সব মানুষের এখন একটাই ভাবনা: করোনা কবে যাবে?

সব মানুষের এখন একটাই ভাবনা: করোনা কবে যাবে?

এহছান খান পাঠান :

ঢাকা শহর শ্রমজীবী বা দরিদ্র মানুষের প্রিয় এক জায়গা কারণ এই শহর দরিদ্র মানুষের বুকে টেনে নিয়েছে, ঠাঁই দিয়েছে। ঢাকায় একটু কাজ করলে কড়কড়ে টাকা হাতে আসে, গ্রামে যা অনেকটাই কঠিন। গ্রামের সবচেয়ে অসহায় দরিদ্র বিপদাপন্ন মানুষটিও দেখেছে ঢাকা শহরে এসে একটু পরিশ্রম করলে, রিকশা চালালে রাস্তাঘাটে ওটা-ওটার পসরা নিয়ে বসলে খেয়েপরে বেঁচে থাকার কোনো অসুবিধা হয় না।

সবজি বিক্রেতা, মুরগি বিক্রেতা, মুড়ি-ছোলা বিক্রেতা, রসুন- পেঁয়াজ বিক্রেতা, ফল বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতা, চা বিক্রেতা, ঝাড়– বিক্রেতা, পাপোস বিক্রেতা, মশা-মাছি মারার ওষুধ বিক্রেতা, শরবত বিক্রেতা, গামছা বিক্রেতা-এরকম আরও নানান বৈচিত্র্যময় পেশার মানুষরা দিনে আনে দিনে খাওয়া মানুষ। তারা জানে শহরে শুয়ে বসে থেকে খাওয়ার সুযোগ নেই। কাজ করে খেতে হয়। যে যেখানে যেভাবেই থাকুক মাস শেষে তার ঘর ভাড়া গুনতে হয়, কারেন্ট, পানির বিল দিতে হয়। চাল, ডালসহ সবকিছুই কিনে খেতে হয়। এ কারণে শহরে এই সব চাহিদা মেটাতে কর্ম করার কোনো বিকল্প নেই। শহরের ক্ষুদ্র পেশাজীবি মানুষের কাছে তাই ‘কর্মই ধর্ম’। কেননা কর্ম না করতে পারলে না খেয়ে থাকতে হয়। ক্রমাগত দায়-দেনাও বেড়েও যায়। কিন্তু করোনা দুর্যোগের কারণে সেই ঢাকা শহর নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে। ধারাবাহিক লকডাউনের কারণে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকেই তাই চলে গেছেন শহর ছেড়ে নিজ গ্রামে। আর যারা আছেন তারা খুব ভালো নেই। এই সব পেশার বেশিরভাগ মানুষের কাছ থেকে জানা গেছে অন্য কোনো কাজ তারা জানেন না। অন্য কোনো কাজের সাথে তাদের পরিচয়ও নেই।
আমরা এখন সবাই নিজ চোখেই দেখতে পাচ্ছি-অলিগলির ক্ষুদ্র পেশাজীবীদের করুণ অবস্থা। গলির ভেতর চিৎকার দিতে দিতে মুখ দিয়ে রক্ত বের করে ফেললেও সেই আগের মতো বেচাবিক্রি নেই।
(এহছান খান পাঠান : নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক অর্থনীতির কাগজ)

Share This Post