সবাই ত্যাগের শিক্ষা গ্রহণ করলে খুব সহজেই করোনা মহামারি পরিস্থিতি সামলে ওঠা যাবে

সবাই ত্যাগের শিক্ষা গ্রহণ করলে খুব সহজেই করোনা মহামারি পরিস্থিতি সামলে ওঠা যাবে

এহছান খান পাঠান :

ঈদ সবসময় আনন্দের বার্তা নিয়ে আসলেও এখন আর সেই আবহ নেই। এর কারণ হলো বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস। এছাড়া করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার আরও অনেকেই কোরবানী দেওয়ার সামর্থ্য হারিয়েছেন। কোরবানী দিতে না পারায় কিংবা অন্যদের কোরবানী সংক্রান্ত জাঁকজমকে তারা যেন কষ্ট না পান, সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী আশেপাশের এমন স্বজন বা প্রতিবেশিদের সহায়তা করতে হবে। আমরা সবাই ত্যাগের শিক্ষা গ্রহণ করলে খুব সহজেই করোনা মহামারি পরিস্থিতি সামলে ওঠা যাবে।
মহামারি করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী দাপিয়ে বেড়ানোর মধ্যেই আরও একটি ঈদ আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে। করোনাভাইরাস শুধু নয়, দেশে আরও একটি দুর্যোগ চলছে। গতকাল সোমবার দেশে নতুন ৮১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। যার মধ্যে ৮০ জনই রাজধানী ঢাকার। চলতি বছরে এটাই একদিনে সর্বোচ্চ। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ডেঙ্গুর এমন প্রকোপ শঙ্কার। এর আগেও আমরা ডেঙ্গুর তাণ্ডব দেখেছি। এবার যেন তেমন না হয় সেটাই কামনা।

কোরবানীর মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে বান্দাকে ত্যাগের শিক্ষা দেওয়া। কোরবানী দেওয়া পশুর রক্ত-মাংস আল্লাহর দরবারে পৌঁছায় না। বরং ত্যাগের মানসিকতা আল্লাহ দেখেন বলে ধর্মীয় নানা তথ্যমতে জানা যায়। এজন্য বরাবরের মতো এবারও আমাদের ত্যাগের মানসিকতা বাড়াতে হবে। দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

গত বছরের মতো এবার আরও একটি বিষয় সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কোরবানীর পশু এবং বর্জ্যের মাধ্যমে কোনভাবেই যেন করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়াতে না পারে। এজন্য নিয়ম মেনে যথাযথ স্থানে কোরবানী করতে হবে। কোরবানী শেষে নিজ উদ্যোগে দ্রুত বর্জ্য পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। বিগত বছরের চেয়ে এবার সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোও এ বিষয়ে তড়িৎ উদ্যোগ করবে বলে আমাদের আশাবাদ।

পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদের সবার জীবনে কল্যাণ বয়ে আনুক। বিশ্বব্যাপী যাবতীয় অকল্যাণ ও মহামারি দূর হোক, এটাই আমাদের একমাত্র কামনা। সবাইকে, ঈদ মোবারক।

(এহছান খান পাঠান : নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক অর্থনীতির কাগজ)

Share This Post