ঋণ কেলেঙ্কারি অর্থ আত্মসাৎ অনিয়ম দুর্নীতি অবৈধ সম্পদ অর্জন সহ শত অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এমটিবিবির এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান কি থেকে যাবেন পর্দার আড়ালে ?
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২০০৮ সালে আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি লুটপাট করে অর্থনীতিকে পঙ্গু করে ফেলা হয়। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করে আত্মসাৎ করা হয় এবং এই কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন দেশের একাধিক শীর্ষ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেই তালিকায় আছেন বর্তমান মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। একের পর এক ঋণ কেলেঙ্কারি অর্থ আত্মসাৎ ৎ ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণের সুপারিশ অবৈধ সম্পদ অর্জন সহ অভিযোগের পাহাড় তার বিরুদ্ধে কিন্তু আওয়ামী সরকারের পতন হলেও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এখনো আছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে কোন এক অদৃশ্য ক্ষমতার প্রভাবে।
বিভিন্ন অভিযোগের সূত্র ধরে জানা যায় সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে একজন অন্ধকার জগতের মাফিয়া শত শত অপরাধ অনিয়মের সাথে জড়িত থাকলেও সবকিছু ধামাচাপা দিয়ে উল্টো হয়েছেন ব্যাংকিং জগতের অগ্রদূত বিভিন্ন অপরাধের আমলনামা পিছনে ফেলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের শীর্ষ পদ দখল করে আছেন শাস্তির বদলে বারবার হাতিয়ে নিচ্ছেন বিভিন্ন পুরস্কার কিন্তু কেন ?
কে এই সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ? কি তার ক্ষমতার উৎস ?
সৈয়দ মাহবুবুর রহমান লক্ষ্মীপুরের মোঃ নবী উল্লাহ ও মোবাশ্বেরা বেগমের ছেলে ১৯৮৮ সালে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনের শুরুতে কুড়িয়েছিলেন ব্যাপক সুনাম কিন্তু ২০০৮ সালে আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর হয়ে ওঠেন বেপরোয়া, অবৈধ অর্থের লালসায় জড়িয়ে পড়েন একের পর এক অনিয়ম দুর্নীতি আর ঋণ কেলেঙ্কারিতে। তবে তিনি কখনোই কোনো শাস্তির আওতায় পড়েন নি কারণ তার পেছনে ছিল অদৃশ্য মহা ক্ষমতাধর দেয়াল।
কি আছে সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় ? অভিযোগের লম্বা তালিকায় সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে যা রয়েছে:
প্রাইম ব্যাংকের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় তৎকালীন দেশের আলোচিত বিসমিল্লা গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন, তখন প্রাইম ব্যাংকের এমডি এহসান খসরুর সঙ্গে যোগসাজশ করে ভুয়া কাগজপত্রের বিনিময়ে বিসমিল্লাহ গ্রুপ কে কয়েকশো কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিলেন যার পুরো টাকাটাই হয়েছিল খেলাপি। বিসমিল্লাহ গ্রুপের এই ঋণ কেলেঙ্কারির বিষয় ফাঁস হয়ে গেলে তৎকালীন দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনে সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয় কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেই তদন্ত প্রতিবেদন থেকে তার নাম কেটে দেওয়া হয়।
কারণ সে সময় আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী এমপি মন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সখ্যতা ছিল সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছিলেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের পিছনে যার কারণে অধিকাংশ গণমাধ্যমে তার নাম আসেনি।
সবকিছুর ঊর্ধ্বে শাস্তির বদলে তিনি হাতিয়ে নেন পুরস্কার ২০১০ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও একাধিক এমপি মন্ত্রীর সুপারিশে ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগদান করেন।
ব্র্যাক ব্যাংকে এমডি হিসেবে যোগদান করে ২০১০/২০১৫ সাল পর্যন্ত জড়িয়ে ছিলেন বিভিন্ন অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারিতে। অনেক অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে ভুয়া কাগজপত্রের বিনিময়ে শত শত কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে তিনি হাতিয়ে নেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। তার দেওয়া অধিকাংশ ঋণ গুলোই ছিল খেলাপি। সে সময় স্বল্প পরিচিত এএফসি
হেলথ লিমিটেডকে পাঁচটি ব্যাংক ৪৫ কোটি টাকার বন্ধকি সম্পত্তির মূল্য দেখিয়ে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল এবং এই ঋণ নিয়ে পুরো অর্থ আত্মসাৎ করেছিল সেই প্রতিষ্ঠান। সেই তালিকায় ছিল ব্র্যাক ব্যাংক। সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ঘুষের বিনিময়ে ১২ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছিলেন যার পুরো টাকাটাই হয়ে গিয়েছিল খেলাপি।
বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চাপে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ব্র্যাক ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করেন।
২০১৫ সালে আবারো রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে ঢাকা ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগদান করেন, এখানে এসে শুরু করে দেন আরো ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি জড়িয়ে পড়েন সীমাহীন ঋণ কেলেঙ্কারিতে।
অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে ভুয়া কাগজপত্রের বিনিময়ে একের পর এক ঋণ দেন ঘুষের বিনিময় এবং তার এই অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন দু'দক অনুসন্ধানে মাঠে নামে এবং তার সত্যতা পায়।২০১৮ সালে সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের নানা অনিয়ম বিতর্ক ও অপরাধের তথ্য আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিলে তৎকালীন ঢাকা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দ্বিতীয় মেয়াদে ঢাকা ব্যাংকের যোগদানের কয়েক মাসের মধ্যে তার নিয়োগ বাতিল করে এবং এর কয়েক মাস পরে এমরানুল হককে এমডি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল।
ঢাকা ব্যাংকের এমডি থাকাকালীন সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষগ্রহণ, জালিয়াতি, বিরাট অঙ্কের ঋণ কেলেঙ্কারি, ভুয়া এলসি খোলাসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর তৎকালীন দুদকের উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক স্বাক্ষরিত তাকে নোটিশ পাঠিয়েছিল।
এই ঘটনায় দুদকের ডাকে ৬ নভেম্বর ২০১৯ সালে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়েছিলেন । সৈয়দ মাহবুবুর রহমানকে সেদিন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওইসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।
একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী এর কিছুদিন পরে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তৎকালীন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিককে সরিয়ে দেন। এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেই তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেন যেটা পরে আর আলোর মুখ দেখেনি।
২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারিশ উপেক্ষা করে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী লোটাস কামালের নির্দেশে তাকে মিচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় তার এই নিয়োগে দেশের অনেক বিশিষ্টজন ও অর্থনীতিবিদরা ব্যাপক সমালোচনা করেছিলেন।
একটি প্রবাদ আছে যখন চাঁদ উঠে তখন সমগ্র পৃথিবী আলোকিত হয়ে যায় ঠিক তেমনি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান যখন যে প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছেন সাথে সাথেই তার অনিয়ম দুর্নীতির লাল বাতি জ্বলে উঠতো সকল প্রতিষ্ঠানে এখানেও শুরু করে দেন নানা অনিয়ম বিতর্ক ও ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। মিচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে যোগদান করেই আবারো এখানে গণমাধ্যমকে হাতিয়ার বানান বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে তার পক্ষে বিভিন্ন সুনাম ও সম্ভাবনার গল্প তুলে ধরেন যা একেবারে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন কারণ তিনি পূর্ববর্তী সকল প্রতিষ্ঠানে জড়িয়েছেন ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতিতে।
সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের সাথে আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে গভীর ঘনিষ্ঠতা ছিল। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে যারা অবিরাম লুটপাট করে অর্থনীতিকে পঙ্গু করেছিল সেই সিন্ডিকেটের প্রথম সারির সদস্য ছিলেন সৈয়দ মাহবুবুর রহমান শুধুমাত্র আওয়ামিপন্থী প্রভাবশালী সমর্থক হওয়ার কারণে প্রতিটা অপকর্ম থেকে তিনি নিস্তার পেয়েছেন। ২০২২ সালে আবারো মিচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি হিসেবে নিয়োগ পান।
বিভিন্ন সূত্র ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নথি অনুযায়ী মিচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে খুব বেশি সাফল্য অর্জন করতে পারেননি।
কয়েক হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপি ঝুঁকিতে আমানতকারীরা সংকটে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক কিন্তু তারপরও কেন এই ব্যাংকে একাধিক দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান মিচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি হিসেবে আছেন ?
