শিরোনাম

রানীশংকৈলের পিআইও’র বেপরোয়া দাপট: প্রকাশ্যে ইউপি সদস্যকে পুঁতে ফেলার হুমকি, উৎকোচ দাবির অভিযোগে তোলপাড়

 প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন   |   জেলার খবর

রানীশংকৈলের পিআইও’র বেপরোয়া দাপট: প্রকাশ্যে ইউপি সদস্যকে পুঁতে ফেলার হুমকি, উৎকোচ দাবির অভিযোগে তোলপাড়

পারভেজ হাসান (ঠাকুরগাঁও) : 

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার, প্রকাশ্যে হুমকি ও উৎকোচ দাবির বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে বিরোধের জেরে দিনের আলোয় লোকজনের সামনে এক ইউপি সদস্যকে ‘সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে পুঁতে ফেলার’ হুমকি দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই জেলাজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বাচোর ইউনিয়নের বক্সা সুন্দরপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। ভাইরাল ভিডিওতে পিআইওকে বলতে শোনা যায়, “তোর চেয়ারম্যান পর্যন্ত আব্বা ডাকবে… আমি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা… চেয়ারম্যানসহ গাড়ে (পুঁতে) দিব সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে।” শুধু তাই নয়, তিনি আরও বলেন, “তোমার মেম্বারি খাইতে আমার একটা চিঠিই যথেষ্ট… ঢাকায় পৌঁছাতে যত সময় লাগবে, মেম্বারি যেতে ততটাও লাগবে না… জেলের ভাত খাওয়াবো।”

একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে প্রকাশ্যে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে এ ধরনের ভাষায় হুমকি দিতে পারেন—এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য মো. আক্কাশ আলী অভিযোগ করেন, টিআর ও কাবিখা কর্মসূচির আওতায় পাওয়া বরাদ্দ থেকে পিআইও ২০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন। তিনি রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে প্রকাশ্যে অপমান, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকল্পের ভাগ-বাটোয়ারা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। এবার ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় “ভয়” ভেঙে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অনেকে। ইউনিয়নবাসী বিক্ষোভ মিছিল করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সচেতন মহল বলছে, একজন কর্মকর্তা যদি নিজের পদমর্যাদার দাপট দেখিয়ে জনপ্রতিনিধিদের ‘মাটিতে পুঁতে ফেলার’ হুমকি দেন, তাহলে সাধারণ মানুষের অধিকার কোথায় সুরক্ষিত থাকবে? অভিযুক্ত পিআইও’র বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন কি এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেবে, নাকি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। জেলার মানুষ তাকিয়ে আছে প্রশাসনের কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের দিকে।


জেলার খবর এর আরও খবর: