‘স্বাস্থ্য উন্নয়নে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন’ শীর্ষক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন

‘স্বাস্থ্য উন্নয়নে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন’ শীর্ষক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন

বর্তমানে বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিটি পরিবারেই অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত এক বা একাধিক রোগী রয়েছে। তাদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রতি বছর দেশের ৫২ লক্ষ মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। ২০১০ সালে জাতীয়ভাবে পরিচালিত এক গবেষনায় দেখা যায়, ৯৮.৭% জনগনের মধ্যে অন্তত ১টি , ৭৭.৪% এর মধ্যে ২টি এবং ২৮.৭% এর মধ্যে ৩টি অসংক্রামক রোগ (হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়বেটিস) এর ঝুঁকি রয়েছে। স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজন বিশুদ্ধ পানি, নির্মল বাতাস, গাছ, মাটি, খাদ্য, বাসস্থান, পয়ঃ ব্যবস্থা, ব্যয়াম, হাঁটা-চলা, যাতায়াত, উম্মূক্ত স্থান (মাঠ, পার্ক, খোলা জায়গা), খেলাধুলার সুযোগ। একটি ‘হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন’ গঠনের মাধ্যমে দেশে স্বাস্থ্য উন্নয়নে রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা সম্ভব। ‘হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন’ শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য অবনতির মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানে মনোযোগী হবে, যাতে মানুষ দীর্ঘদিন সুস্থভাবে জীবন অতিবাহিত করতে পারে।
আজ ১৫ নভেম্বর ২০২১ বিকাল ৩.০০ টায় ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর কৈবর্ত সভাকক্ষে ‘স্বাস্থ্য উন্নয়নে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন’ শীর্ষক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন আয়োজনে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।আয়োজনে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য সম্পর্কে জনমনে এক ধরণের ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। অবকাঠামো, হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, চিকিৎসক, নার্স, ঔষধ ইত্যাদিকে মনে করা হয় স্বাস্থ্য। প্রকৃতপক্ষে,  বিশুদ্ধ পানি, নির্মল বাতাস, গাছ, মাটি, খাদ্য, বাসস্থান, পয়ঃ ব্যবস্থা, ব্যয়াম, হাঁটা-চলা, যাতায়াত, উম্মূক্ত স্থান (মাঠ, পার্ক, খোলা জায়গা), খেলাধুলার সুযোগই হলো স্বাস্থ্য। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে নিরাপদ ও বিষমুক্ত খাদ্য এবং সুপেয় পানি নিশ্চিতকরণ, ছাদবাগান, নিরাপদ হাঁটাবান্ধব পরিবেশ, জলাধার ও জলজ পরিবেশ রক্ষা, খেলাধূলা ও বিনোদনের জন্য প্রয়োজনীয় উন্মুক্ত স্থান বৃদ্ধিতে ‘হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন’ পৃষ্ঠপোষকত করবে।বক্তারা আরো বলেন, বিশ্বের প্রায় ২৩টি দেশে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন রয়েছে এবং এসকল সংস্থাগুলো তাদের দেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। নিকটবর্তী নেপাল, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ডও এ ধরনের ফাউন্ডেশন গঠন করেছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় আলাদা আলাদাভাবে চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছে। ফলে প্রচুর সংস্থা তৈরী হচ্ছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার, জনগণ এবং এনজিওদের কর্মকান্ড সমন্বিত করে স্বাস্থ্য উন্নয়ন কেন্দ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজনে বক্তব্য রাখেন সংস্থার প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈয়দা অনন্যা রহমান,  পরিচালক গাউস পিয়ারী, নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ এবং হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশন অব কানাডা এর আঞ্চলিক পরিচালক দেবরা ইফরইমসন।

Share This Post