শিরোনাম

১৫ বছরের রেকর্ড ভাঙল কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লী: লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার কোটি টাকা

 প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন   |   ফেব্রিক্স

১৫ বছরের রেকর্ড ভাঙল কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লী: লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার কোটি টাকা


মাহফুজার রহমান : 

 আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঢাকার কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীতে পাইকারি তৈরি পোশাকের কেনাবেচা এখন তুঙ্গে। ব্যবসায়ীদের দাবি, গত ১৫ বছরের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে এবারের বেচাকেনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শবে বরাতের পর শুরু হওয়া এই ব্যস্ততা এখন আকাশচুম্বী, যা ২০ রমজান পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, এবারের ঈদ মৌসুমে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার পোশাক পাইকারি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে এই সময়ে গড়ে ৫ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার কেনাবেচা হতো। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পোশাক এখন এই পল্লী থেকেই সরবরাহ করা হচ্ছে।

​সমিতির সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা রিপন জানান, এই পল্লীতে প্রায় ১০-১২ হাজার উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে ৬-৭ লাখ শ্রমিক দিনরাত কাজ করছেন। এবারের বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা দেখা যাচ্ছে:

​প্যান্ট: গ্যাবার্ডিন, জিন্স এবং থাইল্যান্ডের উন্নত মানের জিন্স।

​পাঞ্জাবি: ডাচুর পাঞ্জাবি, ইন্ডিয়ান সিল্ক, এবং ভ্যাঙ্কু সিং পাঞ্জাবি।

​অন্যান্য: চায়না পোশাক, লেডিস আইটেম, লেহেঙ্গা এবং বাচ্চাদের বাহারি সব কালেকশন।

​ব্যবসায়ীদের মতে, এখানে ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৪-৫ হাজার টাকা দামের বৈচিত্র্যময় পোশাক পাওয়া যায়। 'মুসলিম কালেকশন'-এর স্বত্বাধিকারী মুসলিম ঢালি জানান, এবার ভারতীয় পোশাকের আমদানি কম হওয়ায় চায়না ও দেশি পোশাকের দাপট বেশি। ২০ রমজানের পর পাইকারি বিক্রি কমে আসবে এবং তখন খুচরা বিক্রি শুরু হবে, যেখানে পাইকারির চেয়ে প্রতি পিসে ১০০-২০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হবে।

​বেচাকেনা বাড়ার সাথে সাথে বুড়িগঙ্গা তীরের এই এলাকায় কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতে কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। প্রায় অর্ধশতাধিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পোশাক পাঠানো হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত চাপের সুযোগ নিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসগুলো বুকিং দিতে দেরি করছে এবং বাড়তি চার্জ আদায় করছে। যদিও কুরিয়ার কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

​এনআরবিসি ব্যাংকের আগানগর শাখার ব্যবস্থাপক বাপ্পি সাহা জানান, এই এলাকায় প্রায় ৩৫টি ব্যাংকের শাখা রয়েছে এবং ঈদ মৌসুমে ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হতে পারে।

​তবে ব্যবসার এমন রমরমা অবস্থায় নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। পর্যাপ্ত পুলিশি টহল না থাকার অভিযোগ থাকলেও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডিবি ও মোবাইল টিমের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

​একনজরে বর্তমান পরিস্থিতি: ​বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা: ১২ হাজার কোটি টাকা। ​উৎপাদন কেন্দ্র: ১০-১২ হাজারটি। ​কর্মসংস্থান: ৬-৭ লাখ শ্রমিক। ​প্রধান মার্কেটসমূহ: আলম টাওয়ার, খাজা মার্কেট, শামসুল আলম মার্কেট, জেলা পরিষদ মার্কেট ইত্যাদি।