বাজারে দাম চড়া হলেও ইফতারে খেজুরের চাহিদা তুঙ্গে: পুষ্টি ও সুন্নাহর এক অপূর্ব মেলবন্ধন
মাহফুজার রহমান :
ইফতারের দস্তরখানে যে ফলটি ছাড়া সব আয়োজনই অপূর্ণ থেকে যায়, তা হলো খেজুর। তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন; খেজুরের বড় পাইকার দৈনিক অর্থনীতির কাগজকে বলেন আমদানিশুল্ক কমানোর পরেও গত বছরের তুলনায় বাজারে খেজুরের দাম কেজিপ্রতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবুও পুষ্টিগুণ এবং ধর্মীয় সুন্নাহর টানে চড়া দাম উপেক্ষা করেই বাজারে খেজুরের চাহিদা এখন তুঙ্গে।
দামের ঊর্ধ্বগতি বনাম আকাশচুম্বী চাহিদা : বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজধানীর বাদামতলীসহ বড় বড় আড়তগুলোতে খেজুরের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।
জাহিদি খেজুর: নিম্ন ও মধ্যবিত্তের প্রধান পছন্দ জাহিদি খেজুরের দাম গত বছরের তুলনায় কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে।
অন্যান্য জাত: দাব্বাস, নাকাল, মাশরুখ ও আম্বর খেজুরের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।
সবচেয়ে দামি আজওয়া: পবিত্র মদিনার আজওয়া খেজুর মানভেদে ৮০০ থেকে ২৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
দাম বাড়লেও ক্রেতারা বলছেন, ইফতারের পূর্ণতার জন্য তারা সাধ্যমতো খেজুর কিনছেন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে উপকারিতা
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস এম ইয়ার ই মাহবুব দৈনিক অর্থনীতির কাগজকে জানান, খেজুর কেবল একটি ফল নয়, এটি হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের জন্য মহৌষধ। এর প্রধান উপকারিতাগুলো হলো:
হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস: খেজুরে থাকা পটাশিয়াম শরীরের সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমায়। এটি উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
মস্তিষ্কের সুরক্ষা: খেজুরে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের প্রদাহ সৃষ্টিকারী প্রোটিন ‘ইন্টারলিউকিন ৬’-এর মাত্রা কমিয়ে দেয়, যা আলঝেইমারস বা স্মৃতিভ্রম প্রতিরোধে কার্যকর।
সুন্নাহ ও ধর্মীয় তাৎপর্য : ইতিহাস ও ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে জানা যায়, ইফতারে খেজুর যুক্ত হওয়ার মূল কারণ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ। হাদিস শরিফে (মেশকাত: ১৮৯৩) বর্ণিত আছে, নবীজি (সা.) বলেছেন— "যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেননা, তাতে বরকত ও কল্যাণ রয়েছে।" ইবনে সিনা হাসপাতালের চিকিৎসক মো. শামীম মিছির দৈনিক অর্থনীতির কাগজকে বলেন, খেজুর দিয়ে ইফতার করাকে নবীজির (সা.) প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞের অভিমত
হরমোনাল নিউট্রিশনিস্ট ও ইনফার্টিলিটি ডায়েটেশিয়ান হুমায়রা খানম দৈনিক অর্থনীতির কাগজকে বলেন, খেজুরের গুণাগুণ বলে শেষ করার মতো নয়। রোগ-বালাই প্রতিরোধে এটি অগ্রণী ভূমিকা রাখে। বাজারে বর্তমানে মাবরুম, মরিয়ম, সুকারি, সুগাই, কালমি ও আম্বরসহ ১০০টিরও বেশি প্রজাতির খেজুর পাওয়া যাচ্ছে।
রমজানে শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির দ্রুত জোগান দিতে এবং ধর্মীয় বিধান পালনে খেজুরই এখন সাধারণ মানুষের প্রথম পছন্দ।
