৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে

৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে


দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বিঘ্ন রাখতে এবং অধিকাংশ নাগরিককে ভ্যাক্সিনের আওতায় নিয়ে আসতে এখন থেকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে দেশের সকল নাগরিককেই ভ্যাক্সিন প্রদান করা হবে। করোনাভাইরাস মহামারীতে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও শিক্ষক এদেরকে আগে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া তাদের পরিবারের ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যেসব সদস্য আছে, তাদেরকেও টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছি আমরা। এখন থেকে এটা কার্যকর। সুরক্ষা অ্যাপে এটা দিয়ে দিচ্ছি সেই অনুযায়ী কাজ হবে। বর্তমানে সরকারের হাতে ১ কোটির উপরে ভ্যাক্সিন রয়েছে। এছাড়া দেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ২১ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত ‘কোভিডের ৩য় ঢেউ মোকাবিলায় কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধ, অক্সিজেন সংকট, হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা ও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি’ শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক একথা বলেন।
বাংলাদেশে গত ২৬ জানুয়ারি টিকার জন্য নিবন্ধন শুরু হয়। শুরুতে ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের টিকার জন্য নিবন্ধন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে তা তিন ধাপে কমিয়ে ৩০ বছরে নামিয়ে আনা হয়। অর্থাৎ যাদের বয়স ৩০ বছর বা তার বেশি, কেবল তারাই এখন সুরক্ষা প্ল্যাটফর্মের ওয়েবসাইটে গিয়ে টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারছেন।
এর মধ্যে চীনের তিন কোটি, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি, কোভ্যাক্সের সাত কোটি ডোজ, রাশিয়ার এক কোটি ডোজ ও জনসন অ্যান্ড জনসনের সাত কোটি ডোজ রয়েছে। এই ২১ কোটি ডোজ যদি সময় মতো পাই তাহলে ৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে ভারত হয়ে ঢাকায় এসেছে ২৫০টি ভেন্টিলেটর।শনিবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টায় ভেন্টিলেটরগুলো দিল্লি থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।বিমানবন্দরে এসব ভ্যান্টিলেটর গ্রহণ করেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন, স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়া ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। এসব ভেন্টিলেটর ভারত থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে দিল্লির বাংলাদেশ মিশন কাজ করেছে। এ জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।

প্রথমবারের মতো ভারতের অক্সিজেন এক্সপ্রেস ট্রেন বাংলাদেশে পৌঁছেছে। শনিবার (২৪ জুলাই) রাতে বেনাপোলে ট্রেনটি এসেছে। ভারতের অক্সিজেন এক্সপ্রেস ১০টি কন্টেইনারে ২০০ এমটি লিকুইড মেডিক্যাল অক্সিজেন নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন এ তথ্য নিশ্চিত করে। প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশেও এই প্রথম অক্সিজেন সার্ভিস দিল। লিন্ডে বাংলাদেশ নামে একটি প্রতিষ্ঠান এ অক্সিজেন আমদানি করেছে। এর আগে ঈদের দিন (২১ জুলাই) পেট্রাপোল দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশে প্রায় ১৮০ মেট্রিক টন তরল মেডিক্যাল অক্সিজেন বহনকারী ১১টি ট্যাঙ্কার পাঠানো হয়। বাংলাদেশের হাসপাতালে তরল অক্সিজেনের সংকটপূর্ণ অবস্থা বিবেচনা করে বেনাপোল সীমান্তে গ্রিন করিডোর চালু করা হয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় প্রথমবার অক্সিজেন এক্সপ্রেস নামে একটি ট্রেনের ১০টি কন্টেইনারে ২০০ মেট্রিক টন অক্সিজেন বাংলাদেশে পৌঁছেছে। এ অক্সিজেনবাহী ট্রেনটি ভারতের জামসেদপুর থেকে বাংলাদেশে এসেছে। এটি দ্রুত খালস নিয়ে রাতেই সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্য রওনা হবে।

Share This Post