ঘুষ দুর্নীতি আওয়ামী লীগের দালালি করে হাজার কোটি টাকা কামিয়ে বহাল তবিয়তে বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক আরিফ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে জাতীয়তাবাদী চেতনা ধারণকারী অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপর চলেছে সীমাহীন নিপীড়ন নির্যাতন ও বৈষম্য, কিন্তু সব শাস্তি মাথা পেতে নিয়ে অনেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আদর্শ বুকে ধারণ করে টিকে ছিলেন আপোষ করেননি ফ্যাসিবাদের দোসরদের সঙ্গে, গ্রহণ করেননি কোন সুযোগ সুবিধা আবার কিছু ব্যক্তি জাতীয়তাবাদী চেতনা বুকে ধারণ করেও দলীয় আদর্শের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদের সঙ্গে দালালি করে ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে কামিয়েছেন হাজার হাজার কোটি টাকা। বিআইডব্লিউটিএ র পরিচালক এ কে এম আরিফ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যায়নরত অবস্থায় ছিলেন ছাত্রদল নেতা, পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত কিন্তু তিনি বিগত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের একাধিক মন্ত্রী এমপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দালালি আর দলীয় আদর্শের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে কামিয়েছেন শত শত কোটি টাকা। ৫ ই আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আবার ভোল পাল্টিয়ে ফিরে গেছেন জাতীয়তাবাদী প্যান্ডেলে।তার বিরুদ্ধে ছিল একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ। আরিফের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের তকমা মুছে ফেলে নিজেকে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে প্রচার করে তৈরি করেছিলেন দুর্নীতিবাজ শক্তিশালী আওয়ামী সিন্ডিকেটের একজন সদস্য হিসেবে নিজেকে।
একে এম আরিফ পাবনার সুজানগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মৃত আলহাজ্ব আব্দুল করিমের ছেলে, তার পরিবার ছিল নিম্ন মধ্যবিত্ত পারিবারিক কিছু জমি জমা ছিল আর্থিক অবস্থা একেবারে অসচ্ছল ছিল না, বাবা চাচারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল, তবে আরিফ চাকরিতে যোগদানের পরপরই ফুলে ফেঁপে ওঠে, টিনশেড বাড়ি ভেঙে নির্মাণ করে একটি আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি পাবনায় ক্রয় করে শত শত বিঘা জমি জমা। বর্তমানে অতিরিক্ত পরিচালক বন্দর ও পরিবহন বিভাগে কর্মরত আছেন।
ছিলেন ছাত্রদল নেতা কিন্তু অর্থের লোভে নিজেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা প্রচার করে সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এবং খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি ও নির্দিষ্ট অংশের লভ্যাংশ দিয়ে অনেক প্রকল্প নিয়েছিল। আওয়ামীলীগের সাবেক এই দুই মন্ত্রী বিআইডব্লিউটিএ থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে, বিভিন্ন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও অবৈধভাবে প্রকল্পের মেয়াদ এবং টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে নিত ইচ্ছামতো। বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকল্প যেন এদের কাছে ছিল টাকা কামানোর মেশিন।
নিজেকে ছাত্রলীগ নেতা প্রমাণ করার জন্য বিআইডব্লিউটিএর অনেক নিরীহ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিএনপি জামাত তকমা লাগিয়ে বিভিন্ন শাস্তির সুপারিশ ও ভয় দেখিয়ে করতেন চাঁদাবজি।
সুযোগ পেলেই দেখা করতেন শেখ হাসিনার সঙ্গে আবার সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে বলতেন আমি শেখ হাসিনার খুব কাছের লোক আমাকে খুব স্নেহ করে পছন্দ করে, তবে ৫ ই আগস্টের পরে সেই সব ছবি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ডিলিট করে দিয়েছেন। শেখ হাসিনার জন্মদিনে তুরাগ নদীতে
নৌকা বাইচের আয়োজন করে শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে নিজের আরো পরিচিতি প্রচার করেন, আবার নিজের পকেটস্থ করেন সরকারি তহবিলের কোটি কোটি টাকা এবং একই সাথে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপনের নামে বিআইডব্লিউটিএর স্টে হোল্ডার ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আরো অন্তত এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।
অভিযোগের শেষ ছিল না একে এম আরিফের বিরুদ্ধে :
একাধিক প্রকাশিত গণমাধ্যমের তথ্যে ও অনুসন্ধানে জানা যায় বড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযানের নামে অন্তত শত কোটি টাকা বাণিজ্য করার অভিযোগ ও টাস্কফোর্সকে না জানিয়ে নদীর সীমানা পিলার স্থাপন, নারায়ণগঞ্জের পাগলায় চায়না কোম্পানির দু’টি জাহাজ নিলামে দেয়া, গাবতলীতে ১৭টি ট্রাক নিলামে দেয়া, নারায়ণগঞ্জে তার বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা, মালিকানাধীন জমি সরকারি বলে অন্যত্র লিজ দেয়া, বন বিভাগের জমি বিক্রি করা, কয়েক ব্যক্তির কাছ থেকে চার কোটি টাকা ঘুষ নেয়া, পুরান ঢাকার ইসলামবাগে ১৮টি বৈধভবন মালিকের প্রতিপক্ষ লোকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সেই ভবনগুলো ভাঙা, সদরঘাটে মসজিদ ভাঙা, লঞ্চের মাস্টারকে মারধর ও পিকনিকের লঞ্চে আর্মি অফিসার ও সচিবকে লাঞ্চিত করাসহ নানা অনিয়ম অপরাধের অভিযোগ কখনোই তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হত না কারণ তার পক্ষে ঢাল হিসেবে দাঁড়াতো নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এবং খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের দলীয় সকল কার্যক্রমে সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি অংশগ্রহণ করতেন।
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে দলীয় মন্ত্রী এমপিদের সাথে সখ্যতা করে ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে করেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি অনুসন্ধান ও প্রকাশিত গণমাধ্যমের তথ্যে দেখা যায় :
বিয়ে করেছেন দুটি,ঢাকার ৩০১ এলিফ্যান্ট রোডে তার স্ত্রী শামীমার নামে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ী, বারিধারা বসুন্ধরাতে ব্লক সি তিনি প্রসাদতম ফ্ল্যাটে বসবাস করে, পাশে ১টি ফ্ল্যাট ক্রয় করে ভাড়া দেওয়া রয়েছে। এছাড়াও তার নামে ও তার পরিবারের নামে পাবনাতে রয়েছে অসংখ্য সম্পত্তি, সুজানগর পাবনাতে রয়েছে অঢেল সম্পদ। পূর্বাচলে প্লট, বসুন্ধরা অংশীদারিত্বে ১টি বিল্ডিং এর কাজ চলছে।
এছাড়াও
১. নারায়নগঞ্জ পোর্টে ৪ বছর চাকুরি করে ২০০ কোটি টাকা সম্পদ অর্জন।
২. স্ত্রীর নামে কর্ণফুলি শিপইয়ার্ড নারায়নগঞ্জের শেয়ার রয়েছে।
৩. স্ত্রীর নামে নারায়নগঞ্জ পোর্টে রয়েছে ডকইয়ার্ড।
৪. সদরঘাট পোর্টে চাকুরিকালীন সময়ে কয়েকশো কোটি টাকা লোপাট।
৫. দুই স্ত্রীর নামে রয়েছে এলিফ্যান্ট রোর্ডে ৫ তলা কমার্শিয়াল বিল্ডিং, বসুন্ধরায় জমি, ফ্ল্যাটসহ শত কোটি টাকার সম্পদ। ভাইয়ের নামে বিপুল সম্পদ।
৬. ঢাকার নদী উদ্ধারের নামে কয়েকশো কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
৭. দুই স্ত্রী ছাড়াও অসংখ্য গার্লফেন্ড।
৮. ব্রিটেনে বাড়ি এবং বিপুল অর্থ পাচার করেছে।
৯. কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক।
১০. ছেলে-মেয়েদের লন্ডনে পড়াশোনার পিছনে বছরে কোটি টাকা খরচ করে।
১১. পাবনা সদর, স্কয়ার রোড,শালগাড়িয়া,পাবনাতে ৬ তলা বাড়ি।
১২. পাবনা সদর, কাচারী পাড়ায় ৫ তলা বাড়ি।
১৩. পাবনা সদর, সাধুপাড়ায় ৪ তলা বাড়ি।
১৪. আলিশান বাড়ি ক্রয়: মালিকের নাম নাদিরা, বাড়ি নং ৩৭,রোড নং -৪, ব্লক-সি, ওয়ার্ড -৩০, মনসুরাবাদ হাউজিং মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
১৫. ফ্ল্যাট নং- ৪৭/৫৫,রোড- ২/এ, ব্লক- সি, ৩৬০০ স্কয়ার ফিট। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা, বর্তমান এখানে বসবাস করছেন।
১৬. বাড়ি নং ৩০১, মুল্য ২২ কোটি টাকা। এলিফেন্ট রোড, ঢাকা। এই বাড়িটি স্ত্রীর নাম ক্রয় করেছেন।
১৭. বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি বিল্ডিং এ ৮ টি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। ব্লকঃ বি-হোল্ডিং নং-৪৭,৪৮,৫২,৪১।
১৮. নিজ জেলা পাবনা সুজা নগর মৌজা-বনখোলা,ঘেতুপাড়া, রামপুর, হাটখালি, খেতুপাড়া এলাকায় জমি কিনেছেন প্রায় ২০০ বিঘা।
১৯. তিনি যেখানে অফিস করেন সেখানে তিনটি রুম ডেকোরেশন করে এসি লাগিয়েছেন। খরচ করেছেন ২৪/২৫ লক্ষ টাকা। অথচ: সেখানে তিনি বসেন না।
দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে অভিযোগ আছে এখানেও তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ব্যয় করে সবকিছু ধামাচাপা দিতে চাচ্ছেন রাজনৈতিক ভুল পাল্টিয়ে এখন আবার বিএনপি'র শীর্ষ রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরীর প্রচেষ্টা করছেন।
বিআইডব্লিউটিএ এর অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করে বলেন উনার মত একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এখনো কিভাবে বহাল আছে যে নিজেকে প্রচার করতেন উনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শেখ হাসিনার স্নেহভাজন ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনের আস্থাভাজন দলীয় আদর্শকে বিসর্জন দিয়ে নিজ দলের অনেক সমর্থককে বরখাস্ত বদলি সহ বিভিন্ন শাস্তির সুপারিশ যার হাত ধরে হয়েছে সে কিভাবে এখনো বহাল আছে? অতি দ্রুত তাকে গ্রেফতার করুক এবং তার সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হোক।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একজন শীর্ষ প্রবীণ নেতার কাছে জানতে চাইলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন আমাদের কাছে সকল তথ্য আছে যারা ফ্যাসিবাদের দোসরদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দলীয় আদর্শকে বিসর্জন দিয়েছে তাদেরকে কখনো জাতীয়তাবাদী ঘরে ফেরানো হবে না এবং বিশেষ করে কোন ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি কখনো বিএনপির রাজনীতি করতে পারবেনা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
