শহীদ রুমী দিবস স্মরণে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট’র আলোচনা সভা

শহীদ রুমী দিবস স্মরণে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট’র আলোচনা সভা

আজ ৩১ আগস্ট ২০২১ বেলা ৪ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন চত্বরে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট’র আয়োজনে শহীদ রুমী দিবস স্মরণে ‘জীবন জয়ের মরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার এর সঞ্চালনায়, সভাপতি মাসুদ রানার সভাপতিত্বে, এতে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট’র সহ-সভাপতি ডা. জয়দীপ ভট্টাচার্য ও বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য কমরেড আ.ক.ম জহিরুল ইসলাম।

ডা. জয়দীপ ভট্টাচার্য তার বক্তব্যে বলেন, “৫০ বছর পরও রুমী আজ সমান প্রাসঙ্গিক। শহীদ শাফি ইমাম রুমী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের এক সাহসী চরিত্র। ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসের ৩০ তারিখে রুমীকে পাকিস্তানী সেনারা ধরে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে। দীর্ঘদিন পরও প্রতিবছর আমরা রুমীকে স্মরণ করছি এই জন্য, আমরা যদি দেশকে ভালোবাসতে চাই তাহলে এর সৃষ্টির পেছনে যে সব মানুষদের সুমহান আত্মত্যাগ ছিলো তা স্মরণ করতে হবে। শহীদ রুমী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমেরিকার ‘ইলিনয় ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি’তে পড়তে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু রুমী সে দিন ভবিষ্যত ক্যারিয়ারকে তুচ্ছ করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ট্রেনিং শেষে ‘ক্রাক প্লাাটুন’র হয়ে গেরিলা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা রাখেন।”

কমরেড আ.ক.ম জহিরুল ইসলাম বলেন, “রুমীরা বৈষম্যহীন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু দেশের বর্তমান অবস্থা কী? মানুষ শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত। শিক্ষা আজ কেনা-বেচার পণ্য। লক্ষ-লক্ষ মানুষ বেকারত্বের জ্বালা নিয়ে দিন অতিবাহিত করছে। নারী, শিশুরা ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। মত প্রকাশের অধিকার ভূলুন্ঠিত। তাই দেখতে পাই, রুমীদের স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি। তাই আজকের দিনে আমাদের দরকার নতুন লড়াইয়ের। আর লড়াইয়ের সে অনুপ্রেরণা আমরা পাই শহীদ রুমীর চরিত্র ও জীবন থেকে।”

সভাপতিত্বের বক্তব্যে মাসুদ রানা বলেন, “শাসকশ্রেনী মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ-লক্ষ মানুষের আত্নত্যাগকে আজ ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধকে ভুলভাবে, দলীয়ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তরুণ-যুবকদেরকে সামাজিক লড়াই ভুলিয়ে দেয়ার জন্য ভোগবাদী করে তোলা হচ্ছে। মাদক-অপসংস্কৃতির প্রভাব ভয়ানক বাড়ছে। শাসকরা জানে, তরুণ-যুবকদের নৈতিক মেরুদ- ভেঙে দিতে না পারলে বড় লড়াই হবে। আর সে লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই এ অন্যায় অবস্থা তছনছ হয়ে যাবে। আবারও তরুনরা লড়বে। আবারও শহীদ রুমী’র আত্মত্যাগকে উর্দ্ধে তুলে ধরবে। তাই তারা তরুণদের এই শক্তিকে ধ্বংস করতে চায়”

পরিশেষে বক্তারা, রুমীসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর যোদ্ধাদের লড়াই-সংগ্রাম সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য উপস্থিত সকলের কাছে আহ্বান করেন।

Share This Post