শিরোনাম

কালিয়ার প্যাকেজিং এর শেয়ারহোল্ডার সুরক্ষার প্রশ্নে আদালতের দ্বারস্থ মামুন আর রশিদ

 প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ন   |   আইন-আদালত

কালিয়ার প্যাকেজিং এর শেয়ারহোল্ডার সুরক্ষার প্রশ্নে আদালতের দ্বারস্থ মামুন আর রশিদ


বিশেষ প্রতিনিধি: দেশের প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং শিল্পে এক সময়ের সুপরিচিত নাম মামুন আর রশিদ। রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় ১৯৬৮ সালে তার পিতা প্রতিষ্ঠিত লা সানি আর্ট প্রেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। কাজের সূত্র ধরেই দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ১৯৯৭ সালে  যৌথভাবে কার্টন ও প্যাকেজিং ব্যবসা শুরু হয়। গেন্ডারিয়ার রজনী চৌধুরী রোডে পারিবারিক প্রেসের পাশেই গড়ে ওঠে কালিয়ার প্যাকেজিং। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস এ নিবন্ধিত হয় (নিবন্ধন নং সি-৩৯১৩০ (১০৮৮)/৯৯)। মামুন আর রশিদের উৎপাদন ও বিপণন দক্ষতায় কালিয়ার প্যাকেজিং অল্প সময়েই লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ধারাবাহিকভাবে, সাভারের জামগড়ায় স্থাপন করা হয় কালিয়ার প্যাকেজিং লিমিটেড-২, এবং মূল কোম্পানির মুনাফা থেকেই গাজীপুরের বাংলাবাজারে ১০ বিঘা জমির ওপর চালু হয় কালিয়ার রেপ্লিকা লিমিটেড। এই পর্যায়ে কালিয়ার প্যাকেজিং ও রেপ্লিকা-দুটি প্রতিষ্ঠানই শিল্পখাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে।  

 মামুন আর রশিদ এর বক্তব্য মতে , কালিয়ার প্যাকেজিং লিমিটেডে শেয়ার বণ্টন ছিল, মিজানুর রহমান সিনহা- ৩০%, জাহানারা মিজান সিনহা-২০%, তানভির সিনহা- ২০%, মামুন আর রশিদ - ৩০%। শুরুতে শেয়ারহোল্ডারদের যৌথ সিদ্ধান্তে শুধু মাসিক সম্মানী নেওয়া হতো, কোনো লভ্যাংশ বণ্টন করা হয়নি। এতে কোম্পানির সম্পদের মূল্য দ্রুত বাড়তে থাকে।  

কালিয়ার প্যাকেজিং ও কালিয়ার রেপ্লিকা লাভজনক অবস্থানে পৌঁছানোর পরই শুরু হয় বিতর্ক। মামুন আর রশিদের অভিযোগ, বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কৌশলে তার শেয়ার কমিয়ে দেওয়া হয়। কালিয়ার প্যাকেজিং লিমিটেডে শেয়ার ৩০% থাকলেও কোম্পানির মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী কালিয়ার রেপ্লিকা লিমিটেডের তার শেয়ার থাকার কথা ৩০ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তীতে নথিতে দেখা যায়, মামুন আর রশিদের নামে: ৭.৫%, তার স্ত্রী সালেকা মাহমুদের নামে: ২.৫%, মোট: মাত্র ১০%। তিনি জানান, চুক্তিতে স্বাক্ষরের সময় বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি। পরে প্রশ্ন তুললে আশ্বাস দেওয়া হয়-“ঠিক করে দেওয়া হবে।” কিন্তু তা আর কখনোই সংশোধন হয়নি। 


মামুন আর রশিদের ন্যায্য পাওনা দাবি করায় তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে তিনি, ধানমন্ডি থানায় গুলশান থানায়, একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ধানমন্ডি থানায় (১৫৭৩/৩০.১২.২০২০, ১৪/০১.১২.২০১৬),গুলশান থানায় (১৭৯৪/২১.১০.২০২৫,)  আদালতের শরণাপন্ন, দীর্ঘদিন কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি দুটি মামলা দায়ের করেন, হাইকোর্টে কোম্পানি ম্যাটার নং ২৪০/২০২০, ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে সিআর মামলা নং ৬০৮৩/২০২৫। অর্থকষ্টের কারণে তার মা যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে ১৯ জানুয়ারি ২০২৪ মারা যান-এই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিও তুলে ধরেন তিনি। ন্যায়বিচারের দাবিতে গত  ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তার ভাষায়, “অর্থ ও প্রভাব খাটিয়ে কেউ যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে-এটাই আমার লড়াই।” এই অভিযোগগুলো সত্য হলে, তা কেবল একটি ব্যবসায়িক বিরোধ নয়-বরং করপোরেট জবাবদিহি, অর্থপাচার ও শেয়ারহোল্ডার সুরক্ষার প্রশ্নে একটি বড় নজির হয়ে উঠতে পারে। দৈনিক অর্থনীতির কাগজকে বলেন, মামুন আর রশিদ আমি আমার পাওনা বুঝে পেতে চাই। দান দক্ষিণা চাই না। আমাকে কিছু টাকা দিয়ে বছর দশেক আগেই কোম্পানি ছেড়ে চলে যেতে বলেন তারা। কিন্তু আমি তিল তিল করে গড়ে তোলা কোম্পানির সঠিক পাওনা বুঝে পেতে চাই। আমি ভ্যালুয়েশন চাই না। কারণ কোম্পানি থেকে শত শত কোটি টাকা সরিয়ে ফেলেছেন তারা। তাই আমি কালিয়ার প্যাকেজিং ও কালিয়ার রেপ্লিকা লিমিটেডের ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে আমার সঠিক পাওনা চাই। মহামান্য আদালতের সহযোগীতা চাই। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালিয়ার রেপ্লিকা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা বলেন, আপনারা যা লিখুন আমাদের কোনো কিছু আসে যায় না। মামুন আর রশিদের অনুপুস্থিতিতে অনেক লোকের সামনেও যা তা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন তিনি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালিয়ার প্যাকেজিং লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. শাকিল আহমেদ বলেন, পরিচালক মামুন আর রশিদেও সব অভিযোগ সত্য নয়। তার সাথে যে কাগজ রয়েছে ওগুলো ভুয়া। কিন্তু শাকিল সাহেবকে কোম্পানির কাগজপত্র দেখাতে বললে ও রিপোর্ট করার জন্য ডকুমেন্ট চাইলে তিনি ডকুমেন্ট পেতে আপত্তি জানান। বলেন কোনো কিছু দেয়া সম্ভব নয়। দেখে  যান। তখন পিনাকী নামে একটি ফার্মের একটি কপি দেখান। সেটিও সঠিক কীনা তা স্পস্ট করে বলা সম্ভব না।

আইন-আদালত এর আরও খবর: