বাবুরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভর্তি বানিজ্য, সনদ বানিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
বাবুরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভর্তি বানিজ্য, সনদ বানিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার বাবুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাকির হোসেন এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, ভর্তি বাণিজ্য, সনদ/সার্টিফিকেট বিক্রি, প্রশ্নপত্র ফাঁস করে টাকার বিনিময়ে মেধা তালিকা প্রকাশ, অনিয়ম করে কমপক্ষে ৪০% ছাত্র ছাত্রী ভুয়া ভর্তি দেখিয়ে নতুন বই বিক্রি, প্রত্যয়ন পত্র বিক্রি করে অবৈধ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকবৃন্দ। তাদের অভিযোগ বিদ্যালয় মেরামত, ওয়াশ ব্লকে টাইলস করার কাজ, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান সহ বিভিন্ন কাজে কৌশলে অনিয়ম-দূর্নীতি করে যাচ্ছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাকির হোসেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক জানান উপবৃত্তির জন্য কয়েক বার তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মোবাইল নাম্বার নিয়েছেন কিন্তু শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি পাচ্ছেন না, কি কারনে তারা উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত জানতে চাইলে সন্তোষমূলক কোনো জবাবও দিচ্ছেন না তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে ২১ দফা লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন স্থানীয় অভিভাবক তথা এলাকাবাসীরা।
পাহাড়সম এসব অভিযোগের তোয়াক্কা না করে সহকারী শিক্ষকদের উল্টো হেনস্থা করেই চলেছেন প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন। প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্থানীয় এলাকাবাসীও সোচ্চার। তাঁর অনিয়ম-দুর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতা-অর্থ আত্মসাত সম্পর্কে অবহিতকরণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর গ্রামবাসীর পক্ষে ২৫ জন গণ্যমান্য ব্যক্তি স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন শিক্ষা অফিস বরাবর। দাখিলকৃত অভিযোগে, বাবুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির মিয়া অপর কোনো শিক্ষককে সংশ্লিষ্ট না করে বিদ্যালয়ের সকল আর্থিক লেনদেন নিজেই তৈরি করেন। বিদ্যালয়ের রেজুলেশনে সভাপতির স্বাক্ষর না নিয়ে অনেক সময় সভাপতির স্বাক্ষর নিজে জাল করেন। ২০০০ টাকার ওয়ার্কশিটের জন্য ভাউচার দেখান ১০০০০ টাকারও বেশী। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় আপত্তি ও হয়েছে। বিদ্যালয় অঙ্গনে থাকা নিয়ম লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের বই খাতা এককভাবে বিক্রি করে সেই টাকা আত্মসাৎ, বিভিন্ন জাতীয় দিবসে সরকারের বরাদ্দকৃত টাকায় শিক্ষার্থীদের উপহার দেবার কথা থাকলেও পুরাতন বই ব্যবহার করে ছবি তুলে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ করেন প্রধান শিক্ষক।
অযথা শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে ছবি তোলার নাম করে টাকা আদায়, টিকা নিবন্ধন করে ১০০/২০০ টাকা হারে প্রতি ছাত্র থেকে আদায় করেন। ভুয়া ছাত্র ভর্তি করে উপবৃত্তি, বেশি ছাত্র দেখিয়ে নতুন বই এনে সারা বছর বই বিক্রি, কনটিনজেনন্সি বিল বানানো, ক্যাশ বুক মিলাতে ইচ্ছামত ভাউচার বানিয়ে নিজেই স্বাক্ষর করেন। সহকারী শিক্ষকরা সবসময় থাকেন আতঙ্কে। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের বাইরে গেলে নিয়ম মোতাবেক বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য সহকারী শিক্ষকদের দায়িত্ব দিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটা তিনি করেন না। কোনো প্রশ্ন তুললেই সহকারী শিক্ষকদের সাথে অশোভন আচরণ করাসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এতে মহিলা শিক্ষকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। কিছু অসৎ ২/৩ জন শিক্ষকদের হাত করে নিয়েছেন এবং তাদেরকে অবৈধ সুযোগ দেওয়া, স্কুলে প্রাইভেট ব্যাচ পড়ানো, কতিপয় শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের সাথে হাত মিলিয়ে ইচ্ছামত প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। ঐতিহ্যবাহী বাবুর চর প্রাইমারী স্কুলটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এক সময় সদরপুর উপজেলার মধ্যে বাবুরচর প্রাইমারী স্কুল ছিল সেরা ৫ স্কুলের এর মধ্যে অন্যতম। ৫/৬ টা করে স্কলারশিপ পেতো কিন্তু এই জাকির মাস্টারের স্বেচ্ছাচারিতার জন্য স্কুল টা শেষ হয়ে যাচ্ছে, হারাচ্ছে তার অতীত গৌরব ও ঐতিহ্য।
অভিভাবক মিটিংয়ের নামে প্রধান শিক্ষকের আজ্ঞাবহ অভিভাবক ও বখাটে লোকদের দিয়ে সহকারী শিক্ষকদের বিভিন্ন ক্ষুদ্র দোষ-ত্রুটিগুলোকে বাড়িয়ে বলে অপমানিত করেন। সহকারী শিক্ষকদের জরুরী ছুটির প্রয়োজন হলে প্রধান শিক্ষক ছুটি মঞ্জুজুর না করে সবসময়ই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে যাবার কথা বলেন। এমনকি তিনি ছুটিতে থাকলে, কোন শিক্ষকের জরুরী প্রয়োজনে ছুটির দরকারে ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেন না। হোম ভিজিটের নামে দীর্ঘসময় বিদ্যালয়ে না থেকে অভিভাবকদের বাড়িতে অবস্থান করে সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে রটনা করেন ও বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করেন, গ্রুপিং করার চেষ্টা করেন; যা বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে কলুষিত করছে।
তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কথা বলে প্রায়শই দুপুর একটার পর বিদ্যালয়ে অবস্থান করেন না। নৈমিত্তিক ছুটির ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা না করে তিনি শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিংয়ের জন্য কাউকে ছুটি বেশি দেন, আবার কারও প্রয়োজনে ছুটির দরকার হলে তাদেরকে ছুটি না দিয়েই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দেখিয়ে দেন। এসব অনিয়মের কথা সহকারী শিক্ষকগণ আলোচনা করায় তিনি সহকারী শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। কেউ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে প্রধান শিক্ষক তার আজ্ঞাবহ লোক দিয়ে বিভিন্নভাবে হেনস্থা করে বদলী করার ব্যবস্থা করবেন বলেও হুমকি দেন। এমনি বহু অনিয়মের সাথে প্রধান শিক্ষক জড়িত। প্রধান শিক্ষক জাকির মাস্টারের বিরুদ্ধে স্থানীয় এলাকাবাসীও কয়েক দফা অভিযোগ দাখিল করেন। ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়ে প্রতি ছাত্র-ছাত্রী থেকে ১০০ টাকা করে আদায়, করোনা'র টিকা রেজিস্ট্রেশন বাবদ টাকা আদায়, বই বাণিজ্যের মাধ্যমে টাকা আদায়, বিভিন্ন নির্মাণ কাজের নামে অর্থ আত্মসাত করা প্রধান শিক্ষকের নেশা। বাবুর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে অসংখ্য গ্রামবাসী স্বাক্ষর করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে।
২০১৯; সালে প্রধান শিক্ষকের যোগদানের পর অনেক উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করা হলেও এখন পর্যন্ত কাজ সমাপ্ত করা হয় নি। স্লিপের (স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট) বিলেও করেন ব্যাপক অনিয়ম। চলমান কাজে করছেন ব্যাপক অনিয়ম, বলছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আক্ষেপ করে বলছিলেন এক সিনিয়র সহকারী শিক্ষক। বিদ্যালয়ে রং এর কাজে হচ্ছে বিলম্ব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ও এ নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে আনিত সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক মোঃ জাকির হোসেন