শিরোনাম

ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম কমিশন টেন্ডার বাণিজ্য : ধরাছোঁয়ার বাইরে গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়া

 প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম কমিশন টেন্ডার বাণিজ্য : ধরাছোঁয়ার বাইরে গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়া


শেখ ফয়সাল আহমেদ  :  বিগত সরকারের আমলে গণপূর্ত অধিদপ্তরে হরিলুট হয়েছে সবচেয়ে বেশি, তবে ২০২৪ সালের ৫ ই আগস্টের পরে অনেক প্রকৌশলী বরখাস্ত, সাময়িক বরখাস্ত, বদলি, মামলা সহ বিভিন্ন শাস্তির আওতায় পড়েছেন, আবার অনেক চিহ্নিত বিতর্কিত  দুর্নীতিবাজ  প্রকৌশলীরা এখনো আছেন বহাল তবিয়তে অদৃশ্য ক্ষমতা বলে তাদের মধ্যে অন্যতম তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়া। 

ঢাকা  গণপূর্ত সার্কেল ৩  তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার  বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন শীর্ষ গণমাধ্যমে তার অনিয়ম দুর্নীতি ও সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ অবৈধ অর্থে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে  একাধিক সংবাদ প্রকাশ বিভিন্ন দপ্তরের জমা পড়েছে একাধিক অভিযোগ রয়েছে নানা বিতর্ক তারপরও কেন তিনি কোন শাস্তির আওতায় পড়েন না ?

তিনি কিভাবে আছেন তার স্বপদে বহাল ? কে এই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়া? কি তার ক্ষমতার উৎস?

কুমিল্লার ফরিদগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের ভাওয়াল গ্রামের শামসুল হক ও খোদেজা বেগমের ছেলে শামসুল হক।১৮ তম বি সি এস ব্যাচ ১৯৯৯ সালে সরকারি প্রকৌশলী হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন। অভিযোগ আছে চাকরি জীবনের শুরুতেই জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতিতে।

তত্ত্ববধায়াক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার সাথে সখ্যতা ছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক প্রভাবশালী নেতা এমপি ও মন্ত্রীর সঙ্গে, যার প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও তিনি কখনো কোন শাস্তির আওতায় পড়েননি এবং পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন বারবার পদোন্নতি। বিভিন্ন অভিযোগ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্যের তালিকায় রয়েছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় যেমন:  আবহাওয়া ও গণপূর্ত অধিদপ্তর  ভয়াবহ দুর্নীতির যেই অভিযোগ ছিল  সেই দুর্নীতির বড় মাস্টারমাইন্ড ছিলেন ঢাকা গণফূর্ত সার্কেল ৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়া।

রাজধানীর উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের আবাসিক ভবনের কয়েক বছর আগে বাতিল হওয়া দরপত্র পুনরায় অনুমোদন দিয়েছিলেন। ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার খরচ ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা দেখিয়ে পুরো টাকা মিলেমিশে আত্মসাৎ করেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়া এবং  আবহাওয়া অধিদপ্তরের একজন পরিচালক ও পরিকল্পনা কমিশনার একজন ইনচার্জ।

নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহ ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি ও কাজ সম্পন্ন না করেও বিল তুলে অর্থ   আত্মসাৎ করেছিলেন। দেশের একাধিক শীর্ষ গণমাধ্যমে সেই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। অর্থের বিনিময়ে অনেক সাংবাদিককে ম্যানেজ করে সংবাদ প্রত্যাহার করেছিলেন। 

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তদন্তে দুর্নীতি  প্রমাণিত হয়েছিল এবং তত্ত্ববোধক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছিল প্রতিবেদনে কিন্তু পরবর্তীতে আর কার্যকর হয়নি অভিযোগ আছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ দিয়ে সেই ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছিলেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের তদন্তে ও প্রমাণিত হয়েছিল তারপরও কোন শাস্তির আওতায় পড়েননি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়া। একজন নির্বাহী প্রকৌশলী  ও  তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল আমীন মিয়ার বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বাতিল করা একটি দরপত্র পুনরায় আহবান করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজটি পাইয়ে দেওয়ার জন্য এই অর্থ ঘুষ নিয়েছিলেন। ১২০ কোটি টাকার ৩টি বেসমেন্ট সহ ১২ তলা অফিস ভবন নির্মাণ, প্রশাসনিক এলাকা, অভ্যন্তরীণ স্যানিটারি ও পানি সরবরাহ এবং অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন কাজ প্রকল্পের দরপত্রটি  যখন আহবান করা হয়েছিল তখনই দরপত্রের রেট কোটেশন পছন্দের ঠিকাদারের একটি প্রতিষ্ঠানকে গোপনে কমিশন নিয়ে দিয়েছিলেন। এন. ডি. ই. সেই দরপত্রে সঠিক ১০ শতাংশ কমে দরপত্রে দর দিয়ে নির্বাচিত হয়েছিল।

তবে সেই অনিয়মের তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে পৌছালে দুদক গত ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে একটি অভিযান পরিচালনা করেছিল এবং দুদকের প্রাথমিক তদন্তে তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার নাম উঠে এসেছিল। দুদকের সেই অভিযানের পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দরপত্রটি বাতিল করে দিয়েছিল এবং সেই দুর্নীতির দায়ে তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন এর নামও এসেছিল কিন্তু এখানেও তিনি কোন শাস্তির আওতায় পড়েননি। ঘুষ নিয়ে আহবান করা দরপত্রের আইডি ছিল ১১২০৮৫৩।

দরপত্রটি বাতিল হয়ে যাওয়ার পরে পুনরায় প্রাক্কলন অনুমোদন ছাড়াই ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী যোগসাজশে দরপত্রটি ১২০৭৪৯৯ আইডিতে আবার আহবান করেছিল। চট্টগ্রাম গণপূর্ত ৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় নুরুল আমিন মিয়া ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি টেন্ডার  কমিশন বাণিজ্য করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন প্রকল্প থেকে আত্মসাৎ করেছেন।

 বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৈরি করেছিলেন একটি সিন্ডিকেট যা এখনো বহাল আছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সবচেয়ে বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে একাধিক মন্ত্রী এমপির সঙ্গে ছিল ঘনিষ্ঠ সখ্যতা। ফ্যাসিবাদ সরকারের আমলে গঠিত সিন্ডিকেটের অনেক সদস্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন শাস্তির আওতায় পড়েছেন কিন্তু তিনি আছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে।  বিগত সরকারের আমলে দলীয়করণ স্বজনপ্রীতির অভিযোগ , বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, অনিয়ম-দুর্নীতির প্রথম  সারিতে ছিলেন।  তার অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ গণপূর্ত অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করলেও তিনি থেকে গেছেন পর্দার আড়ালে অবৈধ ক্ষমতার প্রভাবে। বিভিন্ন প্রকল্প থেকে  কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ  : বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ভুয়া বিল ভাউচার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ  রয়েছে।  সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী,সচিব, রাজনীতিবিদ প্রভাবশালী ঠিকাদার সহ তৎকালীন বিতর্কিত অনেকের  ছিলেন আস্থাভাজন । 

একাধিক অভিযোগ ও নানা বিতর্ক থাকার পরও অবৈধ অর্থ দিয়ে সবকিছু ম্যানেজ করে নেন । বদলি বাণিজ্যে করেও উপার্জন করেছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ ও অনেক দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীকে পুনর্বাসন করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের দায়ের হয়েছে একাধিক অভিযোগ কিন্তু অদৃশ্য কারণে আলোর মুখ দেখেনা। ২০২৪ সালের ৫ ই আগস্টের পর বেশকিছু রাজনৈতিক মহলকে অর্থ ডোনেশন দিয়ে নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেছেন।

ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম কমিশন বাণিজ্য প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে ক্রয় করেছেন বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অভিযোগ আছে চাকরি জীবনের পূর্বে পরিবারে তেমন আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল না কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করে অনিয়ম দুর্নীতি  করে ইতিমধ্যে ক্রয় করেছেন একাধিক প্লট ফ্লাট বাড়ি গাড়ি ।

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য  সূত্রের তথ্যে জানা যায় সম্পদের তালিকায় রয়েছে : তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়া বসবাস করেন রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ৭৬ নম্বর বাড়ির ৫/সি ফ্লাটে এখানে তিনি ভাড়া থাকেন তবে এখানে তিনি প্রতি মাসের ৭০ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া দেন অথচ তার বৈধ আয় দিয়ে এমন বিলাসী জীবন যাপন কোনোভাবেই সম্ভব না।

রাজধানীর গুলশানে কয়েক কোটি টাকা দিয়ে একটি ফ্লাট ক্রয় করেছেন যেটার ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন এর কাজ চলমান রয়েছে এখানেও ব্যয় হচ্ছে প্রায় কোটি কোটি টাকা অনুসন্ধানী তথ্য বলছে সেই বাড়িতে তিনি নতুন আসবাবপত্র সহ কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছেন।  ৭৬ সেগুনবাগিচায় বসবাসরত বাড়ির কেয়ারটেকারের কাছে ছদ্মপরিচয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন স্যার দ্রুত তার নিজের ফ্ল্যাটে গুলশানে চলে যাবেন । পরিবারের সদস্যদের চলাচলের জন্য রয়েছে একটি দামি গাড়ি যেটা ক্রয় করেছেন তার স্ত্রী আয়েশা আক্তারের নামে ।

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার বাবা প্রয়াত শামসুল হকের তেমন একটা আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল না কিন্তু তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেই নিজের ও পরিবারের সদস্যদের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে ফেলেছেন, অবৈধ উপায়ে আজ তিনি শত কোটি টাকার মালিক। কুমিল্লার ভাওয়াল গ্রামে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি।  কুমিল্লা শহরেও রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ। রাজধানী ঢাকায় রয়েছে আরও একাধিক ফ্লাট প্লট জমি স্ত্রী সন্তানদের নামে। বিভিন্ন ব্যাংকে ছেলে আরিয়ান নাফিস ও মেয়ে নিশাত নায়লার নামে বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত রয়েছে। 

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুসারে আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য অধিকাংশ সম্পদ স্ত্রী, আয়েশা আক্তার, ছেলে আরিয়ান নাফিস, মেয়ে নিশাত নায়লা,শশুর, শাশুড়ি সহ আরো বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে ক্রয় করেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন  প্রকৌশলী বলেন নুরুল আমিন মিয়ার বিরুদ্ধে আদৌ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে কিন্তু কোন লাভ হয়নি কারণ তিনি অনেক ধূর্ত ও চালাক সবকিছু অদৃশ্য করে দেন তবে তার দায়িত্বে থাকা সকল প্রকল্প গুলো পুনরায় তদন্ত করলে তার সব অনিয়ম দুর্নীতি বের হয়ে আসবে।

সাংবাদিকদের কাছে তিনি কখনো ধরা দেন না প্রকাশ্য কথা বলেন না এবং তাকে কেউ ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেন না। দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন যদি তার বিরুদ্ধে পূর্বেও কোন অভিযোগ থেকে থাকে সেটা খতিয়ে দেখা হবে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত সকল সংবাদ আমরা গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করে দেখাবো, কোন সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জন করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।এই বিষয়ে জানতে তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি এমনকি খুদে বার্তা পাঠিয়ে কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

জাতীয় এর আরও খবর: