ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম কমিশন টেন্ডার বাণিজ্য করে পর্দার আড়ালে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী ছাত্রলীগ নেতা আশরাফ উদ্দিন
নিজস্ব প্রতিনিধি :
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হরিলুট করা হয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তর ছিল আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সিন্ডিকেটের দখলে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে অনেক দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত সহ বিভিন্ন আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয় আবার অনেকেই ভোল পাল্টে কিছু রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে আছেন বহাল তবিয়তে তাদের মধ্যে অন্যতম বর্তমানে কর্মরত নোয়াখালী গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফ উদ্দিন রিজু তার বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির শত শত কোটি টাকার অনিয়ম টেন্ডার প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ বদলি বাণিজ্য সহ অভিযোগের পাহাড় কিন্তু তিনি আছেন পর্দার আড়ালে কিন্তু কেন ?
কে এই প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন রিজু ? কি তার ক্ষমতার উৎস ?
আশরাফ উদ্দিন রিজু পঞ্চগড় সদরের ৫ নং ওয়ার্ডের রৌশানবাগ গ্রামের ফরিদ আহমেদ ও আনজুমান আরা বেগমের বড় ছেলে, আশরাফ উদ্দিন ছাত্র অবস্থায় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয় ছিলেন খুলনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন।
২০১৩ সালে ছাত্রলীগের কোটায় ৩২ তম বিসিএস ক্যাডারে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন গণপূর্ত ঢাকা ডিভিশন ১। অভিযোগ আছে ঢাকায় পোস্টিং পাওয়ার জন্য একাধিক আওয়ামী লীগ নেতার সুপারিশ করেছিলেন এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় থাকার কারণে দলীয় প্রভাবে কর্মজীবনের শুরুতেই জড়িয়ে পড়েন ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতিতে।
বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন রিজুর বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় রয়েছে :
অভিযোগের তালিকায় সর্বপ্রথমে রয়েছে ৩২ তম বিসিএস পরীক্ষায় সম্পূর্ণভাবে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। গণপূর্ত ঢাকা ডিভিশন ১ যোগদান করেই শুরু করেন কমিশন টেন্ডার বাণিজ্য। ছাত্রলীগের কোটায় বনে যান বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের প্রভাবশালী নেতা।
দলীয় প্রভাবে খুব দ্রুতই পেয়ে যান পদোন্নতি ২০১৬, সালে উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে মিরপুর গণপূর্ত উপবিভাগ ২ যোগদান করে প্রায় চার বছর কর্মরত ছিলেন অনিয়ম ঘুষ দুর্নীতি কমিশন টেন্ডার বাণিজ্যসহ অভিযোগের পাহাড় তৈরি হলে আবারও তাকে শাস্তি মূলক বদলি করা হয় কিন্তু সেটাও ছিল পুরস্কার ২০২১ সালে ঢাকা গণপূর্ত উপ-বিভাগ -৬, নিয়োগ পান।
ঘুষ না দিলে একাধিক ঠিকাদারের বিল আটকে দিতেন। কর্মজীবনে একের পর এক অনিয়ম দুর্নীতি ও নানা বিতর্ক থাকার পরও শাস্তির বদলে বারবার শুধু পেয়েছেন পুরস্কার ২০২৩ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বাগেরহাটে পদায়ন করা হয় কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি গাজীপুরে পোস্টিং নেন।
আওয়ামী সরকারের আমলে ছাত্রলীগের প্রভাবে তিনি কখনো ঢাকা থেকে বদলি হননি। সাবেক মন্ত্রী মুক্তাদির চৌধুরীকে চার কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি নিয়ে গাজীপুরে পোস্টিং পান। গাজীপুরের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীরের সঙ্গে গভীর সখ্যতা তৈরি করে জড়িয়ে পড়েন আরো ভয়াবহ অনিয়ম দুর্নীতিতে। গাজীপুরে জাহাঙ্গীর সিন্ডিকেটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শুরু করেন টেন্ডার বাণিজ্য বিভিন্ন সূত্র বলছে কর্মজীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অনিয়ম দুর্নীতি আর প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন গাজীপুর থেকে। গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীরের সঙ্গে এতটাই বেশি সখ্যতা ছিল বান্ধবীর সহ হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে লাঞ্চ ডিনার করতেন একসাথে।
২০২৪ সালে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে মাথায় লাল ফিতা বেঁধে মোটরসাইকেলে উত্তরায় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন দমন করতে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালী সময়ে গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের সঙ্গে উত্তরা ক্লাবে আন্দোলন দমন করতে একাধিকবার গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করার অভিযোগ।
গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগ থেকে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা লোপাট করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গণপূর্তের শক্তিশালী লুটপাটকারী সিন্ডিকেটের ছিলেন সক্রিয় সদস্য।
নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপন অমান্য করে এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে একাধিক পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে ১৫% ২০% কমিশন নিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন। তার আপন ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান কে ছয় কোটি টাকার একটি কাজ পাইয়ে দিয়েছিলেন যা পিপিআর ও পিপিএ পরিপন্থী ছিল ।
