পটুয়াখালীতে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতার ওপর হামলা, যুবদলের দুই নেতা গ্রেফতার
মোঃ রাজু (পটুয়াখালী) :
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের এক নেতার ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদল ও যুবদলের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আহত মোঃ মনির মোল্লা (২৯) পটুয়াখালী জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ মার্চ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের পাগলাড় মোড়ে তার বিকাশ এজেন্টের দোকানে অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
হামলায় মনির মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি দুমকি থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে তার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে একই রাতে আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে তারা পুনরায় সংঘবদ্ধভাবে এসে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং দোকানে থাকা প্রায় ৫ লাখ টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যায়। এ সময় দোকানে ভাঙচুর চালানো হয় এবং একটি ভিভো Y17S মোবাইল ফোন (মূল্য আনুমানিক ১৬ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
পুলিশ জানায়, দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বশার (৪০), পিতা মৃত আইয়ুব আলী হাওলাদার এবং মোঃ শাহীন শরীফ (৩৮), পিতা জাহাঙ্গীর শরীফ। তারা উভয়েই লেবুখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে তাদের নিজ এলাকা থেকে আটক করে দুমকি থানা পুলিশ।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করা হয় এবং দ্রুত অভিযানে দুইজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আহত মনির মোল্লা বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির পাশাপাশি দুমকির পাগলার মোড়ে বিকাশের ব্যবসা করে আসছি। কিছু সন্ত্রাসী চাঁদার দাবিতে আমার ওপর হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
