শিক্ষার্থীদের পেয়ে প্রাণবন্ত ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস

শিক্ষার্থীদের পেয়ে প্রাণবন্ত ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস

মো: ফেরদৌস রহমান (ঢাকা কলেজ):
ঘরের অন্ধকারে পড়ে থাকা ধূলিকণা যেন এক ঝলকে ঝাড়ুর আঘাতে উড়ে যায়, বাতাসের মৃদু হাওয়ার ঝাপটায় সরে যায় সকল অন্ধকারের ঘোর। ঘরের ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে মিটমিট আলোর রশ্মি যেন প্রাণে সজীবতা ফিরিয়ে দেয়। পড়ার টেবিল যেন নতুন হাতের ছুয়া পেয়ে জেগে ওঠে শিক্ষা পাড়া- মহল্লায়। তেমনি দীর্ঘ দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর রবিবার খুলে দেওয়া হয়েছে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দ্বার। এতে করে নতুন জীবনে পুরাতন সব অবসরের গ্লানি, একাকিত্বতা ও বিষন্নতার চাদর খুলে প্রাণের সাড়া জাগাতে স্কুল-কলেজের বন্ধ দরজা খুলে চিরচেনা বেঞ্চে বসে আড্ডায় বসতে ছুটে চলছে লাখো শিক্ষার্থী। এ যেন সুপ্ত মস্তিষ্ককে আবারো সক্রিয় করার সময়ে ফেরা। এ আনন্দ প্রফুল্লতা এনে দেয়, সজীব করে তুলে দেহ-মনের ভিতর। আশায় বসে জীবন পার করা সেই দিনগুলো আজকে ক্যাম্পাসে বসে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মাধ্যমে পূরণ হলো শত বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে। নতুন করে জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলোর অন্যতম শিক্ষাখাত আবারো উন্মুক্ত। এতে যেমন খুশি শিক্ষার্থীরা, তেমনি খুশি তাদের অভিভাবকরা। তারচেয়েও বেশি খুশি দেশের সাধারণ মানুষ। প্রাণবন্ত শহরের পথে পথে স্কুল-কলেজের পোশাকে হাটবে শিক্ষার্থীরা, ছুটে বেড়াবে এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। এতে শহর থেকে প্রামের দৃশ্য পুনরায় বসন্তের নব ফুলের মতো করে নতুন প্রাণে ফিরে আসবে।

ঢাকা কলেজ দেশের সুপ্রাচীন ও সুবিখ্যাত কলেজের একটি অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আজ রোববার ( ১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮ টা থেকে বিভিন্নমুখে কলেজ ইউনিফর্ম পড়ে, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের জন্য ছুটে আসছে শিক্ষার্থীরা। কলেজের মূল ফটকে সাদা রং দিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে। মাস্ক পড়ে ও শ্রেণিকক্ষে ঢুকার সময় হেন্ড-সেনিটাইজার ব্যবহার করে প্রবেশ করেছে তারা। শুরুর দিকে সকল শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ঢাকা কলেজ স্কাউটস সদস্যরা সকল শিক্ষার্থীদের হাতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এসময়ে উপস্থিত ছিলে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ও সাত কলেজ সমন্বয়ক আই কে সেলিমুল্লাহ খন্দকার, শিক্ষার্থীদের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বে থাকা ও ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান পুরঞ্জয় বিশ্বাস সহ সকল অধ্যাপক ও শিক্ষকবৃন্দ। তারা শিক্ষার্থীদের এমন আগম দেখে উল্লসিত।

অধ্যক্ষ বলেন, “ঢাকা কলেজ পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্যদের দেখে প্রাণে সজীবতা ফিরে এলো। ঘরের ছোট ছেলেদের ছাড়া যেন ঘরের আনন্দ উল্লাস কমে যায়, কিন্তু তাদের পুনরায় দেখে এতোদিনে ক্যাম্পাস প্রাণবন্ত হয়ে উঠলো। সকলকে নিরাপদে রেখে পাঠদানে আমরা তৎপর ও সকল ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত। শ্রেণিকক্ষে দূরত্ব বজায় রেখে বেঞ্চ বসানো হয়েছে। মাস্ক পরিহিত অবস্থায় শিক্ষক যেমন পাঠদান করবেন, তেমনি শিক্ষার্থীরাও মাস্ক পড়ে পাঠদানে মনোনিবেশ হবে।”

কলেজ গেটের বাহিরে অভিভাবকদের আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ ১৯ মাস পর ছেলেকে কলেজে পাঠাতে পেরে খুশি দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া মানবিক বিভাগের ছাত্র রিফাত আল ফাহিমের মা জাহানারা বেগম। তিনি আমাদের জানান, ” ছেলেটা পড়ালেখা বিমুখ হয়ে গেছে। কলেজ খুলাতে ভয়টা কিছু কিছু করে কেটে যাবে। আল্লাহ যেন সকলকে সুস্থ রাখে।”

হাজারো অভিভাকের এমন মনের অব্যপ্ত কথা যেন ছুটে চলছে আকাশ প্রাণে। মনে জাগছে প্রাণের উল্লাস। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের অন্যতম মেরুদণ্ড। এই মেরুদণ্ড যেন যুগের পর যুগ শির উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে এমনটাই সকলের চাওয়া। তবে দীর্ঘ শিক্ষা বিরতির জন্য আবার অনেকে ঝড়ে গেছেন শিক্ষা জীবনের মধুরতা থেকে। তাই, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রেখে নিরাপদ ভাবে পাঠদান করে দেশের শিক্ষাখাতকে আরো সমৃদ্ধ করতে সরকারকে উন্নত চিন্তা ভাবনা গ্রহণে সচেষ্ট ভূমিকা পালন করতে হবে।

Share This Post