর দুদক সহ বিভিন্ন দপ্তরে তার বিরুদ্ধে জমা হয়েছে একাধিক অভিযোগ কিন্তু তিনি আছেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে।  কোন শাস্তির আওতায় তিনি পড়েন না কোন এক অদৃশ্য ক্ষমতার প্রভাবে। 


কে এই মালেক খসরু ? কি তার ক্ষমতার উৎস ?

টাঙ্গাইল ধনবাড়ী উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের বিলকুকরী গ্রামের দরিদ্র কৃষক মোতালেবের ছেলে মালেক খসরু। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ এমপি আব্দুর রাজ্জাকের সুপারিশে সহকারী প্রকৌশলী(সিভিল) হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন। অভিযোগ আছে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদানের পরপরই জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতিতে।  সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক মন্ত্রী হওয়ার পরে। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আওয়ামী লীগের  কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করতেন। মালেক খসরুর বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় রয়েছে: গণপূর্তের সবচেয়ে বিতর্কিত প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। 


আজিমপুর সরকারি আবাসিক কোয়ার্টার ও ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের দায়িত্বে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে উঠে অনিয়ম দুর্নীতি অভিযোগ । উল্লেখযোগ্য হলো: 

১)আজিমপুরে বহুতল বিশিষ্ট আবাসিক ভবন ও কার পার্কিং প্রকল্পে ভুয়া বিল ভাউচার করে অর্থ আত্মসাৎ।

২) আজিমপুরে প্রকল্পের কাজের বিভিন্ন ধাপে  ঠিকাদারদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে “কমিশন” । 

৩) প্রকল্পে নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ করে অধিক মূল্য দেখিয়ে ভাউচার করে অর্থ আত্মসাৎ ।

৪) ঠিকাদারদের বিল উত্তোলনের সময় নির্দিষ্ট হারে কমিশন আদায়। 

৫) ঘুষ ছাড়া কোন ফাইলে সই না করা।



২০২৪-২৫ অর্থবছরে বহুতল কোয়ার্টার নির্মাণ প্রকল্পে ছিল প্রায় ৭ কোটি ৯১ লাখ টাকার ইলেকট্রিক্যাল সাবস্টেশন ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিগত সরকার আমলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের প্রথম সারির সদস্য তিনি। প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন প্রকৌশলীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিগত সরকারের আমলে বদলি বাণিজ্য করিও হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারকে শেষ মুহূর্তে ই/এম বিভাগ ৫ পিপল পরিমাণ অর্থ ঘুষ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন পদোন্নতি।


ইতিমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে তার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে একাধিক অভিযোগ তবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অনেক কর্মকর্তা ধারণা তার অবৈধ ক্ষমতা ও অর্থের প্রভাবে সেগুলো হয়তো আলোর মুখ দেখবে না। ঘুষ দুর্নীতি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও নানা অনিয়ম করে অবৈধ অর্থে ক্রয় করেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের তালিকায় রয়েছে: 


* রাজধানীর খিলগাঁও কয়েক কোটি টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন একটি বিলাসবহুল ফ্লাট। 

*কয়েক বন্ধু মিলে অবৈধ অর্থ করছেন ডেভেলপার ব্যবসা।

*টাঙ্গাইলের শ্বশুরবাড়ি মধুপুরে ক্রয় করেছেন আনুমানিক প্রায় ২০ বিঘা জমি। 


অবৈধ অর্থ দিয়ে বিভিন্ন ফাইভ স্টার হোটেলে গিয়ে নারীদের নিয়ে ফুর্তি করার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ঠিকাদারের বিল আটকে দিয়ে তাদের অর্থ নিয়ে বিভিন্ন রিসোর্টে গিয়ে রাত্রি  যাপন করেন।


আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য অধিকাংশ সম্পদ পিতা আব্দুল মোতালেব মাতা রাশেদা বেগম স্ত্রী সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে ক্রয় করেছেন। 

এই বিষয়ে জানতে উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মালেক খসরুর  ০১৭.......৭৬৪ এই নাম্বারে জানতে চাইলে তিনি সবকিছু অস্বীকার করে বলেন এগুলো সব মিথ্যা।

প্রকৌশলী  মালিক খসরুর স্ত্রীর নাম্বারে ০১৭ ...৬১১ যোগাযোগ করা হলো তিনি বলেন এই বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না আমার স্বামী বলতে পারবে না।


অপরাধ এর আরও খবর: