কেরানীগঞ্জে মাদকের 'ওপেন মার্কেট': প্রশাসনের নজরদারির অভাবে ধ্বংসের পথে যুবসমাজ!
মাহফুজার রহমান :
ঢাকার প্রবেশদ্বার কেরানীগঞ্জে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন দৈনিক অর্থনীতির কাগজের কাছে , প্রশাসনের ঢিলেঢালা অভিযান এবং অসাধু চক্রের যোগসাজশে অলিগলিতে এখন মাদকের হাট বসছে। রাজনৈতিক প্রভাব আর আইনি শিথিলতাকে পুঁজি করে মাদক কারবারিরা হয়ে উঠেছে বেপরোয়া, যার ফলে সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজ চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
মাদকের অভয়ারণ্য: অলিগলিতে মরণ নেশা দৈনিক অর্থনীতির কাগজের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বিভিন্ন এলাকা এখন মাদকের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট। বিশেষ করে পোস্তগোলা, বাবুবাজার ও বসিলা সেতু ব্যবহার করে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল রাজধানীতে ঢুকছে। এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশের অভিযানের চেয়ে মাদক কারবারিদের তৎপরতা কয়েকগুণ বেশি।
যেসব এলাকায় চলছে প্রকাশ্য কেনাবেচা : রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে মাদক কেনাবেচা এখন ওপেন সিক্রেট:
শুভাঢ্যা ইউনিয়ন: সাবান ফ্যাক্টরি রোড, মধ্যপাড়া এবং হাবিবনগর এলাকায় প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাদক বিক্রি হয়।
মডেল থানা এলাকা: হযরতপুর, কলাতিয়া ও তারানগর ইউনিয়নে মাদক কারবারিরা শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে।
খোলামেলা আসর: রিকশার গ্যারেজ, স্কুলের মাঠ এমনকি মসজিদের গলিতেও সন্ধ্যার পর মাদক সেবন ও বিক্রির আসর বসে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগসাজশের অভিযোগ :
সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর ছত্রছায়ায় এই ব্যবসা চলছে। এমনকি প্রতিবেদনে পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক পাচারকারীদের সহায়তা করার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। যদিও পুলিশ প্রশাসন দাবি করেছে, মাদকের সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না এবং নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
পুলিশি তথ্যমতে, গত কয়েক মাসে কেরানীগঞ্জের দুই থানায় কয়েকশ মাদক মামলা হয়েছে এবং প্রায় দুই শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে কয়েক হাজার পিস ইয়াবা এবং বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ফেন্সিডিল। তবে স্থানীয়দের মতে, "চুনোপুঁটি" ধরা পড়লেও "রাঘব বোয়ালরা" থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
থানা পুলিশের বক্তব্য : কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি দৈনিক অর্থনীতির কাগজকে জানান, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। তারা বলেন, "মাদকের সাথে জড়িত কোনো পুলিশ সদস্যের প্রমাণ মিললে সাথে সাথে চাকরিচ্যুত করা হবে। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি এবং মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখছি।"
কেরানীগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাদকের এই বিস্তার কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে না, বরং একটি প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দ্রুত সমন্বিত সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
