রাজবাড়ীর নদী ভাঙ্গন রোধে ১৬শ ৯৯কোটি টাকার প্রকল্প প্রক্রিযাধীন আছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

রাজবাড়ীর নদী ভাঙ্গন রোধে ১৬শ ৯৯কোটি টাকার প্রকল্প প্রক্রিযাধীন আছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

খন্দকার রবিউল ইসলাম (রাজবাড়ী) : রাজবাড়ীর শহর রক্ষা বাঁধ ও পদ্মা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল জাহিদ ফারুক।

গত জুলাই মাসের ১৬ তারিখ থেকেই দফায় দফায় পদ্মার ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের চরসেলিমপুর, গোদার বাজার,ও সোনাকান্দর এলাকাসহ ১৯টি পয়েন্টের ৬৯২ মিটারের হাজার হাজার কংক্রিটের তৈরি সিসি ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে হুমকির মধ্যে পড়ে রাজবাড়ী শহরক্ষা বাঁধ সহ,শতাধিক বসতভিটা,মাসজিদ সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে করে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় নদী পাড়ের মানুষ সহ রাজবাড়ীর সচেতন মহলের মধ্যে।

বিদ্যমান পরিস্থির মধ্যে আজ বৃধবার ৬অক্টোবর সকাল ১১টায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল জাহিদ ফারুক সদর উপজেলার বরাট ও মিজানপুর ইউনিয়নের গোদারবাজার এলাকার শহর রক্ষা বাঁধের সুরক্ষার জন্য ব্লক দিয়ে স্থায়ীভাবে পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ধসে যাওয়া অংশ পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন কালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৩৭৬ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত কংক্রিট দিয়ে সিসি ব্লক ভেঙে যাওয়া অত্যান্ত দুঃখজনক। অভিযোগ উঠেছে এখানে নির্মাণকাজে ত্রুটি ও দুর্নীতি থাকতে পারে। এসব ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। নির্মাণকাজে যদি কোন গাফলতি কিম্বা ত্রুটি থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি আরো বলেন যারা এখানে অবৈধ ভাবে বালু উত্তলন করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।এছাড়াও মন্ত্রী বলেন, নদী ভাঙ্গন রোধে ১৬শ,৯৯কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন আছে।এটা পাশ হলেই আমরা কাজ শুরু হবে।কিছু কিছু যায়গা আছে যে গুলো ভেঙ্গে গিয়েছে।আমি বলেছি এখন কাজ করার প্রয়োজন নেই।পানি কমলে পরে আমাদের ডিজাইন এর লোক আসবে।আমরা নদীর আরো ভিতর থেকে কাজ করবো।তবে বালু উত্তলন বন্ধ করতে হবে।দুর্নীতি আমাদের রন্দে রন্দে। আমরা এস্টা টাকা দেখলে আমাদের হুস থাকে না।বঙ্গবন্ধুও বলছে যে পাকিস্তানীরা সব নিয়ে গেছে কিন্তু চোর রেখে গেছে এই চোরদের কেন নিয়ে যায়নি।চোরদের বংশধরা এখন আরো বড় চোর হয়ে গেছে।এখনতো আবার শিক্ষিত চোর হয়ে গেছে।কিন্তু আপনারা বলেন আপনাদের এখানে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন হয় কেন? আমরা যদি ১৬কোটি টাকার প্রকল্প নেই ৩বছরও টিকবে না ভেঙ্গে যাবে।

এ সময় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি সালমা চৌধুরী রুমা, পানি উন্নয়ন জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম, পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান, রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল আহাদ, সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও আওয়ামীলীগের নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন শেষে রাজবাড়ীর কালুখালি নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন শেষে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন মন্ত্রী।

এর আগেও (৯ আগস্ট) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একে এম এনামুল হক শামীম সদর উপজেলার বরাট ও মিজানপুর ইউনিয়নের গোদারবাজার এলাকার শহর রক্ষা বাঁধের সুরক্ষার জন্য ব্লক দিয়ে স্থায়ীভাবে পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ধসে যাওয়া অংশ পরিদর্শন করেছিলেন।

মন্ত্রী যাওয়ার পরপরই ঠিকাদার ও ইটভাটার মালিক বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পরেন।এসময় রাজবাড়ী ১আসনের সংসদ সদস্য প্রথমেই ধাক্কা দেন ইট ভাটা মালিককে। এর পরেই এমপির ছোট ভাই ঠিকাদার টিটু কাজী ইট ভাটার মালিক আলামিনকে কিল ঘুষি লাথি মারা শুরু করেন।

Share This Post