শিরোনাম

প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িকে বৈদ্যুতিক গাড়ির স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব

 প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৩ অপরাহ্ন   |   অর্থ ও বাণিজ্য

প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িকে বৈদ্যুতিক গাড়ির স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব

প্লাগ-ইন হাইব্রিড (পিএইচইভি) গাড়িকে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) সমতুল্য বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। সংগঠনটির মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের গাড়ি দেশে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মঙ্গলবার সকালে আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। বারভিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি বৈদ্যুতিক মোডে ব্যাটারিচালিত হওয়ায় এগুলো কার্যত বৈদ্যুতিক গাড়ির মতোই পরিবেশবান্ধব। তাই সরকারের বিদ্যমান বৈদ্যুতিক যানবাহন নীতিমালার সুবিধা এ গাড়িগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তিনি সিসি অনুযায়ী প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির শুল্কহার ৫০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেন। এছাড়া বারভিডা স্বল্প সিসির গাড়ি ও স্টেশন ওয়াগনের সম্পূরক শুল্ক ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করে। গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত ১০-২৩ আসনের মাইক্রোবাসের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার, ১৬-৪০ আসনের বাসের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে এবং ৪০ আসনের বেশি বাসের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পিকআপ ভ্যানের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার দাবি জানানো হয়। সংগঠনটি আরও প্রস্তাব করেছে, রিকন্ডিশন্ড গাড়ির সংজ্ঞা নির্ধারণ ও অবচয় হিসাবের জন্য বয়স গণনার পদ্ধতি সংশোধন করা, ডিলার কমিশন বিয়োজন প্রত্যাহার এবং অবচয় হার পুনর্নির্ধারণ করা। অনুষ্ঠানে দেশে নিম্নমানের গাড়ির আধিক্যের কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর প্রায় ১৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটছে বলে দাবি করে বারভিডা সভাপতি আবদুল হক আরও বলেন, শুধুমাত্র নিম্নমানের বা থার্ড ক্লাস যানবাহনের কারণেই আমাদের দেশে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ মারা যাচ্ছে। ‘জাপানি বা উন্নত বিশ্বের আধুনিক প্রযুক্তির গাড়ি চলাচলের সুযোগ দিলে প্রাণহানির এই হার কমিয়ে আনা সম্ভব। বর্তমানে দেশে যেসব নিম্নমানের গাড়ি চলছে, সেগুলোর প্রযুক্তি অত্যন্ত পুরনো। জরুরি মুহূর্তে ব্রেক করলে গাড়ি অনেকটা পথ পেরিয়ে গিয়ে থামে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।’ এ সময় বারভিডার সভাপতি বলেন, বর্তমান আমদানি ব্যবস্থায় অসামঞ্জস্যতার কারণে নতুন গাড়ি আমদানিতে কম মূল্য দেখানোসহ কর ফাঁকির ঘটনা ঘটছে। ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে নির্দিষ্ট কর নির্ধারণের প্রস্তাব দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত আরোপ করা হয়েছে, যা অযৌক্তিক। এ হার সর্বোচ্চ ২০০ শতাংশে সীমিত রাখার দাবি জানানো হয়। গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধি বিবেচনায় আমদানিযোগ্য গাড়ির বয়সসীমা পাঁছ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮-১০ বছর করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এতে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির। অন্যদিকে, বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএএমএ) মোটরসাইকেল শিল্পে করের চাপ কমানো, বিচ্ছিন্ন ইঞ্জিন বাধ্যতামূলক করা এবং সিএনজি ও বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলে কর ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ট্যাংকলরি মালিক সমিতি ট্যাংকলরির চেসিস আমদানিতে শুল্ক ছাড় চেয়েছে। সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আসন্ন বাজেটে পরিবহন খাত সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। প্লাগ-ইন হাইব্রিড (পিএইচইভি) হলো এমন এক ধরনের গাড়ি, যেখানে বৈদ্যুতিক মোটর ও জ্বালানিচালিত ইঞ্জিন—দুটোই থাকে। এটি বাইরে থেকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা যায় এবং চার্জ থাকলে নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত পুরোপুরি বিদ্যুতে চলতে পারে। ব্যাটারির চার্জ শেষ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বালানিচালিত ইঞ্জিন চালু হয়। ফলে এটি জ্বালানি সাশ্রয়ী ও তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব একটি প্রযুক্তি। বারভিডার মহাসচিব ও রিয়াজ মোটরসের স্বত্বাধিকারী রিয়াজ রহমান, সাবেক মহাসচিব মোহাম্মাদ শহিদুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। আলোচনায় যুক্ত হয়েছিলেন বাংলাদেশ অটোমোবাইলস অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএএএমএ); বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়ে (প্যাসেঞ্জার ক্যারিয়ার) অ্যাসোসিয়েশন (বিআইডব্লিউপিসিএ); বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএএমএ); বাংলাদেশ শিপ বিল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিএ); এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি); বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন (বিআইসিডিএ); বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যান্ড এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিডিডিএএ); বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা); লঞ্চ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি) এবং বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিভিওএ) এর নেতারা।