শিরোনাম

স্বৈরাচারের দোসর নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের শত কোটি টাকা আত্মসাৎ কয়েকশো মানুষকে হত্যার অভিযোগ ফখরুল ইসলাম প্রকাশ্য

 প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৫ অপরাহ্ন   |   অপরাধ

স্বৈরাচারের দোসর নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের শত কোটি টাকা আত্মসাৎ কয়েকশো মানুষকে হত্যার অভিযোগ ফখরুল ইসলাম প্রকাশ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রথম সারির দুর্নীতিবাজ সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের ছত্রছায়ায় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের শত শত কোটি টাকা লুটপাটকারি  সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম ফখরুল ইসলাম প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন ,যার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই নৌপরিবহন অধিদপ্তরের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ঘুষ দুর্নীতি, নৌপথে কয়েকশো মানুষের প্রাণহানি, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় ও ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচারকে আবার পুনরায় ফিরিয়ে আনতে এখনো দিয়ে যাচ্ছেন বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের যোগান। 

একে এম  ফখরুল ইসলাম নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও শিপ সার্ভেয়ার ছিলেন, দায়িত্বে থাকাকালীন অবস্থায় ছিলেন নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের সবচেয়ে বিতর্কিত কর্মকর্তা, শাজাহান খানের প্রভাবে ছিলেন নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের অঘোষিত সম্রাট তৎকালীন অধিদপ্তরের একাধিক প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ঘুষ দুর্নীতি নিয়োগ বাণিজ্য ও ত্রুটিপূর্ণ জাহাজের নকশার অনুমোদন দেওয়ার পরেও কোন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে কার্যকর হতো না কারণ স্বয়ং শাজাহান খান তার পাশে ছিলেন অভিযোগ আছে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরে সকল দুর্নীতি অর্থ আত্মসাৎ করে নিজে এক ভাগ খেতেন আর একটা অংশ শাজাহান খানকে পৌঁছে দিতেন যার জন্য তৎকালীন সময়ে পুরো অধিদপ্তরে অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারী দেওয়া লিখিত মৌখিক অভিযোগ তার বিরুদ্ধে কার্যকর হয়নি।

২০১৭ সালে তদন্তে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নৌ মন্ত্রণালয়কে  নির্দেশ দিয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কিন্তু সেখানেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি 

পদ্মা নদীতে ২০১৪ সালের ৪ আগষ্ট ‘এমভি পিনাক-৬’ দুর্ঘটনায় ৪১ জন যাত্রী মৃত্যুবরণ করে এবং ৬৭ জন যাত্রীর সলিল সমাধি ঘটে এবং 

২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এমভি মোস্তফা এবং এমভি নার্গিসের মধ্যে সংঘর্ষ হয়ে পাটুরিয়া নদীতে ৮১ জন যাত্রী মৃত্যুবরণ করেছিল। এসব নৌ-দুর্ঘটনায় তৎকালীন সময়ে তদন্ত কমিটিগুলো ত্রুটিপূর্ণ নকশা অনুমোদনের জন্য ওই কর্মকর্তাকে দায়ী করে প্রতিবেদন দিয়েছিল এতগুলো নিরীহ মানুষের মৃত্যুর পরও তার বিরুদ্ধে কোন হত্যা মামলা হয়নি, কারন এখানেও শাজাহান খান তার পক্ষে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

২০১৭ সালের ১৭ জুলাই ঘুষের ৫ লাখ টাকাসহ মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএ ভবনের নিজ কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করেছিল  দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দেশের সকল শীর্ষ গন মাধ্যমে ঘুষের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল এবং এর ১৫ দিন পরে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল মন্ত্রণালয়, কিন্তু সাময়িক বরখাস্ত হয়ে নৌ-পরিবন অধিদপ্তরে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট এর আগ পর্যন্ত ছিল তার একক অধিপত্য।

২০১৭ সালের ১৭ ই অক্টোবর দুদকের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান বাদী হয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার স্ত্রী বিউটিকে প্রধান আসামি তাকে সহযোগে আসামি করে মামলা দায়ের করেছিলেন কিন্তু এত বছরেও মামলা এখনো তদন্তাধীন আছে অদৃশ্য কারণে।

ঘুষ দুর্নীতির টাকায় করেছেন শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ একে এম ফখরুল ইসলাম লক্ষ্মীপুর সদরের উত্তর জয়পুর পালপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক মোস্তফা কামালের ছেলে ছিল তাদের ভাঙা টিনের ঘর ঘুষ দুর্নীতির টাকায় গ্রামে করেছেন ডুপ্লেক্স বাড়ি বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে ক্রয় করেছেন কয়েকশো বিঘা সম্পত্তি, স্ত্রী মহসিনা ইসলাম, মেয়ে তাসনিমাতুল ইসলাম রূহি ও তাহিয়াতুল ইসলাম নুহার নামে বেনামে রাজধানীর উত্তরা বনানী গুলশান আশুলিয়া গাজীপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় করেছেন একাধিক প্লট ফ্লাট পরিবারের চলাচলের জন্য রয়েছে একাধিক গাড়ি, গাড়িগুলো অন্যের নামে রেজিস্ট্রেশন করা।

২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর অধিকাংশ ফ্যাসিবাদের দোসরদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে কিন্তু সাবেক প্রধান নৌ প্রকৌশলী একেএম ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রকাশ্য এ যেন অন্তর্ভুক্তির সরকারকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখাচ্ছেন হত্যা লুটপাট দুর্নীতি সহ ভয়ংকর সব অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ আছে স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি ফ্যাসিবাদের কার্যক্রম কে গতিশীল করতে বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগান দিচ্ছেন এখনো। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে একেএম ফখরুল ইসলাম ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অপরাধ এর আরও খবর: