শিরোনাম

সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক কি বিতর্কিত এমডি আদিল চৌধুরীর হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ?

 প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ন   |   ব্যাংক

সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক কি বিতর্কিত এমডি আদিল চৌধুরীর হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ?

সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক কি বিতর্কিত এমডি আদিল চৌধুরীর হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ?


শেখ ফয়সাল আহমেদ 

ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে থাকতে পারবেন না; এমন বিধিনিষেধের কারণে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য  আব্দুল আউয়াল মিন্টু চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এর পরিপ্রেক্ষিতেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৫৩৯তম সভায় সর্বসম্মতভাবে  নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ব্যাংক খাতে ব্যাপক সংস্কারের দিকে ফোকাস রেখেছেন।  হয়তো সরকার নজর দিবে প্রথম প্রজন্মের ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংকের সংস্কারেও। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৫ ই আগস্টের পর দেশের ব্যাংক খাতে ব্যাপক লুটপাট অনিয়ম ও সীমাহীন দুর্নীতির গল্প উন্মোচন হয়, এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা প্রথম প্রজন্মের ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক।


বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সিকদার পরিবারের হাতে জিম্মি ছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। হাজার হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ প্রভিশন ঘাটতি লাগামহীন অনিয়ম দুর্নীতির কারণে ভয়াবহ সংকটে ন্যাশনাল ব্যাংক। সেই সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে বলে দাবি করেন ন্যাশনাল ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা কারণ ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ব্যাপক সমালোচিত  অদক্ষ ও বিতর্কিত ব্যক্তি আদিল চৌধুরী ন্যাশনাল ব্যাংকের  ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি হিসেবে নিয়োগ পান। যার বিরুদ্ধে রয়েছে বিগত ব্যাংকের কর্মস্থলে  থাকাকালীন অভিযোগের পাহাড়।


বিভিন্ন ব্যাংকের  গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে অনিয়ম বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ ও কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ধারাবাহিকতায় বেশ কয়েকটি ব্যাংকের এমডি ও চেয়ারম্যানের পদ পরিবর্তন করে দক্ষ বিতর্কহীন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল  কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে অদক্ষতা  অনিয়ম দুর্নীতি ঋণ কেলেঙ্কারি সল্প সময়ে ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বিতর্কিত ব্যক্তি আদিল চৌধুরী অদৃশ্য ক্ষমতা বলে বসেছেন সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকার প্রথম সারির ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি এমডি হিসেবে।


আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ন্যাশনাল ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের আওতায় ১০টি শক্তিশালী ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা হিসেবে ৯২০ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছিল 


ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড় করাতে পারবেন এমডি আদিল চৌধুরী ? নাকি ন্যাশনাল ব্যাংক কে আরো বিতর্কিত করে সংকটে ফেলে দিবেন ? কেন এত বিতর্ক ও অভিযোগ আদিল চৌধুরীর বিরুদ্ধে ? কি আছে অভিযোগের তালিকায় আদিল চৌধুরীর বিরুদ্ধে ?


একাধিক শীর্ষ গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদের তথ্য ও কয়েকটি অভিযোগ পত্র অনুযায়ী জানা যায়: ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আত্মসাৎ,অর্থপাচার, লাগামহীন খেলাপি ঋণ সহ বিভিন্ন অপরাধ অপকর্ম করে ব্যাংক খাতে যারা ভয়াবহ সিন্ডিকেট তৈরি করেছিল সেই তালিকায় আছেন আদিল চৌধুরী।


কারণ তিনি স্বল্প সময়ে ব্যাংকিং জগতে প্রবেশ করেই হয়েছিলেন সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত। নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ থাকার পরও বিগত ফ্যাসিবাদ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবে তিনি শাস্তির বদলে উল্টো পেয়েছিলেন পদোন্নতি। কারণ তার মাথার উপরে হাত ছিল স্বৈরাচার সরকারের একাধিক মন্ত্রী এমপির। তবে  ২০২৪ সালের ৫ ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও বিতর্কিত বেশ কিছু দুর্নীতির দায় অভিযুক্ত আদিল চৌধুরী পুনরায় তার ক্ষমতা আবারো পাকাপোক্ত করেছেন। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠ বেশ কিছু রাজনৈতিক মহলকে ম্যানেজ করে আবারও একটি শীর্ষ ব্যাংকের চেয়ার দখল করে হয়েছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।


কেন এত অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি কিভাবে সংকটে থাকা বেসরকারি ন্যাশনাল  ব্যাংকের শীর্ষ পদে আছেন ? 


সিলেটের হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার পিয়াইন গ্রামের মরহুম আশফাক উদ্দিন চৌধুরীর মেজো ছেলে আদিল চৌধুরী। প্রয়াত আশফাক চৌধুরী ঢাকা ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন।


বেশ কিছু নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী ২০২০ সালে আদিল চৌধুরীর বড় ভাই লোটাস কামাল গ্রুপের চেয়ারম্যান  ড. আদনান চৌধুরীর শশুর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের সুপারিশে আগস্ট মাসে ব্যাংক এশিয়ার  উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে যোগদান করেন। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোতে আদিল চৌধুরীর যথেষ্ট সুনামের সাথে কাজ করে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখলেও নিজ মাতৃভূমিতে হেঁটেছেন উল্টো পথে কারণ অন্য দেশের অর্থনীতি সাবলম্বী করলেও নিজ দেশের অর্থনীতিতে হয়েছেন বিতর্কিত সমালোচিত।


বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সুত্রের তথ্য অনুযায়ী ব্যাংক এশিয়ায় যোগদান করেই ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন কিন্তু শাস্তির বদলে এর কিছুদিন পরেই তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয় অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি হিসেবে।


তৎকালীন ব্যাংক এশিয়ার  এমডি মো. আরফান আলীর  দুর্নীতি-অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, নিয়োগবাণিজ্য- কম্পিউটার কেনার নামে টাকা আত্মসাৎ, ব্যাংকের টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে রাখাসহ সকল অপরাধের সঙ্গে আদিল চৌধুরী জড়িত ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়।কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি ছিলেন পর্দার আড়ালে।


আদিল চৌধুরীর বাবা প্রয়াত আশফাক চৌধুরী দেশের ব্যাংকিং খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও ছেলে বাবার আদর্শের পথে হাঁটেনি বলে অভিযোগ আছে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় আরো আছে: তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল দেশের পুঁজিবাজারের কয়েক লক্ষ বিনিয়োগকারীকে নিঃস্ব করে দিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন,  সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক থেকেও হাতিয়ে নিয়েছেন হাজার হাজার কোটি টাকা এবং তার এই অনিয়ম অপরাধের অনেক কিছুর সঙ্গে জড়িত ছিলেন আদিল চৌধুরী ও তার কথিত ভাই আদনান চৌধুরী।

২০২২ সালে ব্যাংক এশিয়ায় কর্মরত থাকা অবস্থায়  কয়েক কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে আর্থিকভাবে ধুকতে থাকা এলিট পেইন্ট কেমিকাল ইন্ড্রাস্ট্রি  কে  ১৪০ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছিল এবং এই তথ্য ফাঁস  হওয়াতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে সেই ঋণ বাতিল করা হয়েছিল। এই কেলেঙ্কারির সাথে আদিল চৌধুরী জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়।


দেশের ব্যাংকিং জগতে বিতর্ক তৈরি করে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারিশ উপেক্ষা করে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে আবারও তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের সুপারিশ বিতর্কিত অদক্ষ ব্যক্তি আদিল চৌধুরী হয়েছিলেন ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। আদিল চৌধুরী মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে হয়ে ওঠেন একটি ব্যাংকের শীর্ষকর্তা এমডি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে। ব্যাংক এশিয়ার এমডি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর অদক্ষতার কারণে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ব্যাপকভাবে। মাত্র ৮ মাসেই ব্যাংকের বিভিন্ন সূচক হেঁটেছিল পেছনের দিকে। তার অব্যবস্থাপনার জন্য ব্যাংকের আমানত-ঋণ,আমদানি-রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল।

ঘুষের বিনিময়ে দুর্বল ও ভঙ্গুর বিভিন্ন কোম্পানিকে ঋণ দেয়ার ব্যাপারেও সুপারিশ করেছিলেন তিনি।


তার একরোখা কর্মকাণ্ডের জন্য তৎকালীন  পরিচালনা পর্ষদের সাথে দূরত্ব তৈরি হয় এবং পরিচালনা পর্ষদের চাপ ও গণমাধ্যমে তার অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে একের পর এক সংবাদ প্রকাশের জেরে অবশেষে বাধ্য হয়ে মাত্র ৮ মাসের মধ্যে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে পদত্যাগ করেন।  বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ব্যাংক এশিয়া থেকে পদত্যাগ করার পরে আর কোন ব্যাংকে তিনি ডাক পাননি।


 লোটাস কামাল পরিবারের  নিয়ন্ত্রণে ছিল ব্যাংক বিমা  শেয়ার বাজার , শ্রমবাজার দেশের অনেক খাত থেকে এই চক্রটি হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে এদের অধিকাংশের নামে মামলা সহ বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিন্তু এই

পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সখ্যতা থাকার পরেও কোন অভিযোগ আদিল চৌধুরীর নাম প্রকাশ্য আসেনি কোন এক অদৃশ্য প্রভাবের কারণে।  ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে দেশের ব্যাংক খাতে সীমাহীন লুটপাট অনিয়ম দুর্নীতির দায়ে তৎকালীন সিন্ডিকেটের একাধিক সদস্যদের নামে মামলা সহ বিভিন্ন শাস্তির সুপারিশ করা হলেও কোন অভিযোগে আদিল চৌধুরীর নাম আসেনি। 



দেশের ব্যাংকিং ইতিহাস সবচেয়ে বিতর্কিত ব্যক্তি পুনরায় বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও একটি রাজনৈতিক মহলকে ম্যানেজ করে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও লুটপাটের শিকার ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি হিসেবে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নিয়োগ পেয়ে অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার পক্ষে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশ করেন এবং যেখানে উল্লেখ থাকে তিনি ব্যাংক এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন যা একেবারে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন।


আওয়ামী শাসনামলে গত দেড় দশকে সীমাহীন লুটপাটের শিকার হয়েছে দেশের ব্যাংক খাত। ঋণের নামে ডজনখানেক ব্যাংক থেকে এস আলম, বেক্সিমকো লোটাস কামাল সহ গুটিকয় শিল্পগোষ্ঠী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অনিয়ম, দুর্নীতি আর লুটপাটের মাধ্যমে দেশের ব্যাংক খাতকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছিল। সবচেয়ে বেশি লুটপাটের শিকার হয়েছিল ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি।

অতিরিক্ত খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি এবং তারল্য সংকটের কারণে বাংলাদেশের প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক চরম আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ মোট ঋণের প্রায় ৭৫% ছাড়িয়েছিল।  কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী লোকসান ও মূলধন ঘাটতির কারণে এটি এখন 'রেড জোন'ভুক্ত ব্যাংকের তালিকায় । ২০২৪ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ব্যাংকটি ৭৬৩ কোটি টাকার লোকসান গুনেছিল।

ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি ৮,৪৫৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল, যা দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ। গভীর সংকটে থাকা এই ব্যাংকে কিভাবে আদিলুর চৌধুরীর মত একজন অদক্ষ বিতর্কিত দুর্নীতি পরায়ন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হলো? এই প্রশ্ন ঘুরপাক পাক খাচ্ছে দেশের অর্থনীতিবিদদের কাছে ? 


২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ,বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মোটা অংকের তারল্য সহায়তা দেওয়ার পরও ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না, দেশের বেসরকারি খাতের প্রথম প্রজন্মের এই ব্যাংক কারন ন্যাশনাল ব্যাংকের সব সূচকেই অবনতি অব্যাহত রয়েছে। অস্বাভাবিক হারে কমেছে আমানত। বেড়েছে খেলাপি ঋণ। এর বিপরীতে প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতিও বেড়েছে এবং আমানত হারিয়েছে পাঁচ হাজার ২০ কোটি টাকা। সম্প্রতি এই বছর আবারো আলোচনায় তারল্য সংকটে পড়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে ১০০০ কোটি টাকা সহায়তা করেছে তারল্য সংকট কাটানোর জন্য। 


যার অতীত অভিজ্ঞতায় নেই স্বচ্ছতা আছে নানা বিতর্ক ও ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ তাহলে আদিল চৌধুরী কিভাবে ন্যাশনাল ব্যাংকে ঘুরে দাঁড় করাবেন?  বিভিন্ন বিশ্বস্ত  সূত্র  বলছে ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি আদিল চৌধুরী যোগদানের পরপর ই এখানেও রয়েছে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে উনার মত ব্যক্তির হাত ধরে কিভাবে ন্যাশনাল ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াবে ?


