সুলতানী আমলের ধ্বংশপ্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নামাজগাঁও

সুলতানী আমলের ধ্বংশপ্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নামাজগাঁও

নিয়ামত উল্লাহ (কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) :

প্রাচীনকালে বারোবাজারের নাম ছিল ‘ছাপাইনগর’। এ নগর ছিল হিন্দু আর বৌদ্ধ শাসকদের রাজধানী। বারোজন সহচর নিয়ে খানজাহান আলী রহ. এখানে আসেন। সেখান থেকেই এর নাম বারোবাজার। যুদ্ধ কিংবা মহামারিতে ছাপাইনগর ধ্বংস হয়ে যায়। থেকে যায় প্রাচীন ইতিহাস। বারোবাজার বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতœস্থল। প্রতœস্থলটি সুলতানী আমলের ধ্বংশপ্রাপ্ত প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সুলতানি আমলের অনেক প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন এ জেলায় বিদ্যমান। এই ঐতিহ্যমন্ডিত ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার এক ইউনিয়নের নাম ‘বারোবাজার’। প্রাচীন নাম ‘মোহাম্মদাবাদ’। বিশেষ করে এখানে সুলতানী আমলের প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় বেশ কিছু ঢিবি ও স্থাপত্যিক নিদর্শন এখনো বিদ্যমান। প্রতœস্থলটি যশোর জেলা শহর থেকে ১৬ কিমি উত্তরে এবং কালীগঞ্জ বাজার থেকে ১২ কিমি দক্ষিণে ভৈরব নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত। খুলনা-পার্বতীপুর রেল সড়ক এবং যশোর-ঝিনাইদহ প্রধান সঙক সমান্তরালভাবে বারোবাজারের মধ্যে দিয়ে প্রসারিত। বর্তমানে বারোবাজার একটি সমৃদ্ধ বানিজ্য কেন্দ্র। এসব স্থাপনাগুলো ৭০০ বছরেরও বেশি পুরানো।নামাজগাঁও প্রত্নস্থলটি গলাকাটা মসজিদ থেকে ১ মি উত্তরে বেলাত দৌলতপুর গ্রামে অবস্থিত। এটি একটি আয়তাকার ঢিবি যার পরিমাপ ৪৮মি দ্ধ৪১ মি এবং এর সর্বোচ্চ শীর্ষ পার্শ্ববর্তী জমি থেকে ২ মি উঁচু। ঢিবিটির পূর্বদিকে গ্রামবাসীরা একটি ঈদগাহ তৈরি করে। ফলে স্থানটি নামাজগাঁও নামে পরিচিত হয়।১৯৯৭ সালের খননে এখানে ৭টি ইট নির্মিত কবর সহ একটি সমাধিক্ষেত্রের ধ্বংসাবশেষ উন্মুক্ত হয়। ২০০১ সালের খননে ৩৬ মি দ্ধ ২৪ মি জায়গা জুড়ে বিন্তৃত একটি সমাধিক্ষেত্রের ধ্বংসাবশেষও উন্মোচিত হয়েছে। এতে ১৬টি ইট নির্মিত কবর, ১টি কাচা কবর ও ১টি ইট বিছানো উন্মুক্ত অঙ্গন রয়েছে। ইটের তৈরি কবরগুলি দুই ধরনের- ধনুকাকৃতির ছাদ বিশিষ্ট ও করবেল ছাদ বিশিষ্ট। প্রথম প্রকার কবর ১১টি ও দ্বিতীয় প্রকার কবর ৫টি।
এ অ লে ১৮টি উল্লেখযোগ্য দীঘির নামানুসারে জানা যায়, পীরপুকুর (৪ একর), গোড়ারপুকুর (৫ একর), সওদাগর দীঘি (১১ একর), সানাইদার পুকুর (৩ একর), সাতপীরের পুকুর (৩ একর), ভাইবোনের দীঘি (৪ একর), আনন্দ (২ একর), গলাকাটা দীঘি (৪ একর), জোড়াবাংলা দীঘি (৩ একর), চোরাগদা দীঘি (৪ একর), মাতারাণী দীঘি (৮ একর), নুনোগোলা দীঘি (৩ একর), কানাই দীঘি (৩ একর), পাঁচ পীরের দীঘি (৩ একর), মনোহর দীঘি (৩ একর), আদিনা দীঘি (৩ একর), শ্রীরাম রাজার দীঘি (১০ একর) ও বেড় দীঘি (৮ একর)। মোট ৮৪ একর জুড়ে এসব দীঘি।

Share This Post