শুক্রবারকেন্দ্রিক নিয়োগ পরীক্ষা, বিপাকে চাকরিপ্রত্যাশীরা

শুক্রবারকেন্দ্রিক নিয়োগ পরীক্ষা, বিপাকে চাকরিপ্রত্যাশীরা

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় প্রায় দেড় বছর বন্ধ ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসায় নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে সরকারি-বেসরকারি একাধিক প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু এসব পরীক্ষা শুক্রবার কেন্দ্রিক হওয়ায় একদিনেই একাধিক পরীক্ষা হচ্ছে। এতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
এদিকে, আগামী শুক্রবার (৮ অক্টোবর) একই দিনে চাকরির পরীক্ষা নেওয়ার সূচি প্রকাশ করেছে। এগুলো হচ্ছে- তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (বিসিএসআইআর), সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (সিএএবি), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল), সাধারণ বীমা করপোরেশন, বিসিএস নন-ক্যাডার, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডে।

এর মধ্যে কোনো কোনো পরীক্ষা একই দিনে একই সময়ে পড়েছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সহকারী ব্যবস্থাপক (জেনারেল) পদের নিয়োগ পরীক্ষা শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১পর্যন্ত। একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) পদের নিয়োগ পরীক্ষাও।

এক চাকরিপ্রার্থী জানান শুক্রবার তার পাঁচটি পরীক্ষা পড়েছে। এর মধ্যে সকালে তিনটি ও বিকেলে দুটি। এ কারণে তিনি পাঁচটির মধ্যে মাত্র দুটিতে অংশ নিতে পারবেন। একই সময় হওয়ায় তিনটিতে অংশ নেওয়া সম্ভব হবে না তার। অথচ এসব পদে আবেদন করতে তার ২ হাজার ৩০০ টাকা খরচ হয়েছে। টিউশনির কষ্টের টাকায় আবেদন করে পরীক্ষা দিতে না পারা আরও কষ্টের।

আরেক চাকরি প্রার্থী জানান, ‘শুক্রবার তার একই সময়ে দুটি নিয়োগ পরীক্ষা পড়েছে। ফলে তাকেও যে কোনো একটিতে অংশ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। অথচ প্রতিটি চাকরির আবেদন করতে তার ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা খরচ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না থাকায় এখন অনেক আবেদন করতে হচ্ছে। কিন্তু একদিনেই একাধিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় একটার বেশি পরীক্ষা দেওয়া যাচ্ছে না। এতে যে টাকা গচ্চা যাচ্ছে, তা একজন বেকারের জন্য অনেক কষ্টের। সেই সঙ্গে পরীক্ষা দিতে না পারায় চাকরির সুযোগও কমে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে পিএসসি চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘আগামী শুক্রবার (৮ অক্টোবর) একাধিক পরীক্ষা থাকায় আমরা নন-ক্যাডারের পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করেছি। আপাতত যতদিন চাকরির পরীক্ষা বেশি থাকবে, ততদিন শুক্রবার-শনিবার নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএসসি।

অন্যান্য পরীক্ষার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের সমন্বয়ের জায়গা নেই। এটা যদি থাকত, তাহলে অন্তত সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোর তারিখ কেন্দ্রীয়ভাবে ঠিক করা যেত। আর এখন একদিনে একাধিক নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ থাকায় চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

Share This Post