শিরোনাম

রেলওয়ের হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেও বহাল তবিয়তে আনোয়ারুল ইসলাম

 প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

রেলওয়ের হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেও বহাল তবিয়তে আনোয়ারুল ইসলাম


শেখ ফয়সাল আহমেদ  : 

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে সবচেয়ে বেশি নজিরবিহীন লুটপাট দুর্নীতি অনিয়ম হয়েছে বিগত  আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। গত ১৫ বছরে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের বাজেট দেওয়া হয়েছিল রেলওয়ে। যার ৯০ শতাংশ নতুন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল। এই অর্থ তৎকালীন সরকারের একাধিক মন্ত্রী এমপিদের লুটপাটের সহযোগী হিসেবে ছিলেন রেলের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রভাবশালী কর্মকর্তাগণ। এদের প্রভাবে রেলের অন্যান্য বাকি কর্মকর্তারা ছিলেন একপ্রকার অসহায়, বঞ্চিত ও নির্যাতিত। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ শাস্তির সুপারিশ কোন কিছু কার্যকর হয়নি বিগত সরকারের আমলে, ২০২৪ সালে ৫ই আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে অন্তবর্তী কালীন সরকার বিভিন্ন দপ্তরে স্বৈরাচারের দোসরদের বদলি বরখাস্ত সহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে কিন্তু উল্টো পথে চলছে বাংলাদেশ রেলওয়ে হাজার কোটি টাকা লুটপাটকারী একাধিক কর্মকর্তা এখনো রেলে রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে এদের মধ্যে অন্যতম  হচ্ছেন  রেলের সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ারুল ইসলাম।  সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল ইসলাম এক অদৃশ্য ক্ষমতার অধিকারী একের পর এক লাগামহীন দুর্নীতি অনিয়ম ও লুটপাট করে পেয়েছেন শাস্তির বদলে পদোন্নতি আর এখনো আছেন বহাল তবিয়তে কি তার ক্ষমতার উৎস ?

আনোয়ারুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও সদরের দক্ষিণ গ্রামের স্কুল শিক্ষক ফাহিম উদ্দিন এর ছেলে। ফাহিম উদ্দিনকে এলাকার লোকজন ফহিম মাস্টার হিসেবে জানে।  ছাত্র জীবনে ছিলেন এ নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাথে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত, ২০০৫ সনে রেলওয়েতে যোগদান করেন এরপরে নেমে পড়েন ঘুষ দুর্নীতি  সহ নানা অনিয়মে তবে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর হয়ে ওঠেন আরো বেপরোয়া দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ অর্থে হয়ে উঠেন বিপুল সম্পদের মালিক।

একাধিক গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য ও রেলের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট থেকে জানা যায় তৎকালীন প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক রুহুল কাদের আজাদ ও সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল হোসেন সরকার, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল ইসলাম, এমদাদুর রহমান, প্রকৌশলী মারুফ ইলেকট্রনিক প্রকৌশলী সাকের আহমেদসহ এ চক্রের যোগসাজশে পূর্ব রেলের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিভিন্ন মেশিনারিজ মালপত্র, বাজারদরের চেয়ে বেশি দাম দেখিয়ে লুট করেছেন রেলের কোটি কোটি টাকা।

এছাড়াও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পূর্ব রেলের কোচের এসি মেরামতের জন্য বিভিন্ন মালপত্র কেনা হয়। এক্ষেত্রেও প্রকৃত বাজারদরের চেয়ে বেশি দাম নেয় তারা। এছাড়া, বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কেনা হয়েছে প্রকৃত বাজারদরের চেয়ে কয়েকগুণ দামে। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

অভিযোগ আছে তৎকালীন সহকারি  সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল ইসলামের পছন্দের  কয়েকজন ঠিকাদার দিয়েও নামে/বেনামে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। দীর্ঘদিন এমন কাণ্ড করতে থাকলেও নিরব থাকতো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কারণ তার ছিল ব্যাপক দলীয় প্রভাব।

২০২০ সালে পূর্বাঞ্চল রেলের ২৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করোনা সুরক্ষাসামগ্রী ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছিল রেলওয়ের উচ্চ পর্যায়ে গঠিত তদন্ত কমিটি।  এই ২৯ কর্মকর্তার ভিতরে আনোয়ারুল ইসলাম ছিলেন অন্যতম অভিযুক্ত কিন্তু শাস্তির বদলে তিনি অতিরিক্ত সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।আনোয়ারুল ইসলামের এই ক্ষমতার উৎস ছিল পঞ্চগড় ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন । ২০১৯ সালে নুর ইসলাম সুজন রেলমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরে চট্টগ্রাম প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরে প্রায় পাঁচ মন মিষ্টি বিতরণ করেন আনোয়ারুল ইসলাম। এরপর থেকে তাকে আর কেউ দাবিয়ে রাখতে পারেনি। করেছেন  নজিরবিহীনভাবে লুটপাট ও অর্থ আত্মসাৎ । 

চট্টগ্রামে তিনি পরিচালক ইনভেন্ট্রি কন্ট্রোলের পাশাপাশি সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক/পূর্ব হিসেবে একাধিক দায়িত্বে ছিলেন ,আনোয়ারূল প্রায় ১৭ বছর যাবত চট্টগ্রাম সরঞ্জাম বিভাগে বিভিন্ন লাভজনক পদে কর্মরত ছিলেন ,এই দীর্ঘ সময়ে একই সময়ে ২/৩ টা পদের দায়িত্ব পালন করায় তিনি কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছেন। অভিযোগ আছে একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীকে বিএনপি জামায়াতের তকমা লাগিয়ে বিভিন্ন শাস্তি হয়রানি ও মামলা বাণিজ্য করতেন, বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছেন তিনি এবং অবৈধ অর্থ দিয়ে এখনো বহাল তবিয়তে বসে আছেন তার মত একজন ভয়ংকর স্বৈরাচারের দোসর কিভাবে পদে বহাল আছে ?এটা অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি করেন অনেকে।

বর্তমানে আনোয়ারুল ইসলাম সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক পশ্চিম রাজশাহীর দায়িত্বে আছেন, অভিযোগ আছে ঘুষ দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছে রাজধানী ঢাকা ঠাকুরগাঁও ও চট্টগ্রামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন নামে বেনামে। 

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে আনোয়ারুল ইসলাম স্ত্রী শাহনাজ পারভীন ও দুই ছেলে শাফফাত সাদিক,সাদাফাত সাজিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। তবে অনেকেই ধারণা করছেন আবারও তিনি অবৈধ অর্থ দিয়ে হয়তো আইনের ফাক দিয়ে বের হয়ে যাবেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নিয়ম মেনে কাজ করেছি।

জাতীয় এর আরও খবর: