শিরোনাম

মব সৃষ্টি করে নিজ কক্ষে সাংবাদিক হেনস্থা করলেন কর অঞ্চল ২২ এর সহকারী কমিশনার হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া!!

 প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন   |   মিডিয়া কর্নার

মব সৃষ্টি করে নিজ কক্ষে সাংবাদিক হেনস্থা করলেন কর অঞ্চল ২২ এর  সহকারী কমিশনার হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া!!


এনবিআর একজন সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করে সাংবাদিকের উপরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগ পত্রের তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার ১২ মে দৈনিক অর্থনীতির কাগজ পত্রিকার  সিটি রিপোর্টার নিজামুদ্দিন একই পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টারের নির্দেশে কর অঞ্চল ২২ এর  সহকারী কমিশনার হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার রুমে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করে।  এ সময় নিজাম উদ্দিন তার সিনিয়র রিপোর্টারের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারের সিডিউল চাইতে গেলে সহকারী কমিশনার হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া ক্ষিপ্ত হয়ে উপকর কমিশনার শাহিনুল ইসলামকে ফোন দিয়ে চার-পাঁচজন সহকর্মীকে দিয়ে মব সৃষ্টি করে সাংবাদিক নিজামুদ্দিনকে হেনস্থা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।  পরবর্তীতে নিজামুদ্দিনকে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে উপ কর কমিশনার শাহিনুল ইসলাম  একটি ভিডিও ধারণ করে বলেন আপনার ১৪ বছরের জেল হবে এইখানে আর কখনো আসবেন না।  এরপর নিজামুদ্দিনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাংবাদিক নিজামুদ্দিন তার অফিসে বিষয়টা অবগত করলে তাৎক্ষণিকভাবে এনবিআর চেয়ারম্যান,  কর অঞ্চল ২২ এর কমিশনার নজরুল আলম চৌধুরীসহ এনবিআর এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টা অবহিত করা হয়। 

সাংবাদিক নিজামুদ্দিনের ভাষ্য, যেহেতু সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সিসিটিভি ক্যামেরা আওতাভুক্ত।  আমি যদি কোন ধরনের অনিয়ম বা অনৈতিক কোন কাজ তাদের সঙ্গে করে থাকি সেটা সিসিটিভির ফুটেজে রেকর্ড আছে। তিনি আরো বলেন গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় অথচ সেখানে একটি সরকারি দপ্তরে একজন সাংবাদিককে মব সৃষ্টি করে লাঞ্ছিত করা হলো। তিনি এর সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করেন। 

দৈনিক অর্থনীতির কাগজ কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর একটি অভিযোগ পাঠিয়েছেন। 

এবিষয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকরা পেশাগত কাজে যে কোন দপ্তরে যেতেই পারেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে না করলে সাংবাদিককে তথ্য প্রদানে অনীহা প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু কোন অবস্থাতেই কোন সাংবাদিকের সাথে অশোভন আচরণ বা হেনস্থা করতে পারেন না। দোষীদের শাস্তি দাবী করে তিনি বলেন, এমন ঘটনার বিচার না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা হুমকির মুখে পড়বে।

ঢাকা সাংবাদিক ইইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, তথ্য পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক মিডিয়াকর্মীর রয়েছে।  দৈনিক অর্থনীতির কাগজ পত্রিকার সিটি রিপোর্টার নিজামুদ্দিনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের শাস্তি দাবী করছি।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলা কিংবা অশোভন আচরণ কোনমতেই কাম্য নয়। এটি আইনগতভাবে ফৌজদারী অপরাধ। আমি আশা করবো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করবেন।

এবিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান বলেন, অতীতে রাজস্ব বোর্ডে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এসেছে বলে আমার জানা নেই। রাজস্ব বোর্ডকে আরও সচেতন হতে হবে এবং যাতে কর্মকর্তারা মিডিয়া বান্ধব হয়ে ওঠতে পারে, সে বিষয়ে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।

মিডিয়া কর্নার এর আরও খবর: