শিক্ষা ক্যাডারে এসে পুরো সময় শিক্ষার্থীদের সাথেই আছি : অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার

শিক্ষা ক্যাডারে এসে পুরো সময় শিক্ষার্থীদের সাথেই আছি : অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার

কিছুটা ভালো ছাত্র ছিলাম।গ্রামের অনেক প্রাচীন প্রাইমারির রেকর্ড প্রথম সরকারি বৃত্তি পাই। সবার অনুরোধে গ্রামের নতুন হাইস্কুলে ক্লাস এইট পর্যন্ত থাকার সিদ্ধান্ত নিই।এখানেও প্রথম সরকারি বৃত্তি পাই।নতুন স্কুলে বিজ্ঞান শাখা নেই।জোর করে রেখে দেয়া হলো।বাধ্য হয়ে কমার্স পড়লাম।১৯৭৮ সালে পুরো ফেনী জুড়ে প্রথম বিভাগ কারো ছিলো মনে নেই।আমি পেলাম।সুদূর নোয়াখালী হতেও সংবর্ধনা পেলাম।
বাবা চাকরি করেন ঢাকায়।ঢাকা কলেজে ভর্তি হতে এলাম।হঠাৎ বাবা বদলি হলেন চট্টগ্রাম।ভর্তি হলাম তখন দেশের অনìতম সেরা কলেজ চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে।মেজোভাই সানা খোন্দকার ওখানে পড়েছেন।যদিও অল্পকাল পরে বাবা আবার বদলি হলেন কুমিল্লায়।ইন্টারে কুমিল্লা বোর্ড মেধায় দ্বাদশ হলাম।অধìক্ষ হিসেবে পেয়েছিলাম প্রথম বছর বরেণ্য বìক্তিত্ব শাফায়েত আহমেদ সিদ্দিকী স্যার ও পরের বছর নুরুল আবছার খান স্যার।পেয়েছি অনেক বরেণ্য শিক্ষককে।
সব বন্ধুদের ফেলে চলে এলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।শ্রদ্ধেয় শান্তি নারায়ণ ঘোষ স্যার বলতেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এর ছেলেরা কেন যে বিসিএস দেয়? বিজ্ঞান পড়া হলো না, তাই ভাবতাম চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হবো।এরশাদ ভেকেশনে ৪ বছরের কোর্স শেষ হতে সাড়ে ৭ বছর (১৯৮০-৮৭)।মধìবিত্তের যা হয়, ১৯৮৭ তে পূবালী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে যোগ দিই।১৯৮৮ এ ব্যাংকার্স ব্রিক্রুটমেন্ট এ অগ্রণী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার আর বাংলাদেশ ব্যাংকে হলো।বাংলাদেশ ব্যাংকে এ সহকারী পরিচালক পদে যোগ দিই। ১৯৮৬ ব্যাচে (৮ম) শিক্ষা ক্যাডার যোগ দিই।এখানেও সেশন জট ছিলো ৩ বছর।
ঢাকা কলেজে ভর্তি হই নি।কিন্তু মেধাবীদের বিচরণ ক্ষেত্র এ কলেজে মাঝে মাঝে বিরতি দিয়ে ১/১/৯২ হতে দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা করেছি।সহকর্মী হিসেবে পেয়েছি অনেক বরেণ্য বìক্তিত্বকে। এর বাইরে খাগড়াছড়ি, সন্দীপ, গাজীপুর, জয়পুরহাট, নেত্রকোনায় ছিলাম।ছিলাম ঢাকার সোহরাওয়ার্দী কলেজে। পরে কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হয়ে এখন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ।ফেনী কলেজের জন্য সবসময় শুভকামনা।
জীবনের গতিপথ এভাবে পাল্টে যায়। শিক্ষা ক্যাডারে এসে কখনো অফিসে চাকরি করি নি, ইচ্ছেও পোষণ করি নি।পুরো সময় শিক্ষার্থীদের সাথেই ছিলাম।

(ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার এর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেয়া)

Share This Post