জানান, আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অপপ্রচার করা হচ্ছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকেই স্কুলের পাশে চাকলাদার গ্রাম বাড়ি হাওয়ায় প্রধান শিক্ষিক সরকারী বিধিমালা না মেনে বিদ্যালয় চলাকালিন সময়ে জাকির হোসেন একাধিকবার বাসায় যান। পাশাপাশি ফরিদপুর শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন এই প্রধান শিক্ষক। ৩ কন্যার মধ্যে ২ কন্যা সন্তান ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়েন আরেকজন পড়েন ঢাকাতে। মাসে বেতন ৩০,০০০/ টাকা বেতন পেলে ও তিনি কি করে ৭০/৮০ হাজার টাকা মাসে খরচ করে ফরিদপুর শহরে থাকছেন। সময় মত স্কুলে আসেন না, জরুরী প্রয়োজনে পাওয়া যায় না, কোনো প্রত্যয়ন দরকার হলে বলেন ছুটির দিনে শুক্র ও শনিবার আসেন এবং ৫০০/৭০০/১০০০ টাকা নিয়ে আসবেন। আজ ২২/১২/২০২৫ ইং তারিখ, রোজ সোমবার থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তিচ্ছু ছাত্রদেও কাছ থেকে প্রত্যয়ন প্রদান বাবদ প্রতি ছাত্র থেকে ৫০০/১০০০/২০০০ টাকা ঘুষ নিচ্ছেন। আপনারা সরেজমিনে তদন্ত করলেই বর্নিত অনিয়ম ও দুর্নিতীর সত্যতা পাবেন। আজ থেকে স্কুলে ভর্তি জানুয়ারী ২০২৬ পর্যন্ত চলবে শুধু সনদ বিতরণ বানিজ্য। এইভাবে অভিবাবকদের ভুলভাল বুঝিয়ে হয়রানি করে টাকা আদায় করেন। বলেন শুধু আপনাকে প্রত্যয়ন দেওয়ার জন্য আমি মোটরসাইকেলে ৫০০ টাকার তেল পুড়িয়ে ফরিদপুর থেকে স্কুলে আসছি। কেনো টাকা দিবেন না, বলছিলেন এক ভুক্তভোগী।
পারিবারিকভাবে দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক মোঃ জাকির হোসেন। এই জাকির মাস্টারের ছোট ভাই ঢেউখালি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার জাহিদ মিয়া। অবৈধ টাকা আড়াল করার জন্য জাহিদ তহসিলদার করছেন গরুর খামার। কি অনিয়ম ও দুর্নীতিই না করেন তা বলে শেষ করা যাবে না। জাকির মাস্টারের আরেক ছোট বোন সালমা তিনি ও ভূমি অফিসের তহসিলদার। দুর্নীতির দায়ে খেজুরতলা ভূমি অফিস থেকে পাবলিকের তাড়া খেয়ে এখন কাউলিবেরা, ভাঙায় চাকরি করছেন। এরা পরিবারের প্রতিটা সদস্য ঠগ ও দুর্নীতিবাজ।
সরকারী বিধি অনুযায়ী একজন প্রধান শিক্ষকের প্রতিদিন কমপক্ষে ২টি করে ক্লাস নেওয়ার কথা থাকলেও বিধি উপেক্ষা করে তিনি সারাদিনে একটি ক্লাস নেন, অনেক সময় ক্লাস ই নেন না। যার ফলে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর স্টুডেন্ট রেজাল্ট হয় বিপর্যয়। বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষা অফিসে কাজ আছে বলে লাপাত্তা হয়ে যান। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করার সময়ে কোন সহকারী শিক্ষকদের তাঁর সাথে না রেখে একক ভাবে ক্রয় করেন। এতে অনেকবার আর্থিক অস্বচ্ছলতার প্রমান সহ ধরিয়ে দিলে তিনি শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরন করেন। বিদ্যালয় ছুটির আগে অথবা পরে হোম ভিজিট করার কথা থাকলেও তিনি বিদ্যালয় চলাকালিন সময়ে হোম ভিজিটে বের হন। টিফিন পিরিয়ডে প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের মত অনেক শিক্ষার্থী বাসায় চলে যায় আর না আসলেও সেই বিষয়ে তাঁর কোন পদক্ষেপ নেই। ২টা ক্লাস হওয়ার পর ই ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল থেকে বের হয়ে যায়, ক্লাস হয় না বলে তারা বাসায় ফিরে যায়। এর ফলে অভিবাবকদের মনে তিব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রধান শিক্ষকের এদিকে কোনো নজরদারি নাই। আছে শুধু অবৈধ উপায়ে টাকা কামানোর ধান্ধা।
