সুন্দরবনে বাঘ বেড়েছে এটা নিঃসন্দেহে খুশির বিষয়

সুন্দরবনে বাঘ বেড়েছে এটা নিঃসন্দেহে খুশির বিষয়

এহছান খান পাঠান:

আজ বিশ্ব বাঘ দিবস। সুন্দরবনই হচ্ছে এশিয়ার মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বৃহত্তম আবাসভূমি। সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে গত ৪ বছরে বাঘের সংখ্যা ১০৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ১১৪টি। সুন্দরবেন সর্বশেষ ক্যামেরা ট্র্যাকিং বাঘ জরিপে ১১৪ বাঘের তথ্য মিলেছে। সুন্দরবনকে বন্য প্রাণীদের জন্য নিরাপদ করা গেলে বাঘের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। সম্প্রতি সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বাঘের অবাধ বিচরণ ও প্রতিনিয়ত বাঘের শাবকের দেখা মিলছে বলে জানিয়েছে সুন্দরবনের জেলে-বাওয়ালিরা।সুন্দরবনে বনদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ও চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্য কম হওয়ায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘের সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। বাঘ রক্ষায় সরকার ও বন বিভাগ খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। ইতোমধ্যে সুন্দরবনের ৫২ শতাংশ বনভূমিকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছি। স্মার্ট পেট্রোলিং নানা উদ্যোগে সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্য কমেছে। সুন্দরবনে বনদস্যুদের আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা ও চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্য কম হওয়ায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘের সংখ্যা সর্বশেষ জরিপে বেড়েছে। বাঘের প্রজনন মৌসুম জুন থেকে আগস্ট সুন্দরবনের সব পাস পারমিট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ বাঘ অবাধ চলাচল করতে পারবে।ইতিমধ্যেই বাঘের প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ অবাধ চলাচলের জন্য গোটা সুন্দরবনের অর্ধেকেরও বেশি এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে টহল ফাঁড়ি।

‌‘বাঘ বাঁচায় সুন্দরবন, সুন্দরবন বাঁচাবে লক্ষ জীবন’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিবসটি পালন করা হবে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘের অন্যতম আবাসস্থল সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাট ও খুলনায় কোনো কর্মসূচি নেই এই দিবস উপলক্ষে। অন্যদিকে বাঘ ও সুন্দরবন রক্ষায় সরকারকে আরও বেশি আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সুন্দরবন বিশেষজ্ঞরা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ (ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস), লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়া, মিঠাপানির অভাব, খাদ্য সংকট, বন ধ্বংস, বাঘের আবাসস্থল অভাব, চোরাশিকারি, অপরিকল্পিত পর্যটন ও বনের মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল বাঘের মৃত্যুর জন্য অন্যতম কারণ । ২০০১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫০টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবে মারা গেছে মাত্র ১০টি। ১৪টি বাঘ পিটিয়ে মেরেছে স্থানীয় জনতা, একটি নিহত হয়েছে ২০০৭ সালের সুপার সাইক্লোন সিডরে ও বাকি ২৫ বাঘ হত্যা করেছে চোরাশিকারিরা। সুন্দরবনে চোরাশিকারি অবাধ বিচরণ ও বাঘের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে হুমকির মুখে রয়েছে রয়েলে বেঙ্গল টাইগার। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। এ অবস্থায় হারিয়ে যেতে পারে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার। বিশ্বের তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধিসহ নানামুখী চাপে প্রকৃতি বিপণ্ন হতে থাকায় সুন্দরবনে এখনো টিকে থাকা কয়েক শত বাঘ বিলীন হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

কয়রার সুন্দরবন মত্স্যজীবী সমিতির সভাপতি ইউপি সদস্য সরদার লুত্ফর রহমান বলেন, সুন্দরবনে বাঘ বেড়েছে এটা নিঃসন্দেহে খুশির বিষয়। বাঘের আবাসস্থল সুন্দরবনকে নিরাপদ করতে পারলে অবশ্যই বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। লোকালয়ে আসা বাঘ নিরাপদে যাতে বনে ফিরতে পারে সে বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছে। যার ফলে এখন আর মানুষ বাঘ পিটিয়ে মারে না।এছাড়া বন্যপ্রাণী বাঘ যাতে তার স্বাভাবিক পরিবেশে থাকতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। সুন্দরবনের পাশে যে কোনো ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা গড়ে তুলতে না পারে সে বিষয়টি নজরে আনা প্রয়োজন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. এসকে আমির হোসেন বলেন, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে গহীন বনে বাঘের খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। যেসব অভয়াশ্রমগুলো রয়েছে সেখানের নিয়ম-কানুন সঠিকভাবে মানতে হবে।বাঘ খুবই অলস প্রকৃতির একটা প্রাণী। প্রচণ্ড ক্ষুধা না লাগলে তারা লোকালয়ে আসে না। আর লোকালয়ে আসার ফলে অনেক বাঘের মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে।

(এহছান খান পাঠান, নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক অর্থনীতির কাগজ)

Share This Post