ঘুষ দুর্নীতি সীমাহীন অনিয়ম ঋণ জালিয়াতি করে উপার্জিত অবৈধ অর্থে ক্রয় করেছেন দেশে ও দেশের বাহিরে বিপুল পরিমাণ সম্পদ। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র ও অভিযোগ পত্রের  তথ্য অনুযায়ী লোটাস কামালের পরিবারের সাথে দেশের বাহিরে ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করে তৈরি করে তৈরি করেছেন বিশাল সম্রাজ্য।

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুসারে লোটাস কামালের পরিবারের সাথে আদিল চৌধুরীও দুবাই মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, কাতার ও সৌদি আরব বেশ কিছু দেশে লোটাস কামালের সঙ্গে তিনিও বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন।সরকারের আয়কর বিবরণীতে অনেক সম্পদের উল্লেখ না করে রয়েছে কর ফাঁকির অভিযোগ।

এই বিষয়ে জানতে কয়েকজন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন ন্যাশনাল ব্যাংকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে খেলাপি ঋণ আদায় জোরালো ভূমিকা নিতে হবে এবং পরিচালনা পর্ষদ কে একজন দক্ষ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তি কে এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন ,আদিল চৌধুরী ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে নৈতিক স্খলন, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও কর ফাঁকির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থাকলে তাহলে সেটা  মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২-এর ২(শ)(১) এবং ২(শ)(১৯)-এ বর্ণিত অপরাধ এবং অতি দ্রুত আইননক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।


বর্তমান নতুন নির্বাচিত সরকার দেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করার জন্য নানামুখী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন সাথে এটাও বলেছেন ব্যাংকিং খাতে  কোন ধরনের অনিয়ম দুর্নীতিকে ছাড় দিবে না হুঁশিয়ারি দিয়েছে।


এই বিষয়ে  দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি নাম প্রকাশ না করে বলেন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করে অনুসন্ধান করে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


 এই বিষয়ে কথা বলার জন্য ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি আদিল চৌধুরীর সঙ্গে কোনভাবেই যোগাযোগ করা যায়নি তবে অর্থনীতি কাগজের মুখোমুখি হয়েছিলেন ন্যাশনাল ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এনালাইস্ট ও এমডির সেক্রেটারি মোঃ আসিফ রহমান।  তিনি বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামাল এমডি আদিল চৌধুরী বড় ভাইয়ের শশুর না এ তথ্যটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে তার সাথে ঘনিষ্ঠ সখ্যতা থাকার বিষয় জানতে চাইলে বলেন একজন ব্যাংকের এমডির সঙ্গে সরকারের অর্থমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা থাকতেই পারে। 


আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী এমপির সঙ্গে সখ্যতা থাকার বিষয় জানতে চাইলে তিনি এই বিষয়ে কোন উত্তর দেননি।  ব্যাংক এশিয়ায় তার বিভিন্ন অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান। 

একজন এমডি হিসেবে আরো বেশি অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রয়োজন এই প্রশ্নের উত্তরে আসিফ রহমান বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী দুই বছর ডিএমডি ও এএমডি হিসেবে অভিজ্ঞতা থাকলেই হবে এর বেশি প্রয়োজন নেই।

অবৈধ অর্থের দেশে ও বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে আসিফ রহমান বলেন এমডি মহোদয়ের কোন সম্পদ নেই গুলশানে তিনি ভাড়া থাকেন এবং দেশের বাহিরে পাচার করা অর্থের বিষয়টা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং কোন একটি কুচক্রী মহল আদিল চৌধুরীকে সামাজিকভাবে হেও প্রতিপন্ন করার জন্য অপ তথ্য ছড়াচ্ছে তার বিরুদ্ধে।

ব্যাংক এর আরও খবর: