ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ৩ জন আসামি গ্রেফতার
মাহফুজার রহমান : মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে এক অজ্ঞাতনামা যুবকের ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের ছিনতাইকৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে শ্রীনগর থানাধীন ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে হাঁসাড়া ব্রীজ-২ এর নিচে পানির মধ্যে এক যুবকের মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। সংবাদ পেয়ে শ্রীনগর থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে নিহতের ভাই মো. জাকির হোসেন ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি তার ভাই সোহেল রানা (২৮) হিসেবে সনাক্ত করেন। নিহত সোহেল রানার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার নাগরপাড়া গ্রামে। তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বনগ্রামে ভাড়া বাসায় থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে ঘটনার পর থেকে তার ব্যবহৃত অটোরিকশাটি নিখোঁজ ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের ভাইয়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রীনগর থানায় মামলা নম্বর-২৪ (তারিখ: ২২/০১/২০২৬) ধারা ৩৯৪/৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই তারেক আহমেদকে। পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে সোহেল রানা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বনগ্রাম এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে অটোরিকশাটি ভাড়ায় চালানোর উদ্দেশ্যে বের হন। রাত ৮টার দিকে তিনি তার স্ত্রীকে জানান যে যাত্রী নিয়ে তিনি সিরাজদিখানের নিমতলার দিকে যাচ্ছেন। এরপর রাত ১০টার দিকে ফোন দিলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে তার স্ত্রী দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ অভিযোগ করেন। পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম-এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফিরোজ কবির (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), শ্রীনগর সার্কেল অফিসার মো. আনিছুর রহমান এবং শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা-এর নিবিড় তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্ত-এর নেতৃত্বে একটি চৌকস তদন্ত দল কাজ শুরু করে।
তদন্তে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ সকালে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন—
১. মো. শিমুল (৩৫)
২. মো. আলাউদ্দিন (৩৩)
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি হলেন—
৩. মো. ফারুক (৩৬)
গ্রেফতারকৃত মো. ফারুকের হেফাজত থেকে নিহতের ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা সবাই পেশায় অটোরিকশা চালক এবং নিহত সোহেল রানার পূর্ব পরিচিত। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তারা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সোহেল রানাকে হত্যা করে। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের হাসাড়া এলাকায় তাকে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে অটোরিকশাটি ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা ২০ হাজার টাকা নগদ গ্রহণ করে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উদ্ধারকৃত মালামাল:
নিহতের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন:
১. মো. শিমুল (৩৫), বনগ্রাম, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
২. মো. আলাউদ্দিন (৩৩), মজিদ বেরা, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
৩. মো. ফারুক (৩৬), পশ্চিম বাঘাসুর, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
