রোববার খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রস্তুতি শেষ

রোববার খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রস্তুতি শেষ

এম এ আজিম(খুলনা): করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ টানা প্রায় দেড় বছর পর রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে। রাত পোহালেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।ফলে প্রিয় প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আবারও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে এসব প্রতিষ্ঠান।শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) নগরীর সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও সেন্ট যোসেফস উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শেষ পযায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দেখা গেছে।এদিকে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় খুলনার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ বেহাল ছিল। স্যাঁতস্যাঁতে ভাব, পলেস্তরা খসে পড়া, রঙ উঠে যাওয়া, ক্লাস রুমে মাকড়শার জালে আচ্ছন্ন, টিনের চাল ঝড়ে উড়ে যাওয়ার এবং মাঠে ঘাস বন তৈরি হয়েছিল। কিন্তু স্কুলের খোলার তারিখ নির্ধারণ হওয়ার পর থেকে গত কয়েকদিন ধরে ধোয়ামোছা, রঙ করাসহ নানান সংস্কারের কাজ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস করার উপযোগী করার কাজ শুরু হয়। যা এরই মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। অপরদিকে, খুলনার ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় করোনা প্রকটের আগে থেকে বেহাল অবস্থায় ছিল। দীর্ঘদিন পরিচর্যা ও সংস্কারের অভাবে সেগুলোর আরও খারাপ অবস্থায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—কাজী আব্দুল বারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টিঅ‌্যান্ডটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জহিরউদ্দিন গণবিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাউজিং (৩-তলা) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজি আব্দুল মালেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শেরে-বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টুটপাড়া ভয়েজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কয়লাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ সকল বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের ক্লাস পাশ্ববর্তী স্কুলে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সূত্র জানান, খুলনা জেলায় ১ হাজার ১৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৪২০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে মহানগরে ১৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বাকিগুলো জেলার ৯টি উপজেলায় অবস্থিত।স্কুল পরিচ্ছন্ন ও ঘাস পরিষ্কার করা হচ্ছে।শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে। একজন শ্রমিক মাঠের ঘাস কেটে পরিষ্কার করছেন। আর ক্লাস চালুর বিষয়ে শিক্ষকরা সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছেন।।নগরীর সেন্ট যোসেফস উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়েও শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দেখা গেছে। শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক এসে এসব প্রস্তুতি দেখছেন এবং সর্বশেষ খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।নয়াবাটি হাজী শরিত উল্লাহ বিদ্যাপিঠ স্কুলের শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. কালাম হোসেন জানান, প্রায় ১৭ মাস পর স্কুল খুলছে, আবারও শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাবে। তাছাড়া এতদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা শ্রেণি পাঠদান থেকে দূরে ছিল। যে কারণে তাদের মধ্যে একটি প্রভাব ফেলেছে, ধীরে ধীরে এর প্রভাব দূর করতে হবে।খালিশপুর বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন স্কুল চত্ত্বরে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা ছিল না। অনেক শ্রেণি রুম বন্ধ থাকায় ময়লা, আবর্জনা, বিদ্যুৎ সমস্যাসহ, ঘাসপাতা জঙ্গলে, জরাজীর্ণ অবস্থায় পরিণত হয়েছিল। আমরা ক্লাস রূমসহ শ্রেণী রুমগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করেছি। সকল শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্য বিধি মানাসহ মাস্ক পরিধান করে স্কুলে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করি সব কিছু আগের মত চলমান থাকবে।খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম সিরাজুদ্দোহা জানান, শহরের অভ্যন্তরে কয়েকটি স্কুলে ক্লাস নেওয়ার পর্যায়ে নেই। আগে থেকেই এগুলো খারাপ অবস্থায় ছিল। গেল করোনার সময় কোনো ক্লাস না হওয়া এবং ব্যবহার না হওয়ায় এসব স্কুলের ভবনের পলেস্তরা ও ইট খসে খসে পড়ছে। এ ৮টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাশ্ববর্তী স্কুলে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।তিনি বলেন, রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে স্কুলে কাস শুরুর জন্য উপজেলা পর্যায়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোর ভবন ও ক্লাস রুম পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজও শেষ করা হয়েছে।খুলনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খো. রুহুল আমিন জানান, আম্পান ঝড়ে কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছাসহ বেশ কিছু এলাকায় স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির সাথে আলোচনা করে এসব স্কুলের সংস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Share This Post