শিরোনাম

তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

 প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:১৭ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনে সচিবালয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি দেশের তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে মিলিত হন। 

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্ম-পরিকল্পনা বিষয়ক বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। এই সাক্ষাতে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।


জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারে তিন বাহিনী প্রধানের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। সকালে তিনি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালকদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন। 

এসব বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয় থেকে একযোগে এই উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকগুলো বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারমূলক অবস্থানকে স্পষ্ট করছে।


নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশাসনিক সভায় মনোনিবেশ করেন। বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আয়োজিত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করেন। 

এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ন্যায্যমূল্যে খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার আইনি ও কারিগরি কাঠামো চূড়ান্ত করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন।

বিকেলেও প্রধানমন্ত্রীর দাপ্তরিক সূচিতে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সভা। দুপুর ২টায় তিনি ‘সবুজ বিপ্লব’ ও পরিবেশ রক্ষায় ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং জাতীয় পর্যায়ে নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি নিয়ে আরেকটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বসবেন। দখল হয়ে যাওয়া জলাশয় উদ্ধার এবং কৃষি সেচ ব্যবস্থা উন্নত করতে এই কর্মসূচিটি নতুন সরকারের একটি মেগা প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।  

দ্বিতীয় দিনের এই নিরবচ্ছিন্ন কর্মতৎপরতা থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, নবগঠিত এই সরকার দেশি-বিদেশি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং জনকল্যাণমূলক কাজে শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রমী ভূমিকা পালন করছে।


জাতীয় এর আরও খবর: