সিএনএ ও ফ্যামিলিটেক্স নিয়ে বিকল্প চিন্তায় বিএসইসি

সিএনএ ও ফ্যামিলিটেক্স নিয়ে বিকল্প চিন্তায় বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে দুটি বন্ধ প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন শুরু আর একটি উৎপাদন শুরুর পর্যায়ে থাকলেও বস্ত্র খাতের দুই প্রতিষ্ঠান সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল ও ফ্যামিলিটেক্স নিয়ে হতাশ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। সিএনএ টেক্সকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরেক কোম্পানি আলিফের সঙ্গে একীভূত করার চিন্তা করা হচ্ছে। কমপক্ষে ২ শতাংশ শেয়ার আছে, এমন ব্যক্তিদের কাছে কারখানা দুটি তুলে দেয়ার বিষয়টিও তাদের ভাবনায় আছে। আর ফ্যামিলিটেক্স বিক্রি করে দিতে তারা ক্রেতা খুঁজছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বন্ধ হয়ে যাওয়া দুটি কোম্পানির পর্ষদ ভেঙে দিয়ে দুটি কোম্পানিকে টেনে তুলতে নতুন পর্ষদকে দায়িত্ব দেয় হয়।
কোম্পানি দুটির মধ্যে ফ্যামিলিটেক্সের পরিচালকরা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর শেয়ার বিক্রি করে উধাও হয়ে যান। অন্যদিকে সিএনএর পরিচালকরা ২০১৭ সালে কারখানা বন্ধ করে দেয়ার পর আর চালু করেননি। কোম্পানি দুটির নতুন পর্ষদের কাছ থেকে প্রতিবেদন পেয়ে বিএসইসি প্রথমে আগের পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা করার চিন্তা করেছিল। তবে সে পথে না গিয়ে এই চিন্তা করছে। সিএনএ টেক্সটাইলের যে পরিচালনা পর্ষদ ছিল, তাদের কেউ এখন দেশে নেই। আর ফ্যামিলিটেক্সের একজন পরিচালক দেশে আছেন, তিনি আবার অন্য কোম্পানির পাশাপাশি ফ্যামিলিটেক্স দেখভাল করেন। ফলে নতুন করে কোম্পানিটি চালু করতে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হলেও বাস্তবে এর কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। বরং কোম্পানি দুটির জন্য দেশে সমজাতীয় পণ্য উৎপাদন করে এমন কোম্পানির সঙ্গে একত্রীকরণ বা ২ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার আছে এমন বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানি দুটি দিয়ে আবারও চালু করার ভাবনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিএনএ টেক্সটাইল একটি কোম্পানি কিনতে চায়। ফ্যামিলিটেক্সের জন্য ক্রেতা খোঁজা হচ্ছে। যদি না পাওয়া যায় তাহলে ভালো কোনোা গ্রুপের সঙ্গে মার্জ (একীভূত) করার চেষ্টা করব।’ এম খায়রুল হোসেন বিএসইসির চেয়ারম্যান থাকাকালে এই কোম্পানি দুটি তালিকাভুক্ত হয়েছিল পুঁজিবাজারে। কিন্তু প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে টাকা তোলার পর থেকেই সেগুলো ধীরে ধীরে রুগ্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। মালিকপক্ষ আর বিএসইসির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছে না, বিনিয়োগকারীদেরও কোনো তথ্য দিচ্ছে না। এ অবস্থায় পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হাজার হাজার বিনিয়োগকারী। শিবলী রুবাইয়াতের নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমে আলহাজ ও পরে রিংশাইন টেক্সটাইলের পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। দুটি কোম্পানিই উৎপাদন শুরু করেছে। আর তৃতীয় কোম্পানি হিসেবে এমারেল্ড অয়েল উৎপাদন শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল। তবে আগের পর্ষদের ব্যাংকঋণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তারা শেষ পর্যন্ত উৎপাদনে আসতে পারেনি। সেই জটিলতার সমাধানেও এবার উদ্যোগী হয়েছে বিএসইসি।

Share This Post