শিরোনাম

তরমুজ বোঝাই ট্রলার ছিনতাই: পটুয়াখালীতে উপ-খাদ্য পরিদর্শক কারাগারে

 প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন   |   জেলার খবর

তরমুজ বোঝাই ট্রলার ছিনতাই: পটুয়াখালীতে উপ-খাদ্য পরিদর্শক কারাগারে

মোঃ রাজু (পটুয়াখালী সদর) : 

পটুয়াখালীর বাউফলে তরমুজ বোঝাই ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক উপ-খাদ্য পরিদর্শককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গ্রেপ্তারকৃত কর্মকর্তা মো. অলিউল্লাহ অলি মির্জাগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপ-খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। তিনি বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাউফল পৌরসভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকা থেকে অলিউল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক আরব আলী প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১২ জনের বিরুদ্ধে বাউফল থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গাবালী ও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কয়েকজন কৃষক দীর্ঘদিন ধরে বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমেও তারা চর দিয়ারাকচুয়া এলাকায় তরমুজ আবাদ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই জমি নিজের দাবি করে তরমুজ কাটার জন্য অলিউল্লাহ ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। গত ১৬ মার্চ কৃষকরা প্রায় ৯ হাজার তরমুজ কেটে দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে তুলে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এ সময় অলিউল্লাহর নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। কৃষকরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তরমুজ বোঝাই দুটি ট্রলার ছিনিয়ে নেয়। পরে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি ট্রলার ফেরত দেওয়া হলেও অন্যটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অলিউল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চরের তরমুজ চাষিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

এদিকে, গ্রেপ্তারের পরই অলিউল্লাহকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান মির্জাগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, থানার চিঠি পাওয়ার পর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরিত আদেশে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং কৃষকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

জেলার খবর এর আরও খবর: