শিরোনাম

ইতালিতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জমানো সব শেষ; প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালালেন তরুণ!

 প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন   |   অপরাধ

ইতালিতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জমানো সব শেষ; প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালালেন তরুণ!


মাহফুজার রহমান : ​

 বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে উপার্জিত সব অর্থ আর স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়েছেন এক প্রবাসীর স্ত্রী দৈনিক অর্থনীতির কাগজের কাছে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী স্বামী । দীর্ঘ ১৪ বছরের সংসার ফেলে রেখে প্রতিবেশী এক তরুণের সঙ্গে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানো এই গৃহবধূর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী প্রবাসীর পরিবার। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায়।

​ঘটনার প্রেক্ষাপট : ​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে ইতালির প্রবাসী কাদির হোসাইনের সঙ্গে বিয়ে হয় রোজিনা আক্তার তিশার। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের সংসার ভালোই চলছিল। তাদের চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। কাদির হোসাইন প্রবাসে থেকে তার উপার্জিত সর্বস্ব পাঠাতেন স্ত্রীর কাছে। তিশার কাছেই গচ্ছিত ছিল প্রবাসীর উপার্জিত কয়েক লাখ টাকা ও প্রচুর স্বর্ণালঙ্কার।

​পরকীয়া ও প্রতারণা : ​অভিযোগ উঠেছে, প্রবাসী স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে তিশা প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া হাফেজ নাজমুল নামের এক তরুণের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্বামী প্রবাসে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে অর্থ পাঠাতেন, সেই অর্থ দিয়ে তিশা তার প্রেমিক নাজমুলকে দামি স্মার্টফোন এবং মোটরসাইকেল পর্যন্ত কিনে দিয়েছেন। এমনকি দীর্ঘদিনের প্রবাস জীবনের অর্জিত সঞ্চয়ও নাজমুলের পেছনে তিশা ব্যয় করেছেন বলে পরিবারের অভিযোগ।

​যেভাবে পালালেন : ​গত ১ এপ্রিল দুপুরে বাড়ির অন্য সদস্যরা যখন বাড়িতে ছিলেন না, সেই সুযোগে তিশা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও গচ্ছিত স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে হাফেজ নাজমুলের সাথে পালিয়ে যান। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় পুরো পরিবার এখন দিশেহারা। প্রবাসীর ছোট ভাই উজ্জ্বল জানান, তিশা শুধু তার ভাইয়ের সংসারই ভাঙেননি, বরং তার সারা জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় লুটে নিয়ে তাকে একবারে নিঃস্ব করে দিয়েছেন।

​আইনি ব্যবস্থা ও পুলিশের বক্তব্য : ​এই ঘটনায় কেরানীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা বর্তমানে তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছে।

​কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "আমরা অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

অপরাধ এর আরও খবর: