সোনালী ঐতিহ্যের ঢাকাই মসলিন আবারও মাতাবে বিশ্ব

সোনালী ঐতিহ্যের ঢাকাই মসলিন আবারও মাতাবে বিশ্ব

মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার প্রকল্প এবার সরকারের জনপ্রশাসন পদক পেয়েছে।
ঢাকার হারানো ঐতিহ্য মসলিনের দিন ফেরাতে ‘ঢাকাই মসলিন হাউজ’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। “অচিরেই বাংলাদেশের অন্যতম ব্র্যান্ডিং হবে ‘ঢাকাই মসলিন’। সোনালী ঐতিহ্যের ঢাকাই মসলিন আবারও মাতাবে বিশ্ব।”
সেজন্য এক সময় বৃহত্তর ঢাকার মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীর সংলগ্ন অঞ্চলে হতো ফুটি কার্পাসের চাষ। সেই সুতা তৈরি হত নদীতে নৌকায় বসে, আর্দ্র পরিবেশে।বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই) হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া মসলিনের বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জুটো ফাইবার গ্লাস ইন্ড্রাস্ট্রিজের জমিতে এই ‘ঢাকাই মসলিন হাউজ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা হয়েছে। বাংলাদেশের সোনালী ঐতিহ্য মসলিনকে বড় পরিসরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদনের জন্য এই মসলিন হাউজ প্রতিষ্ঠার কথা জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

ঢাকাই মসলিন রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। অচিরেই বাংলাদেশের অন্যতম ব্রান্ডিং হবে ঢাকাই মসলিন। সোনালী ঐতিহ্যের ঢাকাই মসলিন, আবারও মাতাবে বিশ্ব। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৭০ বছর পূর্বে হারিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সোনালী ঐতিহ্য ও বিশ্ববিখ্যাত ব্রান্ড ঢাকাই মসলিন পনরুদ্ধার করে হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মসলিনের ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ ও পেটেন্ট অর্জিত হওয়ায় দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাপক অনুসন্ধান ও গবেষণার মাধ্যমে মসলিনের কাঁচামাল ফুটি কার্পাস খুঁজে বের করা, ফুটি কার্পাসের চাষাবাদ, সুতা উৎপাদন, কারিগরদের দক্ষতা উন্নয়ন করে উন্নতমানের মসলিন উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। ঢাকার অদূরে রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবোতে জুট ফাইবার গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজের জমিতে এ ঢাকাই মসলিন হাউজ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বাণিজিক উৎপাদনের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক লোকের, বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। আশা করা যায়, শিগগিরই বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের তালিকায় মসলিন কাপড় যুক্ত হবে।

মিহি সুতায় বোনা সূক্ষ্ম যে কাপড়ের দুনিয়াজোড়া খ্যাতির কথা আজকের বাঙালি জেনেছে ইতিহাসের পাতা থেকে, সেই মসলিন আবার ঢাকায় ফিরছে। রূপগঞ্জের এক কারিগরের বানানো ৩০০ কাউন্টের সুতার (৩০০ মিটার সুতার ওজন ১ গ্রাম) দুটি শাড়ি বৃহস্পতিবার জাতীয় যাদুঘরে প্রদর্শন করা হয়েছে। বারো হাত ও সাড়ে বারো হাত দৈর্ঘ্যের শাড়ি দুটির বেড় ৪৭ ইঞ্চি। পুরো একটি মসলিন একটি ম্যাচের বাক্সে ভরতে পারার যে কথা প্রচলিত আছে সেটা ৮০০ কাউন্টের সুতায় বোনা বলে জানান তিনি। সেই মসলিন কতোটা স্বচ্ছ হতে পারে এটা কল্পনাও করা কঠিন। ৭০০ কাউন্টের কাপড়ের সাত পাল্লা রাখলেও একটা বই পড়তে পারবেন।

ব্রিটিশ শাসনামলে কল-কারখানা থেকে সাশ্রয়ী কাপড় আসায় একসময় হারিয়ে যায় দীর্ঘ সময় নিয়ে মসলিন তৈরির তাঁত ও সুতা। সেই সুতা ফিরিয়ে আনতে সরকার গত বছর ১২৪০ কোটি ৩৮ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে,যার কাজ শুরু হবে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে।আড়াইশ কাউন্টের চেয়ে মিহি সাদা সুতা দিয়ে মসলিন তৈরি করা হতো শত বছর আগে। রাজ পরিবারের মেয়েদের পছন্দের শীর্ষে থাকা এই শাড়ি বোনা হতো কার্পাসের সুতায়। এজন্য এক সময় বৃহত্তর ঢাকার মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীর সংলগ্ন অঞ্চলে হতো ফুটি কার্পাসের চাষ। সেই সুতা তৈরি হতো নদীতে নৌকায় বসে,উপযোগী আর্দ্র পরিবেশে।

Share This Post