শিরোনাম

গণপূর্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুদ্দোহার বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ সহ অভিযোগের পাহাড়

 প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৯ অপরাহ্ন   |   অপরাধ

গণপূর্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুদ্দোহার বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ সহ অভিযোগের পাহাড়


নিজস্ব প্রতিবেদক : গণপূর্ত অধিদপ্তরের  অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী  মোঃ শামসুদ্দোহার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, ঘুষ দুর্নীতি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ কমিশন বাণিজ্য সহ অভিযোগের লম্বা তালিকা। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুদ্দোহার ক্ষমতার কাছে সবাই অসহায় তার বিরুদ্ধে থাকা কোন অভিযোগ কখনো কার্যকর হয়নি পরের নি কখনো কোনো শাস্তির আওতায় কিন্তু কেন ? কে এই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শামসুদ্দোহা ? কি তার ক্ষমতার উৎস ? এত অভিযোগ থাকার পরও কেন কোন শাস্তির আওতায় পড়েন না ?


জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ শামসুদ্দোহা ১৯৯৫ সালে ১৫ তম বিসিএস সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের যোগদান করেন অভিযোগ রয়েছে চাকরি জীবনের শুরুতে জড়িয়ে পড়েন না অনিয়ম দুর্নীতিতে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় রয়েছে:


*২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করে হয়ে ওঠেন ব্যাপক প্রভাবশালী জড়িয়ে পড়েন লাগামহীন ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম কমিশন আর টেন্ডারবাজিতে। 


*বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি করেও পেয়েছেন একের পর এক পদোন্নতি।


* ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার কারণে নানা অনিয়ম বিতর্ক থাকার পরও শাস্তির বদলে বারে বারে পেয়েছেন পদোন্নতি ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন।


* ২০১৯ সালে কয়েকটি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়ম ঘুষ দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যে করে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কয়েকজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গণপূর্ত ঠিকাদার সমিতির পক্ষে দুইজন ঠিকাদার একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সেই তালিকায় ছিলেন মোঃ শামসুদ্দোহা, দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক অনিয়ম দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছিলেন কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেটা বন্ধ করে দেন।  

* রমনার উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় একাধিক প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন। 


* মহাখালী নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা অবস্থা কয়েকটি প্রকল্প থেকে ভুয়া বিল ভাউচার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার ক্ষিপ্ত হয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।


* নারায়ণগঞ্জে নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা কালে  গণপূর্ত ভবনে সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম থাকার দায়ে প্রকৌশলী আতিক ওএসডি  হয়েছিলেন কিন্তু এখানে মূল হোতা ছিলেন শামসুদ্দোহা তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে। 


*সাভার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থাকাকালে সরকারি আবাসন প্রকল্পের বড় আকারের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয় তার হাত ধরেই। দরপত্রের প্রাক্কলন, মূল্যায়ন ও অনুমোদনের সময় একটি সিন্ডিকেটের বিশেষ সুবিধা দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।


* ময়মনসিংহে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফ আহমেদের সহযোগিতায় ময়মনসিংহ জোনের কয়েকটি প্রকল্পে রয়েছে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ। তৎকালীন ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সদ্য বরখাস্ত কৃত মোঃ সাইফুজ্জামান চুন্নুর সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি এপিপি বরাদ্দ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের প্রাক্কলন ও অনুমোদনে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। ময়মনসিংহ জোনের মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে দরপত্র আহ্বান ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে শামছুদ্দোহার জড়িত ছিলেন।


* সাবেক পূর্তমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও আওয়ামী লীগের নেতা মির্জা আজমের ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ। 


ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম কমিশন টেন্ডার বদলি বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন, সম্পদের তালিকায় রয়েছে:



১) বসুন্ধারা আবাসিক এলাকার ডি ব্লকে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।


২)বারিধারায় কয়েক কোটি টাকা দিয়ে ৪৯২/৬, রোড ৯, পশ্চিম বারিধারা ডিওএইচএসে কয়েক কোটি টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট ক্রয় করে এখানে বসবাস করেন।


৩) স্ত্রী মাকসুরা রহমানের নামে ক্রয় করেছেন একাধিক গাড়ি।


৪) ছেলে মোঃ মুয়িদ সাদমান ও মেয়ে সামীহা শামস সানজানার নামে ক্রয় করেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকে গচ্ছত রয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ।

৫) জামালপুর জেলার সরিষাবাড়িতে ৩৩ কাঠা জমির উপর নির্মাণ করেছেন একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। 


৬) সরিষাবাড়িতে এক দাগে দশ একর জমি ক্রয় করে একটি রিসোর্ট নির্মাণ করেছেন ২০২৫ সালে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মির্জা আজম এটি উদ্বোধন করার কথা ছিল।


এই বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শামসুদ্দোহার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অপরাধ এর আরও খবর: