শেষ হলো অ্যাস্পায়ার টেকের আয়োজনে টানা ২৮ ঘন্টার সিকিউরিটি সামিট ২০২১

শেষ হলো অ্যাস্পায়ার টেকের আয়োজনে টানা ২৮ ঘন্টার সিকিউরিটি সামিট ২০২১

অ্যাস্পায়ার টেকের আয়োজনে বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো আয়োজন করা হয় টানা ২৮ ঘন্টার সাইবার সিকিউরিটি সামিট ২০২১। গত ২২ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়া আন্তজার্তিক সাইবার সিকিউরিটি সামিটে ১৯টি দেশে থেকে ৪০ জনের বেশি সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ অংশগ্রহন করেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে ২৩ অক্টোবর ২০২১ শনিবার রাত ১০টায় এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। 
সামিটের সমাপণী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্টের সিনেটর শেখ রহমান। এ সময় তিনি বলেন, সারাবিশ্ব সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। কোনো দেশেই এর বাইরে নয়। বাংলাদেশে কোনো সাইবার আক্রমণ হলে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে। এছাড়া বাংলাদেশের সাইবার সিকিউরিটি ডোমেইনে যত ধরনের সাহায্য প্রয়োজন হয় সব ধরনের সহযোগিতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে করা হবে বলেন আশাবাদ ব্যক্ত করেন মার্কিন সিনেটর।
সাইবার সিকিউরিটি সামিট ২০২১ সম্পর্কে আয়োজক অ্যাস্পায়ার টেকের চেয়ারম্যান এডাম তানজিল জানান, বিশ্বব্যাপী এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হল সাইবার সিকিউরিটি। বিশ্বের বড় বড় দেশে এ সমস্যা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আমেরিকাও রাশিয়াকে তার দেশে সাইবার হামলা না করার অনুরোধ করেছে।বাংলাদেশে সাইবার ক্রাইম একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।এখন সন্ত্রাসবাদে মানুষ ভয় পায় না। এখন বেশি ভাগ দেশ ও মানুষ ভয় পায় সাইবার ক্রাইম নিয়ে। তাই সবাইকে সাইবার সিকিউরিটি বিষয় আরো বেশি সচেতন হতে হবে।  আগামী দিনে পৃথিবীতে যদি কোনো যুদ্ধ হয় সেটা হবে সাইবার যুদ্ধ। তখন কোনো পারমানবিক অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ হবে না। যুদ্ধ হবে প্রযুক্তির মাধ্যমে। এ সামিটের মাধ্যমে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমাসহ সবাই সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে আরো ভালো ভাবে জানতে পারলো। এ সামিটের থেকে সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা তৈরি হলো বাংলাদেশের হাজার হাজার আইটি  এক্সপার্টদের। এবং এই সাইবার সিকিউরিটি সামিট থেকে যা শিখলেন তা দিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা দিতে পারবেন বলে আশা করেন চেয়ারম্যান এডাম তানজিল।
টানা ২৮ ঘন্টার এ আয়োজনে ২০টির বেশি দেশের ৩ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অনলাইনে যুক্ত হয়। বৈশ্বিক সাইবার হুমকির সুরক্ষা, সনাক্তকরণ এবং প্রতিক্রিয়া জানতে বাংলাদেশে সরকার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এ সামিটে অংশ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সাইবার এক্সপার্ট  উপস্থিত ছিলেন ডা বিকর্ণ কুমার ঘোষ, ড. সেলিয়া শাহঞ্জ, ড. জাহাঙ্গীর দেওয়ান, ড. ফয়সাল কাদের, মোহাম্মদ জামান।
অনুষ্ঠানে বিদেশি স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লেইটন জনসন, দিদিদার রুটগারামা, মাইকেল উইলকস, ডিড্রে ডায়মন্ড, মো হাসান, গোলাম মর্তুজা আজম, জিয়া ইসলাম, শাহ আহমেদ, ড. মাহমুদ রহমান, ইংল্যান্ডের রুপার্ট কোলিয়ার, আয়ারল্যান্ডের টম ব্রেট, জার্মানির আলম মোহাম্মদ, ফ্রান্সের রোকসানা ম্যাগডো, নাইজেরিয়ার চিনেনি চিজা,  রাশিয়ার সের্গেই ওজেগোভ, আলেক্সি পিনচুক,  অস্ট্রেলিয়ার  ড. এরডাল ওজকায়া, ঝানওয়ে চ্যান, জামশেদ হাসান, ড. জাবেদ চৌধুরী,  বেলজিয়ামের  ড. মাত্তেও মেরিয়ালদো, কানাডার সামের আদি, নেদারল্যান্ডের ট্রিশ ম্যাকগিল, ব্রাজিলের ফিলিপি পাইরেস, ইতালির স্টেফানিজা হরলে আইয়েলো, পাকিস্তানের সৈয়দ জাকির আলী রিজওয়ে, নরওয়ের ম্যাগনাস সোলবার্গ, সিঙ্গাপুরের আরশাদ পারভেজ , ফিলিপাইনের মারিও বি ডেমারিলাস ও ভারতের শ্রীকান্ত নাগরাজন।
প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ডাঃ মো. মামুন-অর-রশিদ, এমডি আবু তৈয়ব রোকন, তমিগ আহমেদ, আরিফুল হাসান-অপু, ডাঃ বিএম মইনুল হোসেন, অধ্যাপক ডাঃ দীপ নন্দী, অধ্যাপক ডাঃ মো. ওবায়দুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো আল মামুন, ড এম শামীম কায়সার, প্রফেসর রামেশ্বর দেবনাথ, শাহাব আল ইয়ামিন চৌধুরী, ড. এম মশিউল হক, ড আবু রায়হান মোস্তফা কামাল, ড মো রাজিবুল ইসলাম, ড মো ফরহাদ রাব্বী, মো. লুৎফুর রহমান, ওমর এফ. খন্দকার, নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, মো. আবুল কালাম আজাদ, এম জে ফেরদৌস, মনসুর আহমেদ ও মো. আল-মামুন।
প্রসঙ্গত, ২২ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার সময় সাইবার সিকিউরিটি সামিট ২০২১ এর উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, এমপি, বিএসসিএলের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ ও বিটিআরসি মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ।

Share This Post