অথচ একজন TEC মেম্বার নিকট অত্মীয় টেন্ডার অংশ গ্রহন করার কোন সুযোগ নেই যা গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নথিপত্র ও ইজিপি পোর্টালে যাচাই করলে সত্য উদ্ঘাটন হবে। সাবেক মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীর প্রভাব খাটিয়ে ২০২৩ সালের জুন মাসে তিন কোটি টাকার RFQ করে কাজ না করে কোটেশন আহবান করার পরদিন বিল পরিশোধ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে ১০% লাভ দিয়ে পুরো টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হাফিজুর রহমান লিকুর সঙ্গে ছিল প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সখ্যতা।
গাজীপুরে কর্মরত থাকা অবস্থায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-বিভাগীয় প্রকোশলীর দপ্তরের সাইন ও সিল মোহর ছাড়া ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠান কে তিন কোটি টাকার বিল পরিশোধ করে ৩০% টাকা কমিশন নিয়েছিলেন এই বিষয়ে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নথিপত্র যাচাই করলে সত্য উন্মোচিত হবে।
প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিনের এই দুর্নীতির বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে তিন সদস্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির আহবায়ক ছিলেন মোঃ আশিক আহমেদ শিবলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রকিউরমেন্ট সেল, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। আরেক সদস্য ছিলেন মোঃ বদরুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সাভার গণপূর্ত সার্কেল যিনি নিজেও একাধিক দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত, ও সদস্য সচিব করা হয়েছিল হাফসার মৌরি, নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রকিউরমেন্ট সেল, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা।
সেই তদন্ত কমিটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম দুর্নীতির তথ্য প্রমাণিত হয়েছিল কিন্তু অবৈধ অর্থ দিয়ে তিনি সবকিছু ধামাচাপা দিয়েছিলেন যার ফলে সেই তদন্ত আর আলোর মুখ দেখেনি।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক ভোল পাল্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে অবৈধ অর্থ দিয়ে একাধিক ছাত্র নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সখ্যতা তৈরি করে নিজের সকল অপকর্ম ধামাচাপা দিয়ে দেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পুরোটা সময় তিনি ঢাকায় কর্মরত ছিলেন দলীয় প্রভাব বিস্তার করে।
২০২৪ সালের ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় অংশগ্রহণ করার বিতর্ক তৈরি হলে প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিনকে ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর ভোলায় বদলি করা হয় কিন্তু বদলি কি শুধু শাস্তি ? এমনটাই প্রশ্ন করেছেন গণপূর্ত অনেক প্রকৌশলী ও ঠিকাদার। তবে তিনি জোর চেষ্টা করেছিলেন রাঙ্গামাটিতে যোগদান করার জন্য কারণ সেখানে ১১৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প ছিল কিন্তু সে যাত্রায় তিনি উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
ভোলা গণপূর্তে যোগদান করেও জড়িয়েছেন নানা অনিয়ম বিতর্কে। গণপূর্তের বিগত সরকারের আমলের টেন্ডারের মাফিয়া খেত নুসরাত হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন আশরাফ উদ্দিন নুসরাত হোসেন গ্রেফতার হলেও আশরাফ উদ্দিন থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে। ভোলা গণপূর্তে নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিনের একাধিক অনিয়ম দুর্নীতির তথ্য উন্মোচিত হলে গত বছর ১০ সেপ্টেম্বর তাকে নোয়াখালী গণপূর্তে আবার বদলি করা হয়।
প্রধান প্রকৌশলী দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক সহ একাধিক দপ্তরে বেশ কয়েকজন ঠিকাদার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন কিন্তু তার রাজনৈতিক প্রভাব ও অবৈধ অর্থের জোরে সেগুলো কখনো আলোর মুখ দেখেনি।
সর্বশেষ মেসার্স হিমালয় ট্রেডার্স এর প্রোপাইটার মোঃ মোবারক হোসেন প্রধান প্রকৌশলী বরাবর তার অনিয়ম-দূর্নীতি নিয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন গাজীপুর গণপূর্ত অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে কিন্তু এখানেও প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিনের ক্ষমতার কাছে সবকিছু অদৃশ্য হয়ে গেছে।
বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ভুয়া বিল ভাউচার করে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। অনেক ঠিকাদার কে তিনি জিম্মি করে বিল আটকে হাতিয়ে নিতেন অর্থ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন প্রকৌশলী বলেন নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিনকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে তার কর্মরত প্রতিটা বিভাগে অনুসন্ধান করলে তার ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতি বের হয়ে আসবে।
ঘুষ দুর্নীতি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ টেন্ডার কমিশন বাণিজ্য বদলি বাণিজ্য করে হয়ে গেছেন শূন্য থেকে শত কোটি টাকার মালিক পঞ্চগড় সদর রংপুর গাজীপুর ঢাকা সহ বিভিন্ন জায়গায় ক্রয় করেছেন বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ, সম্পদ বিবরণীর তালিকা দ্বিতীয় পর্বের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদগুলো দুদক গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করে।
এই বিষয়ে জানতে নোয়াখালী গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন রিজুকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