ঘুষ দুর্নীতি রেন কেলেঙ্কারি অর্থ পাচার সহ নানা অভিযোগ থাকার পরও ২০২২ সালে অর্থমন্ত্রীর লোটাস কামালের সুপারিশে আবারো মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি হিসেবে দ্বিতীয়বার নিয়োগ পান। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পরে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতির গল্প উন্মোচিত হলে অর্থনীতি ধ্বংসের কারিগর একাধিক ব্যাংকের এমডি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয় ও শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হয় বিভিন্ন কর্মকর্তাদের। কিন্তু সৈয়দ মাহবুবুর রহমান স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও এখনো আছেন পর্দার পিছনে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) অবস্থান মোটামুটি ভালো ব্যাংক বলে দাবি করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। যেকোনো ব্যাংকের ঋণ খেলাপি ৫ শতাংশের উপরে গেলেই সেই ব্যাংক আমানতকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে এমটিবির ঋণ খেলাপির পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৭৪ কোটি ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫০২ টাকা। অর্থাৎ ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এর আগের বছর ঋণ খেলাপির পরিমাণ ছিল এক হাজার ৭০৬ কোটি ২১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৯ টাকা। অর্থাৎ ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। অথচ সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বিভিন্ন গণমাধ্যমে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করাচ্ছেন তার পক্ষে তুলে ধরছেন তার নানা সফলতার গল্প।
২০২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাংকিং জীবনের কর্মময় অধ্যায় শেষ করে অবসরে যাবেন, তাহলে কি সৈয়দ মাহবুব রহমানের এই দুর্নীতির গল্প থেকে যাবে পর্দার আড়ালেই ? যার বিরুদ্ধে দেশের ব্যাংকিং খাতে সীমাহীন অনিয়ম শত অভিযোগ তাহলে কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে দেশে আইনের শাসন ?
বর্তমান নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ঘোষণা দিয়েছেন দেশের ব্যাংকিং খাতকে ঢেলে সাজানো হবে অনিয়ম দুর্নীতির দায়ে জড়িত কাউকেই কোন ছাড় দেওয়া হবে না।
অভিযোগের তালিকা সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে এখানেই শেষ নয় অভিযোগের তালিকায় আরো আছে , বিভিন্ন ব্যাংকে কর্মরত থাকা অবস্থায় একাধিক ব্যাংকে নিয়োগ বদলী বাণিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ।
বিভিন্ন সূত্র বলছে অবৈধ অর্থ দিয়ে রাজধানীর গুলশান বনানীর ধানমন্ডি সহ বিভিন্ন জায়গায় ক্রয় করেছেন একাধিক ফ্লাট প্লট দেশের বাহিরেও পাচার করেছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। সরকারের দেওয়া আয়কর বিবরণীতে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য গোপন করে ফাঁকি দিয়েছেন কর। তবে আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য অধিকাংশ সম্পদ স্ত্রী সৈয়দা ফেরদৌস হাসিন ও সন্তানদের নামে ক্রয় করে রেখেছেন।
সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে তার সঙ্গে কানাডা অস্ট্রেলিয়া আমেরিকার সহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ অভিযোগ আছে আগামী বছর ব্যাংকিং সেক্টর থেকে অবসরে গিয়েই পরিবারসহ বিদেশে পাড়ি জমাবেন কারণ বিভিন্ন দেশে রয়েছে তার একাধিক সাম্রাজ্য।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে নৈতিক স্খলন, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও কর ফাঁকির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সেটা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২-এর ২(শ)(১) এবং ২(শ)(১৯)-এ বর্ণিত অপরাধ এবং অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। কোন অপরাধী যদি অপরাধ করে শাস্তি না পায় তাহলে পরবর্তীতে অন্য অপরাধীরা ও সুযোগ পাবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন বিগত সরকারের আমলে যদি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার বিরুদ্ধে থাকা চলমান তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ থাকে তাহলে সেটা খতিয়ে দেখা হবে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এর তথ্য আমরা খুব গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করে দেখি অপরাধী সে যত বড়ই শক্তিশালী হোক না কেন সে অবশ্যই আইনের ঊর্ধ্বে না।
এই বিষয়ে জানতে মিচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি এমনকি খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
