স্থায়ী সমাধানের জন্য মানুষকে দ্রুত ভ্যাকসিনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

স্থায়ী সমাধানের জন্য মানুষকে দ্রুত ভ্যাকসিনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামী ১০ আগস্ট (মঙ্গলবার) মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১১ আগস্ট থেকে দোকানপাট খুলে দেওয়া হবে। ওইদিন থেকে সড়কে পুনরায় গণপরিবহন চলাচল করবে। ১০ তারিখ পর্যন্ত বিধিনিষেধের সময়ের মতো চলবে, ১১ তারিখ থেকে খুলবে অফিস।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু ধীরে ধীরে খুলে দেওয়া হবে। তবে এই সময়ের মধ্যে সবাইকে ভ্যাকসিন নিতে হবে।

আগামী ১০ আগস্টের পর করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় চলমান ‘লকডাউন’ আর বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জনসাধারণের প্রত্যেকের স্ব স্ব ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য মানুষকে দ্রুত ভ্যাকসিনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দীর্ঘদিন বিধি-নিষেধ চলতে থাকায় দেশের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি হতে যাচ্ছে। চলমান পরিস্থিতিতে মানুষের জীবিকার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা বন্ধ থাকায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এসব কারণে সরকার ইতোমধ্যে গার্মেন্টসহ শিল্প প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দিয়েছে। আয়ের পথ বন্ধ থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে তারা। এই পরিস্থিতিতে বিধি-নিষেধ তুলে দেওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় নেই। গত ১ আগস্ট থেকে রপ্তানীমুখী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্বউদ্যোগে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খুলে যায়। মূলত এরপর থেকেই রাজধানীতে সবকিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করে। গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে সড়কে বেড়েছে অন্যান্য যানবাহন।বিভিন্ন সড়কে পুলিশের তল্লাশি ও চেকপোস্ট দেখা যায়। তবে সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি। লকডাউনের প্রথম দিনগুলোর মতো জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়নি বাইরে বের হওয়া মানুষদের।

কর্মস্থলে স্বাস্থ্যবিধির মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া, মাস্ক পড়া নিশ্চিত করতে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা, গণপরিবহনে অর্ধেক আসন খালি রাখাসহ বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হতে পারে। এর পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য ভ্যাকসিনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই বছরের মধ্যে ৮০ ভাগ মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা যায় কিন সে বিষয়টির ওপর সরকারের নীতিনির্ধারকরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন।
দীর্ঘদিন এই মানুষের চলাফেরায় বিধি-নিষেধ আরোপ করা থাকলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে রেকর্ড ২৬৪ জন মারা গেছেন।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শনাক্তের হার শতকরা ৫ ভাগের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ধরা যায়। সেখানে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশে শনাক্তের হার ৩০ এর ওপরে বা কাছাকাছি অবস্থান করছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বর্ধিত সময়সীমায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল করবে। এর আগে গত ১ জুলাই থেকে সরকারের পক্ষ থেকে আরোপ করা কঠোর বিধিনিষেধের কারণে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ১১ আগস্ট থেকে খুলবে সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি অফিস, দোকানপাট, শপিংমল; চলবে গণপরিবহন। এর মধ্যেই গত রবিবার থেকে খুলে দেয়া হয়েছে রফতানিমুখী শিল্প ও কলকারখানা।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, আগামী ১১ আগস্ট থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা রেখে সীমিত আকারে ট্রেন চলাচল করবে। ট্রেনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা রাখা হলেও ভাড়া বাড়ানো হবে না। এ ছাড়া মাস্ক ব্যতীত কোনো যাত্রীকে স্টেশনে প্রবেশ বা ট্রেনে ভ্রমণ করতে দেওয়া হবে না।প্রতিটি ট্রেনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।আসনবিহীন টিকেট বিক্রয় বন্ধ থাকবে। ট্রেনে ভ্রমণেচ্ছু যাত্রীদের নিজ নিজ টিকেট নিশ্চিত করেই শুধু ট্রেনে ভ্রমণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। টিকেটবিহীন কোনো যাত্রী স্টেশনে প্রবেশ বা ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে। সব অগ্রিম টিকিট যাত্রার পাঁচ দিন আগে ক্রয় করতে পারবেন। অনলাইনে ক্রয় করা টিকিট ফেরত দেওয়া যাবে না।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ভ্যাকসিন দেওয়ার শর্ত সাপেক্ষে ১১ আগস্ট থেকে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১ সপ্তাহে ১ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিনেটেড করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ওয়ার্ড-ইউনিয়নে ৫ থেকে ৭টা কেন্দ্র করে ১ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। মানুষকে ভ্যাকসিন নিতে দৌঁড়াতে হবে না, আমাদের লোকজনই তাদের কাছে পৌঁছে যাবে।’

আগামী ১১ আগস্ট সীমিত আকারে গণপরিবহন চলবে। বাসের ড্রাইভার ও হেলপারদের নিজ নিজ ওয়ার্ড থেকে টিকা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

এর আগে করোনার সংক্রমণরোধে সব ধরনের অফিস বন্ধ রেখে গত ১ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করে সরকার। এরপর কোরবানির ঈদের আগে গত ১৫ জুলাই থেকে আট দিনের জন্য সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়। গত ২৩ জুলাই থেকে সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে সরকার।

Share This Post