কয়রায় তরমুজ পরিবহনে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক–ব্যবসায়ীরা
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি :
খুলনার কয়রা উপজেলায় তরমুজ পরিবহনকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের বগা গ্রামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তরমুজবাহী গাড়ি থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বগা গ্রামের বাসিন্দা আঠিশ বৈরাগী (পিতা: রবি বৈরাগী) তরমুজ বহনকারী প্রতিটি গাড়ি থেকে ৫০০ টাকা এবং প্রতি বিঘা জমির হিসাবে ২০০ টাকা করে চাঁদা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিলের দিকে যাওয়ার পথে তরমুজবাহী গাড়িগুলো তাঁর কিছু জমির ওপর দিয়ে চলাচল করে। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তিনি জোরপূর্বক এই অর্থ আদায় করছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এতে করে তরমুজ চাষি ও পরিবহনকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
তরমুজ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “মাঠ থেকে তরমুজ নিয়ে আসার সময় তাঁর পথ দিয়ে যেতে হলে আঠিশ বৈরাগী সামনে থেকে গাড়ি আটকে দেন। তিনি বিঘাপ্রতি ২০০ টাকা দাবি করেন। আমি ২০০ টাকা দিতে চাইলে তিনি রাজি হননি। পরে বাধ্য হয়ে ৫০০ টাকা দিয়ে আসতে হয়েছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, তাঁদের কাছ থেকেও একইভাবে টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে তরমুজের গাড়ি চলাচলে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এভাবে চাঁদা আদায়ের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং স্বাভাবিক ব্যবসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা, যাতে এ ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধ করে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিলোক ঘোষ বলেন, “বিষয়টি আমরা কয়রা সাংবাদিক ফোরামের পেজ হতে জেনেছি। একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ এখনও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে অভিযুক্ত আঠিশ বৈরাগীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