চাকরির বিধিমালয় সাময়িক ছুটি বলতে কোন ছুটি না থাকলেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে বিদ্যালয় থেকে ছুটি নেন। বিদ্যালয় সংক্রান্ত কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে সকল শিক্ষক ও শিক্ষিকার উপস্থিতিতে স্টাফ মিটিং করে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আলোচনা না করে তাঁর মত করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করেন। এর ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তথ্য জানা থেকে বঞ্চিত হন। এছাড়া নানা কারনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাঁর সহকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের অসম্মানজনক ও অশালীন ভাষায় কথা বলে থাকেন। যা বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়। বরাবরের মত বছরের বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে সরকারী অনুদান হিসেবে টাকা বরাদ্দ থাকলেও কিন্তু প্রধান শিক্ষিক কোনো টাকা খরচ না করে সব টাকা টাকার কোন হিসেবে দেন না। এ ভাবে প্রতিটি কাজের সরকারী বাজেট আসলে তিনি তাঁর মত খরচ করে বাকিটাকা লোপাট করে থাকেন। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে যে, প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমান দেওয়া হয়েছে; এ বিষয়ে তদন্তে আসলে সত্যতা মিলবে।
এদিকে লিখিত অভিযোগের সত্যতা জানতে সম্প্রতি তাঁর মুঠোফোন নাম্বারে ফোন দিলে বলেন সদরপুর শিক্ষা অফিসে আসছি। এরপর তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি বিদ্যালয়ের জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। এই কাজ করতে গিয়ে আমি সহকর্মীদের শত্রু হয়েছি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অসংখ্য অভিযোগ, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে ও পাওয়া যায়নি। প্রধান শিক্ষক বলেছেন, কে বা কারা অপপ্রচার করতেছে। বিষয়টি দেখে নিব।
সদরপুর উপজেলার উপজেলা বিদায়ী সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রূপা ঘোষ বলেন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখন লিখিত কোনো অভিযোগ পাই নি, তাই সঠিক লিখিত কমপ্লেইন না পাওয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তিনি পারেননি।
অভিযোগের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন সহকারী শিক্ষক মুঠোফোনে জানান, অভিযোগের ঘটনা পুরোপুরি সত্য। হেড স্যার (প্রধান শিক্ষক, মোবাইল- ০১৭৪৪-৮৪৩২৩৫) তাঁর মনে যা চায় তিনি তাই করেন। আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। হেড স্যারের সিদ্ধান্তের বাইরে কথা বলা যায় না। বিদ্যালয়ে তাঁর অনিয়ম দৃশ্যমান হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার শাহস কারো নেই। তাঁর বিরুদ্ধে কোন শিক্ষক প্রতিবাদ করলে তিনি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানী করবে।
একজন অভিভাবক বলেন, এই প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম, দুর্নিতি রুখতে হবে, ২০১৯ সাল থেকে বাবুরচর ঐতিহ্যবাহী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র পুরিশের এসপি জনাব সিরাজুল হুদা রাসেল, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শরীয়তউল্লাহ, ইউএনও সেলিমুজামান টিপু, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল ও বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তা তৈরী হয়েছেন এই স্কুলের সাবেক ছাত্র। অথচ এই শিক্ষক বাবুরচরে যোগদান পরবর্তী স্কুলের মান তলানিতে ঠেকেছে। এরা বংশ পরম্পরায় দুর্নিতিবাজ এই জাকির মাস্টার কে অন্যত্র বদলি এবং আইনানুগ শাস্তি প্রদান করে এলাকাবাসী ও অভিবাবকদের মুক্তির ব্যবস্থা করলে আমরা কৃতার্থ থাকিব।
তিনি আরো বলেন, সদরপুর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার ও মাহমুদুর রহমান উনার বিরুদ্ধে একশন নিতে গেলেও পরে কি কারণে আর আলোর মুখ দেখে নি। এদিকে অভিভাবকগণ বলেছেন যদি প্রশাসন এই সীমাহীন দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক কে পানিশমেন্ট বদলি না করে তাহলে আমরা সম্মিলিতভাবে উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সদরপুর ইউএনও স্যার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা কে জানাবো।
